পেশাজীবীদের কাজ সহজ করতে নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ আনল অ্যানথ্রোপিক
- 1
ফ্রান্সের ডিসকাউন্ট জায়ান্ট GiFi সংকটে, মূল ক্রেতাদের হারানোর পেছনে কী?
- 2
শিশুদের টুথপেস্টসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব প্রত্যাহার, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
- 3
কাম্প নউয়ে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তনে বার্সার ৪-১ জয় দেখছেন পিকে
- 4
হাসপাতালে ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা, যন্ত্রণায় কাতর ৮৬ বছরের জোয়ান
- 5
৭১ বছর বয়সে মারা গেলেন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি জন অ্যান্ডারসন, শোকে ব্লেক শেলটন-টিম ম্যাকগ্রো

পেশাজীবীদের কাজ সহজ করতে নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ আনল অ্যানথ্রোপিক
পেশাজীবীদের কাজ সহজ করতে নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ আনল অ্যানথ্রোপিক
শুধু নির্দেশের অপেক্ষায় নয়, ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে নিজে থেকেই কাজ এগিয়ে নিতে সক্ষম নতুন এআই এজেন্ট ‘ক্লদ ডুয়েট’ উন্মোচন করেছে অ্যানথ্রোপিক। দৈনন্দিন কাজের সারসংক্ষেপ তৈরি, মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ, আর্থিক পূর্বাভাস তৈরি থেকে ওয়েব অ্যাপ বানানো—বিভিন্ন পেশাগত কাজে সহায়তার জন্য তৈরি হয়েছে এই সেবা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বাজারে প্রতিযোগিতা আরও জোরালো করতে নতুন ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট অ্যাপ ‘ক্লদ ডুয়েট’ এনেছে অ্যানথ্রোপিক। পেশাজীবী ও ছোট ব্যবসার মালিকদের জন্য তৈরি এই সেবা ব্যবহারকারীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অ্যাপের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ চিহ্নিত করতে পারে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানায় এবং বিভিন্ন দায়িত্ব সামলাতে সহায়তা করে।
২১ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লদ ডুয়েটকে গবেষণামূলক প্রিভিউ হিসেবে চালু করা হয়েছে। আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের পাশাপাশি claude.ai ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও এটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্লদ প্রো ও ম্যাক্স প্ল্যানের গ্রাহকেরা অপেক্ষমাণ তালিকার মাধ্যমে এতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে না এআই
প্রচলিত চ্যাটবট সাধারণত ব্যবহারকারীর প্রশ্ন বা নির্দেশের পর কাজ শুরু করে। ক্লদ ডুয়েটের বিশেষত্ব হলো, এটি নিজে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনতে পারে।
অ্যানথ্রোপিকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অ্যাপটি প্রতিদিনের শুরুতে ব্যবহারকারীর জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং তৈরি করবে। এতে ইমেইল, বার্তা ও সংযুক্ত অন্যান্য অ্যাপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হবে। দিনের বিভিন্ন সময়ে নতুন কোনো বিষয় মনোযোগ দাবি করলে সেটিও ব্যবহারকারীকে জানাতে পারবে।
মিটিংয়ের সময় নির্ধারণ, আর্থিক পূর্বাভাস তৈরি, ড্যাশবোর্ড নির্মাণ এবং ওয়েব অ্যাপ তৈরির মতো কাজেও সহায়তা করতে পারে এই এআই এজেন্ট। ফলে একাধিক অ্যাপ ও কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে হয়—এমন পেশাজীবীদের সময় বাঁচানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ছয় হাজারের বেশি সংযোগ সুবিধা
ক্লদ ডুয়েট ক্লদ মার্কেটপ্লেসের ছয় হাজারের বেশি কানেক্টর ও প্লাগইনের সঙ্গে কাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রোপিক। এসব সংযোগের মধ্যে রয়েছে জিমেইল ও স্ল্যাকের মতো জনপ্রিয় সেবা।
অ্যাপটি ক্লদ ওপাস ৫.৫ মডেলের ওপর তৈরি। ব্যবহারকারীর ফোন বা কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও এটি নিজস্ব ভার্চুয়াল পরিবেশে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। কোনো কাজ সম্পন্ন হলে কিংবা ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানাতে পারে।
এ ছাড়া স্ট্রাইপের লিংক ডিজিটাল ওয়ালেট এবং শপিফাইয়ের শপ পে ব্যবহারের মাধ্যমে কেনাকাটার মতো কাজেও সহায়তা করতে পারে সেবাটি।
সংবেদনশীল কাজে লাগবে ব্যবহারকারীর অনুমতি
এআই এজেন্টকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়েছে অ্যানথ্রোপিক। সংবেদনশীল কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ব্যবহারকারীর অনুমোদন নিতে হবে ক্লদ ডুয়েটকে।
ইমেইল পাঠানো, অর্থ পরিশোধ, নথিতে স্বাক্ষর করা কিংবা ফাইল মুছে ফেলার মতো কাজের ক্ষেত্রে এই অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে কিছু উচ্চঝুঁকির কাজ, যেমন সিকিউরিটিজ লেনদেন বা এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর, ব্যবহারকারীর অনুমতি থাকলেও নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে নতুন সেবাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। অ্যানথ্রোপিক স্বীকার করেছে, ক্লদ ডুয়েট কখনো কথোপকথনের প্রেক্ষাপট ভুল বুঝতে পারে কিংবা কোন কাজটি বেশি জরুরি, তা নির্ধারণে ভুল করতে পারে। ব্যক্তিগত প্রয়োজনে টিকিট বুকিংয়ের মতো কাজেও এটি এখনো তুলনামূলক কম দক্ষ।
এআই এজেন্টের বাজারে প্রতিযোগিতা
ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন অ্যাপে কাজ করতে সক্ষম স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরির প্রতিযোগিতা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাড়ছে। ওপেনএআই ইতিমধ্যে নিজস্ব ‘ডটস’ এজেন্ট চালু করেছে। অন্যদিকে মেটার ‘মিউজ’ এজেন্টও বাজারে আলোচনায় এসেছে।
এই প্রতিযোগিতার মধ্যে ক্লদ ডুয়েট চালুর মাধ্যমে অ্যানথ্রোপিক শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা কোড লেখার বাইরে গিয়ে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন পেশাগত কাজের দায়িত্ব নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
তবে এ ধরনের এআই এজেন্ট কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা নিরাপদ রাখতে পারে এবং বাস্তব জীবনের জটিল কাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে পারে—সেবাগুলোর সফলতা অনেকাংশে তার ওপরই নির্ভর করবে।















