তাইজে তুমুল লড়াই, ২৪ ঘণ্টায় ১,৫৪০ হুতি হতাহতের দাবি ইয়েমেনের
- 1
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা শক্তিশালী, উত্তর খুঁজছে নরওয়েও
- 2
হরমুজে ট্যাংকারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যের পথে ৯ হাজার মার্কিন সেনা
- 3
মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের গোলবন্যা
- 4
মার্কিন হামলার আশঙ্কায় বড় পাল্টা-আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
- 5
আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই আর কারও, মেসির ১০ নম্বরের দাবিদার নিকো পাজ?

তাইজে তুমুল লড়াই, ২৪ ঘণ্টায় ১,৫৪০ হুতি হতাহতের দাবি ইয়েমেনের
তাইজে তুমুল লড়াই, ২৪ ঘণ্টায় ১,৫৪০ হুতি হতাহতের দাবি ইয়েমেনের
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৫৪০ জনকে হত্যা বা আহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। তবে এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে হুতিদের অবস্থান, রসদ, সামরিক যান ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।
তাইজেই সবচেয়ে বেশি হুতি যোদ্ধা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সরকার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বানি বাকারু, মাকবানাহ, আল-আকরুদ এবং তাইজ শহরের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ
লড়াইয়ের মধ্যেই শনিবার আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা আল-হুবানকে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সরকারি বাহিনীর দাবি, হুতিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সড়কের আশপাশে হামলা এবং সেখানে সামরিক শক্তি বাড়ানোর কারণে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ক্রসিংটি বন্ধ করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় নয় বছর বন্ধ থাকার পর মানবিক কারণে ২০২৪ সালে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছিল।
নতুন করে ভেঙেছে যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি
ইয়েমেনে ২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকলেও চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে এবং সংঘাত আবারও তীব্র হয়ে ওঠে।
এরপর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুতিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও মোখা বন্দরসহ কৌশলগত অবস্থান দখলের দিকে অগ্রসর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারি ও সরকারপন্থী বাহিনী বিভিন্ন ফ্রন্টে তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর দাবি করেছে।
তাইজের ভৌগোলিক অবস্থানও সংঘাতকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। পাহাড়ি এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং লোহিত সাগরের উপকূলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে প্রদেশটি ইয়েমেনের অন্যতম কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
বাড়ছে বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট
নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বেসামরিক মানুষের ওপরও চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, ইয়েমেনে নতুন লড়াইয়ের কারণে সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্যসংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তাইজে চলমান লড়াই তাই শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরবরাহপথের নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও বড় সংকট তৈরি করছে। সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর দাবি করলেও, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে পরিস্থিতি যে আবারও দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।















