নাহিদকে আগে খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক
- 1
নাহিদকে আগে খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক
- 2
এলপিএলে তাওহিদ হৃদয়ের ৮ বলে ৩১ রানের বিধ্বংসী ঝড়ে কলম্বোকে উড়িয়ে দিল জাফনা কিংস
- 3
প্রথম জোড়াটাই নিউজ হেডলাইন হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রফেশনাল ও ক্যাচি হবে।
- 4
সিলসের আগুনঝরা বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে গেল পাকিস্তান, ৯০ রানের দাপুটে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের
- 5
ইতিহাস গড়লেন ফায়েজ উল্লাহ সিহাব, কাতার জাতীয় ক্রিকেট দলে প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশি

নাহিদকে আগে খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক
নাহিদকে আগে খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করলেন প্রধান নির্বাচক
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদকে খেলানো জরুরি ছিল, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধান নির্বাচক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে নাহিদ রানাকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে চোট পাওয়ায় সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লাগে, ছিটকে যান বহু প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে—এত গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে কেন নাহিদকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলানো হলো? সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।
বাংলাদেশ ২০ বছরের বেশি সময় পর অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। তবে সফরের আগেই চোটের কারণে নাহিদ রানা ও লিটন দাসকে হারিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছে দল।
হাবিবুল বাশার জানান, এখন পেসারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে। জিপিএস ট্র্যাকার দিয়ে খেলোয়াড়দের প্রতিটি নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই নির্ধারণ করা হয় কে কত ম্যাচ খেলবে।
তিনি বলেন, “নাহিদ রানার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন শুধু আলোচনার বিষয় নয়। জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে আমরা খেলোয়াড়দের প্রতিটি মুভমেন্ট পর্যবেক্ষণ করি। সেই ডেটার ভিত্তিতেই ঠিক করা হয় একটি সিরিজে কে কত ম্যাচ খেলবে। এই প্রক্রিয়া শুধু নাহিদের জন্য নয়, তাসকিনসহ সব পেসারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”
প্রধান নির্বাচক আরও জানান, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে নাহিদের খেলার সূচি ছিল পরিকল্পিত। তিনি ওয়ার্কলোড অনুযায়ী টেস্ট খেলার জন্যও ফিট ছিলেন। এমনকি ফিজিওর রিপোর্টেও তিনি এবং নিয়মিত পেসাররা পুরোপুরি ফিট ছিলেন। তবু অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবে ঘরের মাঠের টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।
জিম্বাবুয়ে সিরিজে নাহিদকে খেলানো নিয়ে সমালোচনার জবাবে বাশার বলেন, দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও চোটের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ম্যাচ রিদম ধরে রাখতে তাকে খেলানো জরুরি ছিল।
“অনেকে ভাবতে পারেন তাকে বিশ্রাম দেওয়া যেত। কিন্তু ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের একটি প্রযুক্তিগত দিক রয়েছে। নাহিদ ওয়ানডেতে ভালো অবস্থায় ছিল এবং তিন ম্যাচের মধ্যে দুটি খেলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে সে ব্যথা অনুভব করে,” বলেন তিনি।
বাশার জানান, দলের ওয়ার্কলোড সিস্টেমে পেসারদের তিনটি জোনে ভাগ করা হয়—রেড, ইয়েলো ও গ্রিন। অতিরিক্ত বল করলে বোলার রেড জোনে চলে যায় এবং চোটের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার খুব কম বল করলেও ঝুঁকি থাকে। তাই টেস্টের জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডেলিভারি করে গ্রিন জোনে থাকা জরুরি।
তার ভাষায়, “সহজ করে বললে, পেসারকে দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা তার জন্য ভালো নয়। তাকে একটি নির্দিষ্ট বোলিং রিদমে থাকতে হয়। সেই কারণেই নাহিদকে খেলানো হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে চোট পেয়েছে, তবে এই চোট অস্ট্রেলিয়াতেও হতে পারত।”
শেষে প্রধান নির্বাচক স্বীকার করেন, সব ধরনের সতর্কতা নেওয়ার পরও পেসারদের পুরোপুরি চোটমুক্ত রাখা কঠিন। বিসিবি নাহিদের জন্য বিশেষ যত্ন ও কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করছে, তবে চোটের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়।




