৬১৮ কোটি টাকার ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে র্যাম্পে কাইলি জেনার, বিতর্কে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
- 1
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের যে সমীকরণ
- 2
বিশ্বকাপের স্বত্ব বিক্রি থেকে লাল কার্ড বিতর্ক: ইনফান্তিনোকে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, জবাবের সময় ২ নভেম্বর
- 3
বাভুমার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪২৫
- 4
৬৩ বছরে কেন কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি?
- 5
অন্ধকারে ফেরার কাউন্টডাউন: দ্রুতই এক ঘণ্টা পিছিয়ে যাচ্ছে ঘড়ি

৬১৮ কোটি টাকার ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে র্যাম্পে কাইলি জেনার, বিতর্কে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
৬১৮ কোটি টাকার ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে র্যাম্পে কাইলি জেনার, বিতর্কে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
আট বছর পর ফিরেছে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের আইকনিক ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’। এবার সেটি পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন মার্কিন তারকা কাইলি জেনার। হীরা ও ১৮ ক্যারেটের সাদা সোনায় তৈরি এই বিশেষ অন্তর্বাসের আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ডলার। তবে বিলাসবহুল এই প্রদর্শনীর পাশাপাশি কাইলিকে মডেল হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ফ্যাশন ও সৌন্দর্যপণ্যের ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শোতে ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরার সুযোগকে দীর্ঘদিন ধরে মডেলদের জন্য বিশেষ সম্মান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৬ সালে প্রথম এই বিশেষ অন্তর্বাস পরে র্যাম্পে হেঁটেছিলেন জার্মান সুপারমডেল ক্লদিয়া শিফার। পরবর্তী সময়ে আলেসান্দ্রা অ্যামব্রোসিও ও আদ্রিয়ানা লিমার মতো তারকারাও এটি পরেছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ফ্যান্টাসি ব্রা পরে দেখা গিয়েছিল মডেল এলসা হস্ককে।
আট বছর পর সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে এবার ফ্যান্টাসি ব্রার মডেল হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও প্রসাধনসামগ্রী ব্যবসায়ী কাইলি জেনারকে।

