নেতানিয়াহুকে হটানোর পথ তৈরিতে প্রস্তুত জয়েন্ট লিস্ট, ‘তাঁদের ঘরে পাঠান’
- 1
মাও সে–তুংকে নিয়ে মিমের বিতর্কে এমবাপ্পে, সম্পর্ক ছিন্ন করল চীনের দুই প্রতিষ্ঠান
- 2
ব্যালন ডি’অরের রাতে সানসা স্টার্ক, বার্না বয় ও আরও তারকার ঝলক
- 3
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন, এক নজরে
- 4
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের তালিকা: ১৯৫৬ থেকে ২০২৬
- 5
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন

নেতানিয়াহুকে হটানোর পথ তৈরিতে প্রস্তুত জয়েন্ট লিস্ট, ‘তাঁদের ঘরে পাঠান’
নেতানিয়াহুকে হটানোর পথ তৈরিতে প্রস্তুত জয়েন্ট লিস্ট, ‘তাঁদের ঘরে পাঠান’
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্যোগে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে জয়েন্ট লিস্ট। দলটির চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেছেন, নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো পক্ষ যদি সরকার পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে তাদের জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর জাবারিন এই মন্তব্য করেন। ৭৬.৮ শতাংশ ব্যালট বাক্সের হিসাবের সময় জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে ১৯টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে নেতানিয়াহুর জোট ৫৪ এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৭ আসনে ছিল। তবে ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়।
‘আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে’
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৩-কে জাবারিন বলেন, যারা নেতানিয়াহু সরকারের বিকল্প তৈরি করতে চান, তাদের পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁদের দল নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগাতে প্রস্তুত। ইয়েনেটকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহু, ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচের সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরিতেও তাঁর দল প্রস্তুত।
জাবারিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের রাজনীতিতে সামনে দুটি পথ—বর্তমান বৈষম্য ও আধিপত্যের রাজনীতি অব্যাহত থাকা, অথবা ইহুদি ও আরব নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক অংশীদারত্ব তৈরি হওয়া।
সরকার গঠনে আরব দলগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইসরায়েলের নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। আংশিক ফলাফলে কোনো প্রধান জোটই সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের জন্য ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের আসনসংখ্যা তাদের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে এসেছে। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তনপন্থী জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার প্রশ্ন সামনে এসেছে।
তবে এই সমীকরণ এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ নির্বাচনের আগে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।
আসনসংখ্যার হিসাব বদলাচ্ছে
নির্বাচনের ফল এখনো গণনাধীন হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আসনসংখ্যার হিসাব পরিবর্তিত হচ্ছে। পরবর্তী আপডেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩-৫৪ আসনের আশপাশে এবং আইজেনকটের জোট ৪৭-৪৯ আসনের মধ্যে ছিল। আরব দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যাও এক পর্যায়ে ১৭ থেকে ১৯-এর মধ্যে ওঠানামা করেছে।
ফলে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে কোনো জোটের সরকার গঠন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
স্পিকারকে সরানোর সমীকরণও সামনে
সরকার গঠনের পাশাপাশি পার্লামেন্টের স্পিকার পদ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইজেনকটের পক্ষ আরব দলগুলোর আসন নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নেসেটের স্পিকার আমির ওহানাকে সরানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। ওহানা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য।
তবে এটি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতা আদৌ হয় কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
নজিরবিহীন অবস্থানে আরব দলগুলো
এই নির্বাচনে ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ফল বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে ১৯টি আসনের পূর্বাভাস সত্যি হলে এটি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য হবে। এর আগে ২০২০ সালে জয়েন্ট লিস্ট, তখনকার বৃহত্তর জোট হিসেবে, ১৫টি আসন পেয়েছিল।
ফলে নির্বাচনের পর ইসরায়েলের সরকার গঠনের আলোচনায় ইউসেফ জাবারিনের দলসহ আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজনৈতিক শক্তি শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুবিরোধী কোনো সরকার গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে কি না।















