Image

শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ভাঙতে পারবেন কোহলি?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ভাঙতে পারবেন কোহলি?

শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ভাঙতে পারবেন কোহলি?

শচীনের ১০০ সেঞ্চুরির রেকর্ড কি ভাঙতে পারবেন কোহলি?

খেলোয়াড়টির নাম বিরাট কোহলি বলেই শচীন টেন্ডুলকারের ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা নিয়ে এত আলোচনা। অন্য কেউ হলে হয়তো ১০০-তে পৌঁছানোর প্রশ্নটাই এতটা আলোচিত হতো না। কিন্তু কোহলির আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এখন ৮৬টি—আর তাই শচীনের রেকর্ড থেকে তিনি মাত্র ১৪টি সেঞ্চুরি দূরে।

৩৭ বছর বয়সী কোহলি এখন শুধু ওয়ানডে খেলছেন। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে। ২০২৭ বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে তিনি নিজের আগ্রহও স্পষ্ট করেছেন।

তাহলে প্রশ্নটা স্বাভাবিক—বাকি সময়ে আরও ১৫টি সেঞ্চুরি করে শচীনের ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিকে ছাড়িয়ে যাওয়া কি সম্ভব?

দরকার আরও ১৫ সেঞ্চুরি

শচীনের ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ছুঁতে কোহলির দরকার আরও ১৪টি শতক। আর রেকর্ড ভাঙতে হলে করতে হবে ১৫টি।

এখন কোহলির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মূল মঞ্চ শুধু ওয়ানডে। ফলে হিসাবটা করতে হবে তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ার ও সামনে থাকা ম্যাচগুলো ধরে।

২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ১৩৫ রান করে কোহলি তাঁর ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৬-তে।

শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলি

ওয়ানডের হিসাবেই কিছুটা আশার আলো

কোহলির ৫৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি এসেছে ৩০০-এর বেশি ইনিংসে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সামগ্রিক সেঞ্চুরি-হারের তুলনায় ওয়ানডেতে তাঁর শতক করার হার বেশি।

তবে ১৫টি সেঞ্চুরি করতে যে পরিমাণ ইনিংস প্রয়োজন হবে, সেটিই বড় চ্যালেঞ্জ। এমনকি ক্যারিয়ারের ওয়ানডে গড় সেঞ্চুরি-হারের কাছাকাছি থাকলেও সংখ্যাটি বেশ বড়।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কোহলির ব্যাটে সেঞ্চুরির গতি বেড়েছে। ২০২৬ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তিনি দুর্দান্ত শতক পেয়েছেন। কিন্তু কয়েকটি ইনিংসের ওপর ভিত্তি করে পুরো ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরি-হার অনুমান করা ঝুঁকিপূর্ণ।

হাতে আসলে কত ম্যাচ?

এখানেই হিসাবটি আরও আকর্ষণীয়।

বর্তমান নিশ্চিত সূচি অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলমান তিন ওয়ানডের পর ভারতের সামনে রয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচটি ওয়ানডে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে। অর্থাৎ ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সূচিতেই আরও ১৪টি ওয়ানডে রয়েছে।

এর সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্ট যোগ হতে পারে। ফলে ‘বিশ্বকাপের আগে মাত্র ১৩টি ম্যাচ’—এই হিসাবটি বর্তমান সূচির সঙ্গে আর মেলে না।

এরপর ২০২৭ বিশ্বকাপ। এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটও আগের চেয়ে আলাদা। ১৪ দল নিয়ে নতুন কাঠামোর এই টুর্নামেন্টে একাধিক ধাপ পেরিয়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে। ভারতের মতো দল প্রথম ধাপ থেকে সরাসরি পরের পর্যায়ে গেলে এবং শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেললে একাধিক ম্যাচ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তাহলে ১০০ কি বাস্তবসম্মত?

এখানে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার চেয়ে সংখ্যাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কোহলির সামনে যদি ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত প্রায় ১৪টি নিশ্চিত দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে থাকে এবং বিশ্বকাপে দল যত দূর যাবে তার ওপর আরও ম্যাচ যোগ হয়, তাহলে মোট সুযোগ ৩০টির কাছাকাছি বা তার বেশি হতে পারে—তবে সেটি নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সূচি, নির্বাচকদের পরিকল্পনা, কোহলির অংশগ্রহণ এবং বিশ্বকাপে ভারতের অগ্রগতির ওপর।

অন্যদিকে, রেকর্ড ভাঙতে প্রয়োজন ১৫টি সেঞ্চুরি। অর্থাৎ হাতে থাকা সীমিত ম্যাচে তাঁকে নিজের ক্যারিয়ার-গড়ের তুলনায় অনেক বেশি হারে শতক করতে হবে।

তাই শচীনের ১০০ আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার পথ কোহলির জন্য যে কঠিন, সেটি সংখ্যাতেই স্পষ্ট। কিন্তু ৩৭ বছর বয়সেও তিনি যে ওয়ানডেতে এখনও বড় ইনিংস খেলতে পারেন, তার সাম্প্রতিক উদাহরণই রয়েছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৫ রানের ইনিংস।

শেষ পর্যন্ত সমীকরণটা দাঁড়াচ্ছে এমন: ৮৬ থেকে ১০১—আরও ১৫টি সেঞ্চুরি। সময় সীমিত, সুযোগও সীমিত। কিন্তু সেই সীমিত সুযোগে কোহলি

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three