হীরা ও সোনায় তৈরি ৫ কোটি ডলারের অন্তর্বাস
এবারের ফ্যান্টাসি ব্রার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের সঙ্গে যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে বিলাসবহুল ঘড়ি ও গয়নার ব্র্যান্ড জ্যাকব অ্যান্ড কোং। নকশার দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নকশাকার জ্যাকব আরাবো।
জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের বিরল গয়নার সংগ্রহ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ অন্তর্বাস। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৮ ক্যারেটের সাদা সোনা ও ৪ হাজার ৪১০টি হীরা। হীরা ও সোনার সম্মিলিত ওজন ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৩৯ ক্যারেট। পুরো নকশায় রয়েছে ক্রিস্টালের কাজ এবং নিচের দিকে ঝুলে থাকা অলংকারি ঝালর।
এই ব্রায়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ৭৫ দশমিক ৫৪ ক্যারেটের বিরল, গাঢ় হলুদ রঙের একটি হীরা। ‘ফ্যান্সি ভিভিড ইয়েলো’ শ্রেণির এই হীরাটির মূল্যই প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭২ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
ব্রাটি তৈরিতে কাজ করেছেন ১৫ জন দক্ষ কারিগর। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তাঁদের এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। জ্যাকব অ্যান্ড কোংয়ের দাবি, এটিই এখন পর্যন্ত তৈরি তাদের সবচেয়ে মূল্যবান ফ্যান্টাসি ব্রা।
র্যাম্পে এই বিশেষ অন্তর্বাসের সঙ্গে কাইলি পরেছিলেন রুপালি থং, সাদা মিনিস্কার্ট ও স্বচ্ছ হিল। পিঠজুড়ে ছিল বড় সাদা পালকের ডানা। তাঁর সাজে ফুটে ওঠে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের পরিচিত জাঁকজমকপূর্ণ র্যাম্প-শৈলী।
কাইলিকে বেছে নেওয়া নিয়ে কেন বিতর্ক?
ফ্যান্টাসি ব্রার বিপুল মূল্য যেমন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি মডেল হিসেবে কাইলি জেনারকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তও তৈরি করেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কাইলির বিপুল জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব ব্র্যান্ডটির প্রচারে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অন্যদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাশন জগতে কাজ করা অভিজ্ঞ সুপারমডেলদের কাউকে এই সুযোগ দেওয়া হলো না কেন?
ব্রিটিশ সামাজিক মাধ্যম কৌশলবিদ, বিপণন বিশেষজ্ঞ ও কনটেন্ট নির্মাতা জোয়েল মারলিনারসনের মতে, কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সুপরিকল্পিত। বিবিসি নিউজবিটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্র্যান্ডগুলো এখন কেবল প্রচলিত মডেলিংয়ের মানদণ্ডের দিকে তাকাচ্ছে না; বরং কার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করা সম্ভব, সেটিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
মারলিনারসনের মতে, তরুণ দর্শকদের মধ্যে কাইলির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অনুসরণ করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। কার্ডাশিয়ান পরিবারের রিয়েলিটি শো দেখতে দেখতে বড় হওয়া একটি প্রজন্মের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ।
অন্যদিকে ফ্যাশন জগতের দীর্ঘদিনের অনুরাগীদের একাংশ মনে করেন, নাওমি ক্যাম্পবেলের মতো কিংবদন্তি সুপারমডেলদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য থেকে সরে আসছে ব্র্যান্ডটি। তাঁদের অভিযোগ, মডেলিংয়ের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কাইলি শুধু মডেল নন, প্রভাবশালী তারকাও
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের প্রধান সৃজনশীল কর্মকর্তা অ্যাডাম সেলম্যানের দৃষ্টিতে, কাইলি কেবল একজন ফ্যাশন তারকা নন; তিনি সংস্কৃতিতেও প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিত্ব। ফ্যাশন, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ব্র্যান্ডটির জন্য নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করে।
বর্তমান বিপণন জগতে তারকাদের জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা এবং সংবাদমাধ্যমে আলোচনার সম্ভাবনা ব্র্যান্ডগুলোর কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাইলিকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
তবে সমালোচকদের মতে, এমন সিদ্ধান্তের ফলে পেশাদার মডেলদের অবদান ও দক্ষতা আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্যান্টাসি ব্রাকে ঘিরে বিতর্ক তাই শুধু একটি পোশাক বা একজন তারকাকে নিয়ে নয়; বরং আধুনিক ফ্যাশনশিল্পে জনপ্রিয়তা ও পেশাগত দক্ষতার গুরুত্ব নিয়েও।

বিতর্কের মধ্যেই বদলে যাওয়া ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়া, যৌন বৈষম্য, সেকেলে উপস্থাপনা ও বৈচিত্র্যের অভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে ২০১৮ সালের পর ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ফ্যাশন শো বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ‘সব ধরনের নারীকে উদ্যাপন’ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে আবারও ফিরে আসে আয়োজনটি।
পুনরায় আয়োজিত শোতে প্লাস-সাইজ মডেল অ্যাশলি গ্রাহামসহ বিভিন্ন গড়ন ও বৈশিষ্ট্যের মডেলদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করে ব্র্যান্ডটি।
তবে ফ্যান্টাসি ব্রাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা দেখিয়ে দিয়েছে, ব্র্যান্ডটির ঐতিহ্য ও আধুনিক বিপণন কৌশলের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
সমালোচকদের আরেকটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, বিপুল অর্থমূল্যের একটি বিলাসবহুল পণ্যকে ঘিরে এত আয়োজনের সামাজিক তাৎপর্য কী। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অনেক মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে এমন প্রদর্শনীকে কেউ কেউ অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা হিসেবেও দেখছেন।
সব মিলিয়ে, কাইলি জেনারের ফ্যান্টাসি ব্রা পরে র্যাম্পে হাঁটা যেমন ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের ঐতিহ্যকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে, তেমনি ফ্যাশনশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ব্র্যান্ডটির কাছে এটি বিপণনের নতুন সুযোগ; আর সমালোচকদের কাছে জনপ্রিয়তা, পেশাদারিত্ব ও বিলাসিতার মূল্য নিয়ে বিতর্কের আরেকটি অধ্যায়।
















