Image

আবার বার্সেলোনার রাজত্ব, নাকি মরিনিওর হাত ধরে রিয়ালের সিংহাসন পুনর্দখল?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
আবার বার্সেলোনার রাজত্ব, নাকি মরিনিওর হাত ধরে রিয়ালের সিংহাসন পুনর্দখল?

আবার বার্সেলোনার রাজত্ব, নাকি মরিনিওর হাত ধরে রিয়ালের সিংহাসন পুনর্দখল?

আবার বার্সেলোনার রাজত্ব, নাকি মরিনিওর হাত ধরে রিয়ালের সিংহাসন পুনর্দখল?

ক্যাম্প ন্যু, নাকি বার্নাব্যু? স্পেনের ফুটবলে আবার সেই চেনা উত্তাপ। শুরু হচ্ছে লা লিগার নতুন মৌসুম, আর প্রথম দিন থেকেই বাতাসে ভাসছে এক প্রশ্ন—শিরোপা কি থাকবে বার্সেলোনার ঘরে, নাকি জোসে মরিনিওর প্রত্যাবর্তনে নতুন করে জেগে উঠবে রিয়াল মাদ্রিদ?

মরিনিওর প্রত্যাবর্তন, নতুন করে জেগে ওঠা বার্নাব্যু

১৩ বছর পর আবার রিয়ালের ডাগআউটে ফিরেছেন জোসে মরিনিও। গত দুই মৌসুমে বড় কোনো ট্রফি জিততে না পারা রিয়াল এবার হারানো রাজত্ব ফিরিয়ে আনতে ভরসা রেখেছে পর্তুগিজ এই কোচের ওপর। অনেকের মতে, তারকায় ভরা ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফেরাতেই ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ মরিনিওকে ফিরিয়েছেন।

দলবদলের বাজারেও ছিল রিয়ালের ঝড়। লাইপজিগ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে ইয়ান দিওমান্দে, চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়া, আর সঙ্গে বের্নার্দো সিলভা, ডেনজেল ডামফ্রিস ও ইব্রাহিমা কোনাতে—সব মিলিয়ে স্কোয়াড আরও শক্তিশালী হয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে চুক্তিও নবায়ন হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত।

শক্তি আছে, প্রশ্নও আছে

তবে সন্দেহও কম নয়। মরিনিওর রক্ষণনির্ভর দর্শন কি বর্তমান লা লিগার দ্রুত ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে যাবে? গত মৌসুমে এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস মিলে ৪১ গোল করেছিলেন, জুড বেলিংহাম যোগ করেছিলেন আরও ৬। এত বিস্ফোরক আক্রমণভাগকে নিজের ছকে কীভাবে গড়বেন মরিনিও, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল।

ফ্লিকের বার্সা: আক্রমণের ঝড়, কিন্তু পেছনে ফাঁক

অন্যদিকে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা অনেক উঁচু লাইনে খেলে এবং প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখে। তবে সেই আগ্রাসী ফুটবলের কারণে পেছনে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই দুর্বলতা ঢাকতেই নিউক্যাসল থেকে ৭ কোটি ইউরোতে অ্যান্টনি গর্ডনকে আনা হয়েছে। দলে যোগ দিয়েছেন করিম আদেইয়েমিও।

তবে বড় প্রশ্ন থেকে গেছে সামনে। রবার্ট লেভানডভস্কি শিকাগো ফায়ারে চলে যাওয়ায় বার্সার এখন একজন নিখাদ নাম্বার নাইনের অভাব। ফেরান তোরেস সেই শূন্যতা কতটা পূরণ করতে পারবেন, সেটিই মৌসুমের বড় রহস্য।

আতলেতিকোকে ভুললে চলবে না

শিরোপার মূল আলোচনায় বার্সা ও রিয়াল থাকলেও আতলেতিকো মাদ্রিদকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। দিয়েগো সিমিওনের ওপর চাপ বেড়েছে। গত মৌসুমে লিগে চতুর্থ, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ও কোপা দেল রের ফাইনাল—সব ছুঁয়েও ট্রফিশূন্য ছিল তারা।

আঁতোয়ান গ্রিজমান চলে গেলেও হুলিয়ান আলভারেজকে ধরে রেখেছে ক্লাব। মাঝমাঠে শক্তি বাড়াতে আনা হয়েছে মর্তেন হিউলমান্দ ও লি কাং ইনকে, দুজনের পেছনেই খরচ হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ইউরো করে।

চমক দিতে পারে ভিয়ারিয়াল ও বেতিস

ভিয়ারিয়াল হয়তো সরাসরি শিরোপার দাবিদার নয়, তবে লড়াইয়ের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। নতুন কোচ ইনিগো পেরেজের অধীনে তারা নতুন শুরু করছে।

রিয়াল বেতিসও নীরবে শক্তি বাড়াচ্ছে। ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনির দল গত মৌসুমে পঞ্চম হয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছে। ২০২২ সালে কোপা দেল রে জয়ের পর গত বছর কনফারেন্স লিগের ফাইনালেও খেলেছিল তারা।

শেষ পর্যন্ত সেই চিরন্তন লড়াই

সব হিসাব-নিকাশ শেষে লড়াইটা সম্ভবত আবারও বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ। দুটি এল ক্লাসিকোই শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মাঝারি বা নিচের সারির দলের বিপক্ষে দু-একটি হোঁচটই বদলে দিতে পারে পুরো মৌসুমের গল্প।

তাহলে শেষ পর্যন্ত জিতবে কোনটা—ফ্লিকের বার্সেলোনার ধারাবাহিকতা, নাকি মরিনিওর প্রত্যাবর্তনের নাটকীয়তা?

উত্তর মিলবে আগামী বছরের মে মাসে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three