চার দিনে দু’বার মাঠে ঢলে পড়লেন মুসিয়ালা, নেপথ্যে কী কারণ?

চার দিনে দু’বার মাঠে ঢলে পড়লেন মুসিয়ালা, নেপথ্যে কী কারণ?
চার দিনে দু’বার মাঠে ঢলে পড়লেন মুসিয়ালা, নেপথ্যে কী কারণ?
জার্মানির তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালাকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে লুটিয়ে পড়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের ২৩ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
গত মঙ্গলবার জার্মানির দ্বিতীয় বিভাগের দল হেইদেনহাইমের বিপক্ষে ম্যাচে ৬১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মুসিয়ালা। মাত্র ছয় মিনিট পরই হঠাৎ মাঠে পড়ে যান তিনি। সতীর্থরা দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবশ্য নিজেই মাঠ ছাড়েন মুসিয়ালা।
এর আগে গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে ১৫ মিনিট পর মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরপর দুটি ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় উদ্বেগ।
তবে বিষয়টি বায়ার্নের কাছে নতুন নয়। ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল জানান, মুসিয়ালা নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে ইনস্টাগ্রামে নিজের শারীরিক অবস্থার ব্যাখ্যাও দেন এই জার্মান তারকা।
মুসিয়ালা জানান, তাঁর শরীরে ক্ষণস্থায়ী ‘অ্যাবসেন্স’ ধরা পড়েছে। এটি স্নায়বিক সমস্যার কারণে সাময়িক অচেতনতার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি দেখতে ভয়ংকর মনে হলেও এটি তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ এবং বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছেন।
মুসিয়ালা আরও জানান, নিয়মিত নিউরোলজিস্টদের পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি এবং তাঁদের সবুজ সংকেত নিয়েই ফুটবল চালিয়ে যেতে চান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর বাইরে তাঁর অন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
গত ১৮ মাস অবশ্য খুব একটা স্বস্তিতে কাটেনি মুসিয়ালার। একাধিক চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। গত গ্রীষ্মে ক্লাব বিশ্বকাপে পায়ের হাড় ভাঙার পর দীর্ঘ পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পরে সেই চোটের প্রভাব পড়ে তাঁর গোড়ালিতেও।
সর্বশেষ বিশ্বকাপেও প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি মুসিয়ালা। প্যারাগুয়ের কাছে হেরে শেষ ৩২-এর পর্ব থেকেই বিদায় নেয় জার্মানি।
এদিকে, সম্প্রতি বাঁ পায়ের পাতা থেকে ধাতব প্লেট/স্ক্রু অপসারণের পর মুসিয়ালা বায়ার্নের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি ও এশিয়া সফরে থাকতে পারেননি। দলের সঙ্গে না থেকে বিশ্বকাপের ছুটি কমিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ফিটনেস ট্রেনিং করেছেন তিনি।
বায়ার্নের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত খেলোয়াড়দের একজন মুসিয়ালাকে নিয়ে তাই এখন মূল প্রশ্ন—শারীরিক এই সমস্যার প্রভাব তাঁর নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি ও মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা পড়ে। তবে আপাতত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে ইতিবাচক থাকার বার্তাই দিয়েছেন জার্মান তারকা।












