ইন্টার মায়ামির ইতিহাস: মেসির আগে ও পরে, ট্রফি ও রেকর্ড
- 1
রিয়ালকে নাৎসি প্রচারণার সঙ্গে তুলনা: তেবাসের বিরুদ্ধে স্পোর্টস ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
- 2
হাসপাতালে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা, যন্ত্রণায় কাতর ৮৬ বছরের জোয়ান
- 3
নিরাপত্তাজনিত কারণে পিএসজি-লিওঁ ম্যাচ স্থগিত, নতুন সূচি ২৬ অক্টোবর
- 4
হ্যালোইনে স্টারবাকসের নতুন ‘ব্ল্যাক ক্যাট ফ্রাপুচিনো’ ও ‘ব্ল্যাক নাইট কুকি’
- 5
সালমান খানই কি ছিলেন প্রথম লক্ষ্য? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন তথ্য

ইন্টার মায়ামির ইতিহাস: মেসির আগে ও পরে, ট্রফি ও রেকর্ড
ইন্টার মায়ামির ইতিহাস: মেসির আগে ও পরে, ট্রফি ও রেকর্ড
একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নতুন একটি ক্লাব হিসেবে পরিচিত ছিল ইন্টার মায়ামি। ২০২০ সালে মেজর লিগ সকারে (MLS) যাত্রা শুরু করা দলটির সামনে তখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দল গড়া এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করা। কিন্তু লিওনেল মেসির আগমনের পর বদলে যায় ক্লাবটির পরিচিতি, পারফরম্যান্স ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা।
২০২৩ সালে মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাবটি জেতে প্রথম বড় ট্রফি Leagues Cup। এরপর আসে Supporters’ Shield, Eastern Conference শিরোপা, MLS Cup এবং ২০২৬ সালের Campeones Cup। অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টার মায়ামি যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের আলোচিত ক্লাবগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
তবে এই সাফল্যের গল্প বুঝতে হলে ফিরে দেখতে হবে মেসির আগের ইন্টার মায়ামিকে—যে দলটির শুরু হয়েছিল বড় স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু প্রথম কয়েকটি মৌসুমে সাফল্য পেতে লড়াই করতে হয়েছিল।
ইন্টার মায়ামির প্রতিষ্ঠা ও শুরুর ইতিহাস
ইন্টার মায়ামির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি। মেজর লিগ সকারের ২৫তম ক্লাব হিসেবে দলটিকে ঘোষণা করা হয়েছিল, যদিও মাঠের খেলায় নামতে অপেক্ষা করতে হয় ২০২০ সাল পর্যন্ত।
ক্লাবটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ও মালিক ডেভিড বেকহ্যাম। খেলোয়াড়ি জীবনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রেয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির মতো ক্লাবে খেলা এই ইংলিশ কিংবদন্তির লক্ষ্য ছিল মায়ামিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ক্লাব গড়ে তোলা।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ক্লাবটির নাম, লোগো ও রং প্রকাশ করা হয়। ‘Club Internacional de Fútbol Miami’ নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিতি পায় Inter Miami CF। ক্লাবটির গোলাপি ও কালো রং এবং দুটি বকের নকশা দ্রুতই তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
২০২০ সালের ১ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির বিপক্ষে MLS-এ প্রথম ম্যাচ খেলে ইন্টার মায়ামি। অভিষেক ম্যাচে ১–০ গোলে হারলেও সেটি ছিল ক্লাবটির নতুন যাত্রার সূচনা।
মেসির আগে ইন্টার মায়ামি: সংগ্রাম ও পুনর্গঠনের সময়
২০২০ থেকে ২০২২—প্রথম তিনটি মৌসুমে ইন্টার মায়ামিকে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে লড়াই করতে হয়। নতুন ক্লাব হিসেবে খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়, দলের ধারাবাহিকতা এবং লিগের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রথম মৌসুমেই প্লে-অফে ওঠার কাছাকাছি গেলেও দলটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ২০২১ মৌসুমেও তাদের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব ছিল। পরের বছর ফিল নেভিলের অধীনে ইন্টার মায়ামি প্রথমবারের মতো প্লে-অফে জায়গা করে নেয়। তবে প্রথম রাউন্ডেই নিউইয়র্ক সিটি এফসির কাছে বিদায় নিতে হয় তাদের।
