ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি, জয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ
- 1
স্টার্কের বলে ২ রান, দারুণ ফিফটিতে মিরাজ—বাংলাদেশের লিড ২০০ পার!
- 2
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
- 3
দুয়োর জবাব মাঠেই দিলেন নেইমার, ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিলেন সমর্থকদের ওপর
- 4
শিরোপা জয়ের হুঙ্কার এমবাপের, ‘এবার রিয়ালকে জিততেই হবে’
- 5
অস্ট্রেলিয়া বোলারদের হতাশা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল, স্টার্ক পর্যন্ত মেজাজ হারিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন বাদানুবাদে

ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি, জয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ
ডারউইনে ইতিহাসের হাতছানি, জয়ের স্বপ্নে বাংলাদেশ
ডারউইন টেস্টে ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেটে ১৬১ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে স্বাগতিকদের আরও ৬৭ রান করতে হবে, হাতে আছে ৬ উইকেট। অর্থাৎ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে।
দিনের শুরুতে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিনের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হাসান মাহমুদ বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দিনের চতুর্থ ওভারে জশ হেইজেলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৪ রানে ফেরেন তিনি। তবে ৯২ বল খেলে ১৬৩ মিনিট ক্রিজে থেকে মিরাজের সঙ্গে ১৭০ বলে ৪৬ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন হাসান।
এরপর তাইজুল ইসলাম ১৭ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। হেইজেলউডের বলে তাঁর দারুণ ফ্লিক শটে আসে চোখধাঁধানো ছক্কা।
তবে বাংলাদেশের ইনিংসের আসল নায়ক ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাতে নেমে লোয়ার অর্ডারদের সঙ্গে অসাধারণ লড়াই করে ১৫৪ বলে ৬৫ রানের অমূল্য ইনিংস খেলেন তিনি। তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নবম উইকেটে গড়েন ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে স্ট্রাইক বদল, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং—সব মিলিয়ে দারুণ পরিণত ইনিংস উপহার দেন মিরাজ।
লাঞ্চের আগে তাসকিনের সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন স্টিভ স্মিথ, আর মিরাজের কঠিন ক্যাচ নিতে পারেননি ট্রাভিস হেড। লাঞ্চের শেষ বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের দাপট আরও স্পষ্ট করেন মিরাজ।
লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই থামে তাঁর লড়াই। হেইজেলউডের বলে ৬৫ রানে ফেরেন তিনি। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকের আরও কাছে পৌঁছে যান অস্ট্রেলিয়ান পেসার।
শেষ ব্যাটসম্যান ইবাদত হোসেন চৌধুরি ন্যাথান লায়নকে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে গ্যালারিতে পাঠালেও শেষ পর্যন্ত হেইজেলউডের বলেই তাঁর বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের বিশাল লিড।
অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসও শুরু হয় বিপর্যয়ে। হাসান মাহমুদের প্রথম ওভারেই জেইক ওয়েদেররাল্ড কাট করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে এনে শূন্য রানে ফেরেন। এরপর বিপজ্জনক ট্রাভিস হেডকেও একইভাবে বিদায় করেন হাসান।
মার্নাস লাবুশেন কিছুটা স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। স্টিভ স্মিথও ছিলেন ভালো ছন্দে। কিন্তু তাদের সেই জুটি বেশিদূর এগোতে দেননি তাইজুল ইসলাম। বৈচিত্র্যময় গতি ও আক্রমণাত্মক লেংথে লাবুশেনকে বোল্ড করেন তিনি ৩১ রানে।
এরপর স্মিথ ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হওয়ায় জুটিটিও দ্রুত জমে ওঠে। তবে মিরাজের বোলিংয়ে আটকে পড়েন স্মিথ। শেষ পর্যন্ত মনোযোগ হারিয়ে আলগা শটে মিরাজের হাতেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৪৪ রানে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার।
গ্রিন ও অ্যালেক্স কেয়ারি এরপর প্রায় ১৬ ওভার নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে তখনও বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ স্বীকৃত ব্যাটারদের পরেই রয়েছে তাদের লোয়ার অর্ডার। দেশের মাটিতে এত বড় লিড পুষিয়ে টেস্ট জেতার নজিরও নেই অস্ট্রেলিয়ার।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের বোলাররা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন।
তৃতীয় দিনটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য পুরোপুরি হতাশার হলেও জশ হেইজেলউডের ব্যক্তিগত অর্জন ছিল বিশেষ। ১৩ মাস পর টেস্টে ফিরে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছেন। তাঁর পঞ্চম উইকেটটি ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০০তম। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
এই টেস্টে আরও একটি বিরল রেকর্ড তৈরি হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়াই এখন একমাত্র দল, যাদের একাদশে ৩০০ বা তার বেশি টেস্ট উইকেট নেওয়া চারজন বোলার রয়েছে। এমন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স তাই আরও বেশি প্রশংসার দাবি রাখে।
তিন দিন ধরে ম্যাচে দাপট দেখানোর পর এখন জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সামনে ইনিংস পরাজয় এড়ানোর জন্য প্রয়োজন আরও ৬৭ রান, হাতে ৬ উইকেট।
পথ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। তবে এই মুহূর্তে শঙ্কার চেয়ে সম্ভাবনার পাল্লাই ভারী। ডারউইনে বাংলাদেশ এখন সত্যিই ইতিহাসের খুব কাছে।













