Image

দুই হাতে সিটিকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 58 মিনিট আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
দুই হাতে সিটিকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

দুই হাতে সিটিকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

দুই হাতে সিটিকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার

এক হাতে নয়, যেন দুই হাতেই ম্যানচেস্টার সিটিকে বাঁচালেন আর্জেন্টাইন গোলকিপার হেরোনিমো রুই। নির্ধারিত সময়ে একটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে ম্যাচে রেখেছিলেন। এরপর টাইব্রেকারে পরপর দুটি পেনাল্টি সেভ করে সিটিকে তুললেন কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

ইতিহাদে ব্রাইটনের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ২–২ গোলে ড্র করে ম্যানচেস্টার সিটি। এরপর টাইব্রেকারে ৪–৩ ব্যবধানে জেতে এনজো মারেসকার দল। রায়ান শেরকির জয়সূচক পেনাল্টির পর রুইয়ের দুটি সেভই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত।

প্রথমে গোল বাঁচালেন, পরে টাইব্রেকার

নিয়মিত গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বিশ্রাম দেওয়ায় ব্রাইটনের বিপক্ষে সিটির পোস্টে সুযোগ পান রুই। ৩৪ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন অবশ্য শুধু টাইব্রেকারেই নিজের গুরুত্ব দেখাননি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে জর্জিনিও রুটারের দারুণ এক শট গোলের দিকে যাচ্ছিল। অসাধারণ ঝাঁপিয়ে সেটি ওপর দিয়ে বের করে দেন রুই। তাঁর সেই সেভ না হলে সিটি হয়তো নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত। ব্রাইটন শেষ পর্যন্ত ২–২ সমতায় ম্যাচ শেষ করে টাইব্রেকারে যায়।

সেখানেই রুইয়ের আসল নায়ক হয়ে ওঠা।

সিটি প্রথম পাঁচটি পেনাল্টির মধ্যে চারটি কাজে লাগায়। মাতেও কোভাচিচের শট ঠেকিয়ে ব্রাইটনের গোলরক্ষক জেসন স্টিলও দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু রুই পরপর ইয়াসিন আয়ারি ও ব্রাইটন অধিনায়ক লুইস ডাঙ্কের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন।

এরপর রায়ান শেরকি নিজের পেনাল্টি জালে জড়িয়ে দেন। ব্রাইটনকে বাঁচাতে ডাঙ্ককে গোল করতেই হতো। কিন্তু রুই বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে তাঁর শটও ঠেকিয়ে দেন। সিটি জেতে ৪–৩ গোলে।

দোন্নারুম্মার জায়গা কি এবার নড়বড়ে?

সম্প্রতি দোন্নারুম্মার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত শনিবার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২–১ হারের ম্যাচে তাঁর ভুল থেকেই সিটির দ্বিতীয় গোলটি এসেছিল। ম্যাচ শেষে মারেসকাও স্বীকার করেছিলেন, ইতালিয়ান গোলকিপার কিছু ভুল করেছেন।

তাই ব্রাইটনের বিপক্ষে রুইয়ের এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল—দোন্নারুম্মার মূল একাদশের জায়গা কি এবার হুমকিতে?

মারেসকার উত্তর অবশ্য পরিষ্কার—না।

সিটি কোচ বলেন, রুই নিজের ভূমিকা জানেন এবং শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের বিপক্ষে আবারও দোন্নারুম্মাই গোলপোস্ট সামলাবেন। তাঁর ভাষায়, “শনিবার গিগিও এবং আরও ১০ জন।”

রুইয়ের পারফরম্যান্স নিয়েও অবশ্য মারেসকা উচ্ছ্বসিত। পেনাল্টি সেভের পাশাপাশি বল পায়ে তাঁর খেলায়ও সন্তুষ্ট কোচ। বিশেষ করে ব্রাইটনের ম্যান-টু-ম্যান ও আক্রমণাত্মক প্রেসিংয়ের বিপক্ষে কাজটি সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি।

পেনাল্টি ঠেকানোয় বিশেষজ্ঞ রুই

রুইকে মূলত দোন্নারুম্মার ব্যাকআপ হিসেবে গত আগস্টে মার্শেই থেকে ফিরিয়ে এনেছিল সিটি। তবে তাঁর দলে ফেরার পেছনে আরও একটি বিশেষ কারণ ছিল—পেনাল্টি সেভ করার দক্ষতা।

পেশাদার ক্যারিয়ারে পেনাল্টি ঠেকানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এই আর্জেন্টাইন গোলকিপারের। তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ২০২১ ইউরোপা লিগের ফাইনাল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ডেভিড দে হেয়ার শট ঠেকিয়ে ভিয়ারিয়ালকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন রুই।

সিটির হয়ে তাঁর প্রথম দিকের সুযোগগুলোর একটিতেই সেই বিশেষ দক্ষতা আবারও কাজে লাগল।

পেনাল্টি অনুশীলন ছাড়াই সাফল্য!

সবচেয়ে অবাক করার মতো তথ্যটি জানিয়েছেন মারেসকা নিজেই। সিটিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তাঁর দল পেনাল্টি শুটআউটের জন্য আলাদা করে অনুশীলনই করেনি।

“সত্যি বলতে, আমি আসার পর আমরা কখনো পেনাল্টি অনুশীলন করিনি,” বলেছেন মারেসকা।

তবু ব্রাইটনের বিপক্ষে যখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হলো স্পটকিকে, তখন সিটির ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন এমন একজন, যাঁর পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতার জন্যই মূলত দলে ফেরা।

রুইয়ের দুই হাতে বেঁচে গেল সিটি। আর কারাবাও কাপের শেষ আটে জায়গা করে নিল মারেসকার দল।

কোয়ার্টার ফাইনালে সিটির প্রতিপক্ষ ব্র্যাডফোর্ড সিটি।

Details Bottom