১১ ম্যাচে ৪৮ গোল, এই বার্সেলোনাকে থামাবে কে?
- 1
পাকিস্তানি ‘শেইদাই’ নকলের অভিযোগ নিলয়-হিমির নাটকের বিরুদ্ধে
- 2
দ্রাবিড়পুত্র অন্বয়ের ১৫১, শেবাগপুত্র আর্যবীরের ১৭৩—যুব ক্রিকেটে তারকাদের উত্তরসূরিদের দাপট
- 3
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফায় অসন্তোষ, বিকল্প সভাপতি প্রার্থী খুঁজছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা
- 4
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাস: UCL জয়, সাফল্য ও সব ট্রফির তালিকা
- 5
হলুদ-লাল কার্ডের বদলে ডিজিটাল স্ক্রিন! ফুটবলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা

১১ ম্যাচে ৪৮ গোল, এই বার্সেলোনাকে থামাবে কে?
১১ ম্যাচে ৪৮ গোল, এই বার্সেলোনাকে থামাবে কে?
ট্রফি জেতাই শেষ কথা। তবে সমর্থকদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায় সেই ট্রফির পথে দলের খেলার ধরনও। আর সেখানেই এবারের বার্সেলোনা আলাদা। শুধু জিতছে না, গোলের পর গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে হান্সি ফ্লিকের দল। একের পর এক রেকর্ডও এখন তাদের হাতছানি দিচ্ছে।
লা লিগায় ৯ ম্যাচে ৩৯ গোলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের দুই ম্যাচে আরও ৯ গোল। সব মিলিয়ে মাত্র ১১ ম্যাচে বার্সেলোনার গোলসংখ্যা ৪৮। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর মধ্যে চলতি মৌসুমে যা সর্বোচ্চ। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪.৩৬ গোল করছে কাতালান ক্লাবটি।
বায়ার্নের চেয়েও ১২ গোল বেশি
গোলের হিসাবে বার্সেলোনার কাছাকাছি নেই ইউরোপের অন্য কোনো দলও। ১০ ম্যাচে ৩৬ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। ১০ ম্যাচে ২৯ গোল করে যৌথভাবে তৃতীয় ফ্রেইবুর্গ ও ব্রাইটন। ১১ ম্যাচে ২৮ গোল নিয়ে পাঁচ নম্বরে ম্যানচেস্টার সিটি।
অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানে থাকা বায়ার্নের চেয়েও ১২ গোল বেশি করেছে বার্সেলোনা।
ফ্লিকের কাছে অবশ্য পরিসংখ্যানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি। তবে এই গোলের স্রোত বার্সেলোনাকে এনে দিচ্ছে আরও কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ডের সম্ভাবনা।
ইউরোপের বড় লিগগুলোর ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তুরিনোর। ১৯৪৭–৪৮ মৌসুমে তারা লিগে করেছিল ১২৫ গোল। এরপর রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ—২০১১–১২ মৌসুমে ১২১ এবং ২০১৪–১৫ মৌসুমে ১১৮ গোল।
বার্সেলোনার নিজেদেরও আছে ২০১৬–১৭ মৌসুমে লা লিগায় ১১৬ গোল করার নজির।
মেসির সেই মৌসুমের রেকর্ডের পথে বার্সা
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এক মৌসুমে বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোল ১৯০। ২০১১–১২ মৌসুমে লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য ৭৩ গোলের বছরে ৬৪ ম্যাচে এই রেকর্ড গড়েছিল দলটি।
এবার ১১ ম্যাচেই ৪৮ গোল করে সেই রেকর্ডের পথে চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি কাজ করে ফেলেছে ফ্লিকের দল। অবশ্য মৌসুমের এখনো অনেকটা পথ বাকি। সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন সব প্রতিপক্ষ।
তবে এখন পর্যন্ত গোল করার যে ধার দেখাচ্ছে বার্সেলোনা, তাতে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই বার্সেলোনাকে থামাবে কে?
সামনে PSG, এরপরই এল ক্লাসিকো
এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো মিলতে পারে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার প্রতিপক্ষ পিএসজি। গত দুবারের চ্যাম্পিয়নদের মাঠেই খেলতে হবে ফ্লিকের দলকে। এরপর ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে অপেক্ষা করছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। অর্থাৎ মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতেও বার্সেলোনার গোলমেশিনকে বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।
১১ ম্যাচের ৬টিতেই পাঁচ বা তার বেশি গোল
বার্সেলোনার গোলবন্যার আরেকটি পরিসংখ্যানও নজর কাড়ার মতো। ১১ ম্যাচের ছয়টিতেই অন্তত পাঁচটি করে গোল করেছে দলটি। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বড় ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে।
এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম গোল এসেছে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও বার্সেলোনা করেছে দুটি গোল।
আর শুধু গোলের সংখ্যাই নয়, গোলদাতার বৈচিত্র্যও ফ্লিকের দলের আক্রমণভাগের গভীরতা তুলে ধরছে।
লা লিগায় চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে গোল করেছেন ১১ জন ভিন্ন খেলোয়াড়। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো দলই এর চেয়ে বেশি আলাদা গোলদাতা পায়নি। সেভিয়ারও ১১ জন ভিন্ন গোলদাতা রয়েছেন।
অর্থাৎ বার্সেলোনাকে থামাতে শুধু একজন বা দুজন খেলোয়াড়কে নিষ্ক্রিয় রাখলেই হচ্ছে না। মাঠের একাধিক জায়গা থেকেই গোল করার সামর্থ্য দেখাচ্ছে দলটি।

ফ্লিকের লক্ষ্য অবশ্য একটাই
এমন গোলবন্যা ও টানা জয়ের পরও হান্সি ফ্লিকের বক্তব্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। লা লিগায় হ্যাটট্রিক ট্রফির মিশনে নেমে প্রথম ৯ ম্যাচেই শতভাগ জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই সময়ে প্রতিপক্ষের জালে ৩৯ বার বল পাঠিয়েছে তারা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের গোল সেখানে মাত্র ১৯টি।
রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেও সেই গোল-উৎসব অব্যাহত ছিল। বেতিসের মাঠে গিয়ে ৫–২ গোলে জয় নিয়ে ফিরেছে ফ্লিকের দল।
তবু ম্যাচ শেষে গোলের এই বন্যা নিয়ে খুব বেশি মাতামাতি করতে রাজি নন বার্সেলোনা কোচ।
ফ্লিকের ভাষায়, ‘ভালো। তবে আমাদের লক্ষ্য ট্রফি। আমরা এর চেয়েও বড় কিছু জিততে চাই। ফুটবল তো সে জন্যই খেলি।’
গোলের রেকর্ড, দুর্দান্ত আক্রমণ আর একের পর এক জয়—সবকিছুই এখন বার্সেলোনার পক্ষে কথা বলছে। তবে আসল পরীক্ষা সামনে। পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে আগামী দুই ম্যাচই বলে দিতে পারে, এই গোলমেশিন সত্যিই কতটা অপ্রতিরোধ্য।