২০২৩ মৌসুমের শুরুতেও পরিস্থিতি ভালো ছিল না। লিগে দলটির ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছিল না এবং প্লে-অফে ওঠার সম্ভাবনাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। জুনে জেরার্দো ‘তাতা’ মার্তিনো কোচের দায়িত্ব নেন। কিন্তু শুধু কোচ পরিবর্তনেই ক্লাবের ভাগ্য বদলায়নি—পরবর্তী সময়ে মেসি ও তাঁর সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থদের আগমন হয়ে ওঠে বড় মোড়।
মেসির আগ পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির প্রথম দলের ট্রফি ক্যাবিনেটে কোনো বড় শিরোপা ছিল না। ফলে ২০২৩ সালের গ্রীষ্মের আগে তাদের পরিচয় ছিল মূলত একটি নতুন MLS ক্লাবের, যার সামনে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন।
২০২৩: লিওনেল মেসির আগমন
২০২৩ সালের ১৫ জুলাই ইন্টার মায়ামি আনুষ্ঠানিকভাবে লিওনেল মেসির সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয়। প্যারিস সাঁ-জেরমাঁ ছাড়ার পর আর্জেন্টাইন মহাতারকা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে নতুন অধ্যায় শুরু করেন।
মেসির আগমন শুধু খেলোয়াড় কেনার ঘটনা ছিল না। তাঁর সঙ্গে ক্লাবটির বৈশ্বিক পরিচিতি, সমর্থকদের আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়তে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ইন্টার মায়ামির ম্যাচ দেখতে শুরু করেন।
মেসির পাশাপাশি তাঁর সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবাও দলে যোগ দেন। কোচ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তাতা মার্তিনো, যিনি আগে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ ছিলেন।
এই নতুন দলকে ঘিরে প্রত্যাশা দ্রুত বাড়ে। মেসি মাঠে নামার পর ক্লাবটির খেলার ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়। আক্রমণ সাজানো, সেটপিস, পাসিং এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
প্রথম ট্রফি: ২০২৩ সালের Leagues Cup
মেসির ইন্টার মায়ামি অধ্যায়ের সবচেয়ে স্মরণীয় সূচনাগুলোর একটি আসে Leagues Cup-এ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিযোগিতাটিতে মেসির অভিষেক হয় ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে।
ম্যাচের শেষ দিকে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে মেসি ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দেন। এরপর একের পর এক ম্যাচে গোল করে দলটিকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি।
১৯ আগস্ট ২০২৩ ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ গোলে শেষ হয়। মেসি প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পরে টাইব্রেকারে ১০–৯ ব্যবধানে জিতে Leagues Cup চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্টার মায়ামি।
এটি ছিল ক্লাবটির প্রথম আনুষ্ঠানিক ট্রফি। মেসি প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কারও জেতেন। <Cite refs={["turn242263search0","turn242263search7"]}/>
এই শিরোপা ইন্টার মায়ামির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু করে। মেসি যোগ দেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দলটি ট্রফি জেতে—যা ক্লাবটির আগের মৌসুমগুলোর সঙ্গে বড় পার্থক্য তৈরি করে।
২০২৪: Supporters’ Shield ও ঐতিহাসিক MLS মৌসুম
২০২৪ সালে ইন্টার মায়ামি আরও ধারাবাহিক হয়ে ওঠে। মেসির পাশাপাশি লুইস সুয়ারেজ, বুসকেতস ও আলবার অভিজ্ঞতা দলটির শক্তি বাড়ায়। নিয়মিত মৌসুমে গোল, পয়েন্ট ও জয়ের ক্ষেত্রে ক্লাবটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
