Image

রোনালদো–রহস্য: শেষটা কি এমনই হওয়ার ছিল?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 মিনিট আগে
রোনালদো–রহস্য: শেষটা কি এমনই হওয়ার ছিল?

রোনালদো–রহস্য: শেষটা কি এমনই হওয়ার ছিল?

রোনালদো–রহস্য: শেষটা কি এমনই হওয়ার ছিল?

একসময় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মানেই ছিল আলো, গোল আর ট্রফি। পর্তুগালের ইউরো ২০১৬ জয়ের অধিনায়ক, পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী—ক্লাব ফুটবলে প্রায় দুই দশক ধরে নিজের মতো করে লিখেছেন ইতিহাস।

কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে সেই রোনালদোকেই ঘিরে আবারও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডেনমার্কে পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস অবশ্য প্রকাশ্যে বলেছেন, রোনালদোর সঙ্গে তাঁর কোনো বিরোধ নেই। তবে রোনালদো নিজেই জানিয়েছেন, ফেডারেশন সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসার সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে ‘সঠিক সময়ে’ নিজের বক্তব্য জানাবেন।Reuters

তাহলে কি জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ৪১ বছরের রোনালদো? নাকি এটিও তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারের আরেকটি সাময়িক ঝড়? আপাতত নিশ্চিত উত্তর নেই। কারণ রোনালদো নিজে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত কারণ নিয়ে নানা প্রতিবেদন ও জল্পনাই রয়েছে।The Guardian

তবে একটা বিষয় নতুন নয়—ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে কোচ, ক্লাব কিংবা সতীর্থদের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন রোনালদো। ফিরে দেখা যাক সেই ঘটনাগুলো।

জুলাই ২০০৮: ‘আধুনিক দাসত্ব’ বিতর্ক

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইচ্ছা তখন প্রকাশ্য। ইউনাইটেড তাঁকে ছাড়তে রাজি না হওয়ায় রোনালদো তৎকালীন ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের বিতর্কিত ‘আধুনিক দাসত্ব’ মন্তব্যকে সমর্থন করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালের গ্রীষ্মে তিনি ইউনাইটেডেই থেকে যান এবং এক বছর পর রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমান।The Daily Star

ডিসেম্বর ২০০৮: ম্যাচ চলতেই টানেলের পথে

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে একপর্যায়ে মাঠ ছেড়ে টানেলের দিকে চলে যাওয়ায় রোনালদোকে নিয়ে তৈরি হয় নতুন আলোচনা। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন তখন জানিয়েছিলেন, রোনালদোর নিতম্বে চোট ছিল। ঘটনাটি তাঁর তীব্র আবেগ ও মাঠের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হয়ে থাকে।The Daily Star

মে ২০০৯: বদলি হওয়া নিয়ে অসন্তোষ

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে গোল করার পর রোনালদোকে তুলে নিয়েছিলেন ফার্গুসন। ডাগআউটে বসার পর তাঁর অসন্তোষ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ইউনাইটেডের হয়ে সেটিই ছিল তাঁর শেষ গোল; ওই মৌসুমের পর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন তিনি।The Daily Star

সেপ্টেম্বর ২০১২: ‘আমি খুশি নই’

গ্রানাডার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পরও উদ্‌যাপনে অনুপস্থিত ছিল স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস। ম্যাচ শেষে রোনালদো জানান, তিনি ‘পেশাগত কারণে’ অসুখী এবং বিষয়টি ক্লাব জানে। কারণটি বিস্তারিত প্রকাশ না করলেও ঘটনাটি রিয়ালে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্ম দেয়।The Daily Star

জুন ২০১৩: মরিনিওর সঙ্গে টানাপোড়েন

রিয়াল মাদ্রিদের শেষ দিকে জোসে মরিনিওর সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পর্তুগিজ কোচ পরে প্রকাশ্যেই রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁদের সম্পর্কের অবনতিও তখন স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল।الجزيرة نت

ডিসেম্বর ২০১৫: বেনিতেজ অধ্যায়

কার্লো আনচেলোত্তির পর রাফা বেনিতেজ রিয়ালের কোচ হলে তাঁর সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। বেনিতেজের কৌশল নিয়ে রোনালদোর অসন্তোষের খবরের পাশাপাশি আনচেলোত্তির প্রতি তাঁর প্রকাশ্য প্রশংসাও আলোচনায় আসে। ছয় মাসের মধ্যেই বেনিতেজের রিয়াল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।الجزيرة نت

আগস্ট ২০২১: জুভেন্টাস ছাড়ার নাটক

জুভেন্টাসে তিন মৌসুম কাটানোর পর ২০২১ সালের আগস্টে উদিনেসের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে শুরুতে না রাখায় তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি জুভেন্টাস ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে যান।

জানুয়ারি ২০২২: রাংনিকের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দ্বিতীয় অধ্যায়ে রালফ রাংনিকের অধীনে বদলি হওয়ার পর রোনালদোর অসন্তোষও প্রকাশ্যে আসে। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে তুলে নেওয়ার পর তিনি জার্সি ছুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।الجزيرة نت

ফেব্রুয়ারি ২০২২: অধিনায়কত্বের আলোচনা

রোনালদো ও হ্যারি ম্যাগুয়ারের মধ্যে অধিনায়কত্ব নিয়ে বিরোধের খবরও তখন সামনে আসে। রাংনিক অবশ্য সেই গুঞ্জনকে ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দেন এবং জানান, মৌসুমের বাকি সময়ে ম্যাগুয়ারই অধিনায়ক থাকবেন।

নভেম্বর ২০২২: পিয়ার্স মরগান সাক্ষাৎকার

টটেনহামের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই ওল্ড ট্রাফোর্ড ছেড়ে যান রোনালদো। এরপর পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও কোচ এরিক টেন হাগের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্লাবের কাছে নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ শিকার মনে হয়েছে এবং টেন হাগকে তিনি সম্মান করেন না। পরে পারস্পরিক সমঝোতায় ইউনাইটেড ছাড়েন।The Independent

ডিসেম্বর ২০২২: বিশ্বকাপে বেঞ্চে

কাতার বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে রাখেন ফার্নান্দো সান্তোস। তাঁর জায়গায় শুরু করে গনসালো রামোস হ্যাটট্রিক করেন। রোনালদো পরে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। তাঁকে বেঞ্চে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া আসে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬: আবারও বেঞ্চে, আবারও ঝড়

নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে রোনালদো পুরো সময় বেঞ্চে ছিলেন। পর্তুগাল ম্যাচটি ২–১ ব্যবধানে জেতে। এরপর কোচ জর্জ জেসুস জানান, ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদো শুরু করবেন না। সেই বক্তব্যের পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগিজ তারকা।AFP

রোনালদো বলেছেন, পরে তিনি পর্তুগালের মানুষের কাছে নিজের দিকের ‘সত্যটা’ জানাবেন। তাই এখন তাঁর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি।Reuters

২২ বছর আগে যে তরুণ রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে পথচলা শুরু করেছিলেন, ৪১ বছর বয়সে এসেও তাঁর ক্যারিয়ারে আবেগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর বিতর্ক—তিনটিই পাশাপাশি হাঁটছে। এবার প্রশ্ন একটাই—জাতীয় দলের জার্সিতে এই গল্পের শেষ অধ্যায় কি সত্যিই লেখা হয়ে গেছে, নাকি সামনে অপেক্ষা করছে আরও একটি প্রত্যাবর্তন?

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three