Image

বিশ্বকাপের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৮৪ লাখ ফুটবলভক্ত

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 44 মিনিট আগে
বিশ্বকাপের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৮৪ লাখ ফুটবলভক্ত

বিশ্বকাপের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৮৪ লাখ ফুটবলভক্ত

বিশ্বকাপের প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে ৮৪ লাখ ফুটবলভক্ত

যে দেশে ‘ফুটবল’ বলতে এত দিন মূলত ডিম্বাকৃতির বল নিয়ে শারীরিক সংঘর্ষের খেলা এনএফএলকেই বোঝানো হতো, সেই যুক্তরাষ্ট্রে কি বদলে যাচ্ছে চেনা দৃশ্যপট? ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হয়েছে, কিন্তু তার প্রভাব এখনো স্পষ্ট। বিশ্বকাপ যেন যুক্তরাষ্ট্রে সকারের জনপ্রিয়তায় নতুন এক ঢেউ তুলেছে।

বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নিলসেনের সাম্প্রতিক তথ্য অন্তত সেই কথাই বলছে। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলভক্তের সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৬৮ লাখ। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫২ লাখে। অর্থাৎ মাত্র ১২ মাসে নতুন করে ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ৮৪ লাখ মানুষ।

২০২২ সালের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলভক্তের সংখ্যা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। শুধু ঘরোয়া মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) সমর্থকই বেড়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ।

বিশ্বকাপের পর ক্লাব ফুটবলেও বাড়ছে দর্শক

বিশ্বকাপের প্রভাব শুধু জাতীয় দলের ম্যাচেই আটকে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশনে ক্লাব ফুটবলের দর্শকসংখ্যাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

ফক্সে প্রচারিত এমএলএস ম্যাচে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী দর্শকের সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ দেখার হার গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪২ শতাংশ। তরুণ দর্শকদের ক্ষেত্রে সেই বৃদ্ধি আরও বেশি—৬০ শতাংশ।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের দর্শকসংখ্যাও বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

অর্থাৎ বিশ্বকাপের উন্মাদনা শেষ হওয়ার পরও ফুটবল দেখার অভ্যাস ধরে রাখছেন যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকেরা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।

বিশ্বকাপেই মিলেছিল বড় সংকেত

বিশ্বকাপ চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্রে সকারের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন নেটওয়ার্ক টেলিমুন্দোতে বিশ্বকাপের ম্যাচপ্রতি গড় দর্শক ছিল ৬৩ লাখ। ফক্সে এই সংখ্যা ছিল ৭৭ লাখের বেশি।

এর মধ্যে ১৯ জুলাই স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার রোমাঞ্চকর ফাইনাল গড়ে দেখেছেন ৬ কোটি ৬৪ লাখ দর্শক। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন ইতিহাসে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সুপার বোল ৬০-এর পর এটিই ছিল দেশটিতে টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠান।

নিলসেনের বৈশ্বিক ক্রীড়া বিভাগের প্রধান শেথ লাদেৎস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখন শুধু রেকর্ড ছোঁয়ার পর্যায়ে নেই; এটি তরুণ ও আরও বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।

টিকিট বিক্রিতেও বিশ্বকাপের প্রভাব

বিশ্বকাপের সুবাতাস গায়ে মেখে বসে নেই এমএলএসও। লিগটির পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তাটাও স্পষ্ট—‘ধন্যবাদ বিশ্ব, এবার থেকে আমরা সামলাব।’

এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে ক্লাবগুলোর টিকিট বিক্রিতেও।

ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের টিকিট বিক্রি বেড়েছে ২১৮ শতাংশ। ন্যাশভিল এসসির অনলাইন টিকিট বিক্রি বেড়েছে ১৬১ শতাংশ।

এতে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের সময় তৈরি হওয়া আগ্রহের একটি অংশ এখন ঘরোয়া ফুটবলের দিকেও প্রবাহিত হচ্ছে।

NFL, NBA, MLB-র সঙ্গে লড়াই এখনো কঠিন

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বাজারে ফুটবল এখনো এনএফএল, এনবিএ কিংবা এমএলবির জনপ্রিয়তার সমকক্ষ নয়। আমেরিকান ফুটবল, বাস্কেটবল ও বেসবল বহু দশক ধরে দেশটির ক্রীড়া সংস্কৃতির কেন্দ্রে রয়েছে।

তবে এমএলএস কমিশনার ডন গারবারের দৃষ্টিতে মূল লক্ষ্য তাৎক্ষণিক সাফল্য নয়। বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি দর্শক-অভ্যাসে পরিণত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

কারণ বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন চার বছর পরপর আসে। কিন্তু এমএলএস, প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা কিংবা অন্যান্য প্রতিযোগিতার ম্যাচ সারা বছরই দর্শকদের সামনে থাকে।

সেই জায়গাতেই ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের জন্য একটি নতুন দরজা খুলে দিয়েছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

৮৪ লাখ নতুন ফুটবলভক্ত, তরুণ দর্শকের বড় বৃদ্ধি, ক্লাব ফুটবলের টিভি দর্শক বাড়া এবং এমএলএসের টিকিট বিক্রিতে উল্লম্ফন—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সকারের জনপ্রিয়তার চিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

বিশ্বকাপের আলো হয়তো নিভে গেছে, কিন্তু তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো, এই উন্মাদনা কি সাময়িক, নাকি এবার সত্যিই আমেরিকার ক্রীড়া সংস্কৃতিতে সকার স্থায়ী জায়গা করে নিতে শুরু করেছে?

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three