২ অক্টোবর ২০২৪ কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ৩–২ গোলের জয়ে প্রথমবার Supporters’ Shield নিশ্চিত করে ইন্টার মায়ামি। MLS-এর নিয়মিত মৌসুমে সবচেয়ে ভালো সামগ্রিক রেকর্ড করা দলকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ম্যাচটিতে মেসি দুটি গোল করেন এবং সুয়ারেজও গোলের খাতায় নাম লেখান। ওই মৌসুমে ইন্টার মায়ামি নিয়মিত মৌসুম শেষ করে ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে, যা MLS-এর ৩৪ ম্যাচের নিয়মিত মৌসুমে নতুন পয়েন্ট রেকর্ড গড়ে।
ক্লাবটি ২০২৪ সালে প্লে-অফে প্রথমবারের মতো শীর্ষ বাছাইয়ের সুবিধা পেলেও MLS Cup জিততে পারেনি। আটলান্টা ইউনাইটেডের কাছে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে তারা। তবু নিয়মিত মৌসুমের সাফল্য ছিল ক্লাবটির ইতিহাসে বড় মাইলফলক। <Cite refs={["turn242263search2","turn242263search8"]}/>
২০২৫: Eastern Conference চ্যাম্পিয়ন ও প্রথম MLS Cup
২০২৫ মৌসুমে ইন্টার মায়ামির সামনে লক্ষ্য ছিল নিয়মিত মৌসুমের সাফল্যকে প্লে-অফের ট্রফিতে রূপ দেওয়া। সেই যাত্রায় মেসির পাশাপাশি দলের অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
২৯ নভেম্বর ২০২৫ নিউইয়র্ক সিটি এফসিকে ৫–১ গোলে হারিয়ে Eastern Conference চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্টার মায়ামি। তাদেও আলেন্দে হ্যাটট্রিক করেন; গোল করেন মাতেও সিলভেত্তি ও তেলাস্কো সেগোভিয়াও। এই জয়ের মাধ্যমে প্রথমবার MLS Cup ফাইনালে ওঠে দলটি।
৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবার MLS Cup জেতে ইন্টার মায়ামি। রদ্রিগো দে পল ও তাদেও আলেন্দের গোলের পাশাপাশি একটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান গড়ে দেয়। মেসি ফাইনালে দুটি গোলে সহায়তা করেন এবং টুর্নামেন্টের MVP নির্বাচিত হন।
এই সাফল্য ছিল মেসির পর ইন্টার মায়ামির অগ্রযাত্রার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। Leagues Cup ও Supporters’ Shield জয়ের পর এবার তারা MLS-এর মূল চ্যাম্পিয়নশিপও জিতে নেয়। <Cite refs={["turn242263search0","turn242263search1"]}/>
২০২৬: নতুন অধ্যায় ও আরও একটি ট্রফি
২০২৬ সালে ইন্টার মায়ামির লক্ষ্য ছিল নিজেদের সাফল্য ধরে রাখা এবং উত্তর আমেরিকার ফুটবলে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা। ক্লাবটির জন্য বছরটি ছিল নতুন অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক উচ্চাকাঙ্ক্ষারও সময়।
MLS-এর বাইরের প্রতিযোগিতাতেও নিজেদের প্রভাব বাড়ায় দলটি। ২০২৬ সালের Campeones Cup জিতে ইন্টার মায়ামি তাদের ট্রফির তালিকায় আরেকটি শিরোপা যোগ করে। MLS Cup ও Supporters’ Shield-এর পর এই সাফল্য দেখায়, ক্লাবটি শুধু একটি মৌসুমের সাফল্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। <Cite refs={["turn242263search11"]}/>
২০২৫ সালের অক্টোবরে মেসির চুক্তি ২০২৮ MLS মৌসুম পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণাও দেয় ক্লাবটি। এতে মেসিকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। <Cite refs={["turn242263search0"]}/>
ইন্টার মায়ামির ট্রফি ও প্রধান সাফল্য
২০২৬ সালের Campeones Cup-সহ ক্লাবটির উল্লেখযোগ্য প্রথম দলের ট্রফিগুলো হলো:
| বছর | ট্রফি | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| ২০২৩ | Leagues Cup | ক্লাবের প্রথম আনুষ্ঠানিক ট্রফি |
| ২০২৪ | MLS Supporters’ Shield | নিয়মিত মৌসুমে লিগের সেরা সামগ্রিক রেকর্ড |
| ২০২৫ | Eastern Conference Championship | প্রথমবার MLS Cup ফাইনালে ওঠার পথে শিরোপা |
| ২০২৫ | MLS Cup | ক্লাবের প্রথম MLS চ্যাম্পিয়নশিপ |
| ২০২৬ | Campeones Cup | আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরেকটি ট্রফি |
প্রতিযোগিতার ধরন অনুযায়ী এই শিরোপাগুলোর গুরুত্ব আলাদা। Supporters’ Shield নিয়মিত মৌসুমের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেয়, আর MLS Cup হলো MLS-এর প্লে-অফের চূড়ান্ত শিরোপা।
মেসির আগে ও পরে: কী বদলে গেল?
