Image

এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 16 মিনিট আগে
এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর

এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর

এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ প্রশ্নের উত্তর

আগামীকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। লা লিগায় ৯ ম্যাচে পূর্ণ ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সা। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রিয়াল। ফলে মাদ্রিদের দলটি হেরে গেলে দুই দলের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৯ পয়েন্টে।

হান্সি ফ্লিকের সামনে তাই প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনেকটা পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের সামনে শিরোপার দৌড়ে বড় ধাক্কা এড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

এমন এক ম্যাচের আগে ফুটবল বিশ্বে আলোচনায় রয়েছে পাঁচটি বড় প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তরই হয়তো ঠিক করে দিতে পারে এবারের এল ক্লাসিকোর গতিপথ।

মরিনিওর পুরোনো রূপ কি ফিরবে?

ফুটবল কখনো কখনো অদ্ভুত বৃত্ত তৈরি করে। একসময় বার্সেলোনার সহকারী কোচ ছিলেন জোসে মরিনিও। পরে প্রধান কোচ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়ে সেই বার্সেলোনারই অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন তিনি।

২০১১ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপের সেই বিতর্কিত দৃশ্য এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে আছে। বার্সেলোনার তৎকালীন সহকারী কোচ তিতো ভিলানোভার চোখে আঙুল দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মরিনিও।

বয়সের সঙ্গে হয়তো অনেকটাই বদলেছে তাঁর আচরণ। কিন্তু এল ক্লাসিকোর মতো ম্যাচে মরিনিওর পুরোনো আগ্রাসী মানসিকতা কি আবার দেখা যাবে?

রিয়াল মাদ্রিদের প্রথম মেয়াদে ১৭টি এল ক্লাসিকোয় মরিনিওর রেকর্ড ছিল ৫ জয়, ৬ ড্র ও ৬ হার। ২০১৩ সালে ক্লাব ছাড়ার আগে টানা পাঁচটি ক্লাসিকোতে অপরাজিতও ছিলেন তিনি। এবার সেই ধারাকে ছয় ম্যাচে নেওয়ার সুযোগ তাঁর সামনে।

রিয়ালের কোচ হিসেবে টানা ছয় এল ক্লাসিকোয় অপরাজিত থাকার কীর্তি এর আগে করেছেন মিগুয়েল মুনোজ ও ভিসেন্তে দেল বস্ক।

অন্যদিকে, এল ক্লাসিকোয় হান্সি ফ্লিকের রেকর্ড আরও নজরকাড়া—সাত ম্যাচে ছয় জয়।

তাই দুই কোচের লড়াই কেবল কৌশলের নয়; তাঁদের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব ও ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতারও পরীক্ষা।

রাফিনিয়ার পায়ে কি জয়ের চাবি?

পরিসংখ্যান কখনো কখনো ফুটবলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়। রাফিনিয়ার ক্ষেত্রে সেই পরিসংখ্যান বার্সেলোনার জন্য আশাব্যঞ্জক।

ব্রাজিলিয়ান তারকা খেলেছেন, এমন সর্বশেষ ছয়টি এল ক্লাসিকোর সবকটিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। ওই ম্যাচগুলোতে রাফিনিয়া করেছেন ৭ গোল এবং ৩টি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ রিয়ালের বিপক্ষে মাঠে নামলেই যেন অন্য এক রাফিনিয়াকে দেখা যায়।

চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই ফরোয়ার্ড। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে তাঁর গোল ১৪টি। লা লিগায় ৮ ম্যাচে ১২ গোল করে তিনি আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে।

চোট কাটিয়ে পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছেন রাফিনিয়া। ম্যাচটিতে বার্সেলোনা হারলেও সেই ফল তাঁর আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেনি। তিনি জানিয়েছেন, ওই হার এল ক্লাসিকোতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তাঁর সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় সেই আত্মবিশ্বাসের পেছনে যুক্তিও আছে। রাফিনিয়া যদি নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তাহলে রিয়ালের রক্ষণকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে।

ক্যাম্প ন্যু কি রিয়ালের দুঃস্বপ্ন হবে?

নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা যেন অপ্রতিরোধ্য। ঘরের মাঠে টানা ২৩ লিগ ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। গত মৌসুমে ক্যাম্প ন্যুতে লিগের ১৯ ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছিল বার্সা। চলতি মৌসুমেও প্রথম চারটি ঘরের ম্যাচ জিতেছে তারা।

এ মৌসুমে নিজেদের মাঠে পাঁচ ম্যাচে বার্সেলোনা করেছে ২২ গোল—ম্যাচপ্রতি চারটিরও বেশি।

অন্যদিকে, রিয়ালের অ্যাওয়ে ফর্মে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। সর্বশেষ চার লিগ অ্যাওয়ে ম্যাচে তারা জিতেছে দুটি এবং হেরেছে দুটি। রিয়ালের হার এসেছে রিয়াল বেতিস ও আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। জয় পেয়েছে এস্পানিওল ও এলচের বিপক্ষে।

তবে ইতিহাস রিয়ালের পক্ষেও কিছু কথা বলে। বার্সেলোনার মাঠে সর্বশেষ ছয় লিগ ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়েছে মাদ্রিদের দলটি। তার আগের ১৬ ম্যাচেও রিয়ালের জয় ছিল তিনটি।

অর্থাৎ ক্যাম্প ন্যু বার্সার শক্ত ঘাঁটি হলেও রিয়ালের কাছে সেটি একেবারে দুর্ভেদ্য নয়।

ভিনিসিয়ুসের অভাব কি টের পাবে রিয়াল?

বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সবসময়ই উদ্বেগের কারণ। নিষেধাজ্ঞার কারণে এই এল ক্লাসিকোয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদ।

তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড না থাকলেও রিয়ালের আক্রমণভাগে বিকল্পের অভাব নেই। তাঁর জায়গায় ইয়ান দিওমান্দে দায়িত্ব নিতে পারেন।

সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়ালের তিনটি গোলই এসেছে বাঁ প্রান্তের আক্রমণ থেকে। সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে দিওমান্দেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।

তবে এল ক্লাসিকোর চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভিনিসিয়ুসের গতি, ড্রিবলিং ও বড় ম্যাচে প্রভাব তৈরির ক্ষমতার জায়গা পূরণ করা সহজ হবে না। ফলে দিওমান্দের পারফরম্যান্সও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বার্সার রক্ষণ কি সত্যিই নিরাপদ?

আক্রমণে বার্সেলোনা যেন গোলের কারখানা। ১২ ম্যাচে করেছে ৫০ গোল। পিএসজির কাছে ৪–২ গোলে হারের আগে টানা ১১ ম্যাচ জিতেছিল তারা।

তবে প্যারিসের ক্লাবটি দেখিয়ে দিয়েছে, বার্সেলোনার এই আক্রমণাত্মক ফুটবলেরও কিছু দুর্বল জায়গা রয়েছে।

হান্সি ফ্লিকের হাই প্রেসিং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। লা লিগায় প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ৬.৮টি শট হজম করেছে বার্সেলোনা—এই পরিসংখ্যানে তারা সবার ওপরে।

কিন্তু বিপরীত ছবিটাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষের প্রতিটি শটের বিপরীতে প্রত্যাশিত গোল বা xG-এর মান লিগে বার্সার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ তারা খুব বেশি শটের সুযোগ না দিলেও প্রতিপক্ষ যখন সুযোগ পাচ্ছে, তখন সেই সুযোগ থেকে গোল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জুলস কুন্দের অনুপস্থিতি। চোটের কারণে এই ফরাসি ডিফেন্ডার নেই। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ইয়ান দিওমান্দের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা বার্সার রক্ষণে তৈরি হওয়া সামান্য ফাটলও কাজে লাগাতে পারেন কি না, সেটিই হবে ম্যাচের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

পাঁচ প্রশ্নের উত্তর মিলবে মাঠেই। আর সেই উত্তরই হয়তো ঠিক করে দেবে, এল ক্লাসিকোর পর লা লিগার শিরোপার দৌড় আরও জমবে, নাকি বার্সেলোনা নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করবে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three