মেসির আগে: ইন্টার মায়ামি ছিল নতুন MLS ক্লাব। প্রথম কয়েকটি মৌসুমে ধারাবাহিকতা ও প্লে-অফে সাফল্য অর্জন ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২২ সালে প্রথমবার প্লে-অফে উঠলেও দলটি দ্রুত বিদায় নেয়। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের কোনো বড় ট্রফি ছিল না।
মেসির পরে: ক্লাবটি ২০২৩ সালে প্রথম Leagues Cup জেতে, ২০২৪ সালে Supporters’ Shield অর্জন করে এবং ২০২৫ সালে Eastern Conference শিরোপার পাশাপাশি MLS Cup জেতে। ২০২৬ সালে Campeones Cup জয়ের মাধ্যমে ট্রফির তালিকা আরও সমৃদ্ধ হয়। মেসির সঙ্গে সুয়ারেজ, বুসকেতস ও আলবার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি দলটির প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়ায়।
তবে সব পরিবর্তনকে শুধু একজন খেলোয়াড়ের কৃতিত্ব বলা ঠিক হবে না। কোচিং, দল গঠন, সতীর্থদের অবদান, মালিকানা ও ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও এই সাফল্যের অংশ।
ইন্টার মায়ামির প্রধান তারকারা
লিওনেল মেসি: ক্লাবটির নতুন যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখ। মাঠে গোল ও অ্যাসিস্টের পাশাপাশি নেতৃত্ব এবং বিশ্বব্যাপী আগ্রহ তৈরিতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
লুইস সুয়ারেজ: বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ। গোল করার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ইন্টার মায়ামির আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করেছে।
সার্জিও বুসকেতস: মাঝমাঠে পাসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং খেলার গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
জর্দি আলবা: আক্রমণে ওভারল্যাপ, মেসির সঙ্গে বোঝাপড়া এবং বাম দিক দিয়ে সুযোগ তৈরিতে অবদান রেখেছেন।
ড্রেক ক্যালেন্ডার: গোলরক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেভ এবং ২০২৩ সালের Leagues Cup ফাইনালের টাইব্রেকারে তাঁর অবদান ক্লাবের প্রথম ট্রফি জয়ে স্মরণীয়।
তাদেও আলেন্দে: ২০২৫ সালের Eastern Conference ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে MLS Cup-এর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
মেসির ব্যক্তিগত অর্জন ও ক্লাবের রেকর্ড
ইন্টার মায়ামিতে মেসির প্রভাব শুধু ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৪ সালে তিনি MLS-এর Most Valuable Player (MVP) হন। ২০২৫ সালে আবারও একই পুরস্কার জিতে লিগের ইতিহাসে টানা দুই মৌসুমে MVP হওয়া প্রথম খেলোয়াড় হন। ২০২৫ সালের MLS নিয়মিত মৌসুমে ২৯ গোল করে Golden Boot-ও জেতেন। <Cite refs={["turn242263search1","turn242263search11"]}/>
২০২৬ সালে ইন্টার মায়ামির হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও স্পর্শ করেন মেসি। এটি ক্লাবটির হয়ে তাঁর ধারাবাহিক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানগত মাইলফলক। <Cite refs={["turn242263search1"]}/>
উপসংহার: নতুন ক্লাব থেকে শিরোপাপ্রত্যাশী শক্তি
ইন্টার মায়ামির ইতিহাস তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এর গতিপথ নাটকীয়। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা, ২০২০ সালে MLS-এ অভিষেক, মেসির আগের সংগ্রাম এবং ২০২৩ সালের পর ধারাবাহিক ট্রফি জয়—প্রতিটি ধাপ ক্লাবটির বিকাশের আলাদা অধ্যায়।
মেসির আগমন ইন্টার মায়ামিকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। তাঁর নেতৃত্বে ক্লাবটি প্রথম Leagues Cup জেতে, পরে Supporters’ Shield, Eastern Conference শিরোপা, MLS Cup এবং Campeones Cup অর্জন করে। তবে ভবিষ্যতের সাফল্য নির্ভর করবে দল গঠন, নতুন প্রতিভা তৈরি, কোচিং এবং দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতার ওপর।
ইন্টার মায়ামির গল্প তাই শুধু মেসির আগমনের গল্প নয়; এটি একটি নতুন ক্লাবের প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে পরিণত হওয়ার ইতিহাস।













