ডারউইনের টেস্টে বাংলাদেশের পেস ঝড়, সামনে হাসান ও তাসকিন

ডারউইনের টেস্টে বাংলাদেশের পেস ঝড়, সামনে হাসান ও তাসকিন
ডারউইনের টেস্টে বাংলাদেশের পেস ঝড়, সামনে হাসান ও তাসকিন
২২ বছর পর ডারউইনে ফিরেছে টেস্ট ক্রিকেট। নর্দান টেরিটরির রাজধানী শহরজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ—কিন্তু সেই আনন্দময় আবহের মাঝেই মাঠের ভেতরে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংকে তছনছ করে দিলেন বাংলাদেশের পেসাররা।
মারারা স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের সকালটা ছিল বিশেষ। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে এই শহরে, আর সেটি ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ৯-১০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারি থেকে শুরু করে সবুজ ঘাসের ঢিবি—সব জায়গাই ছিল দর্শকে পরিপূর্ণ।
এ ধরনের শহরে খেলা দেখতে আসা মানে শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, মাঠের বাইরের আনন্দও। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে মানুষ এসেছে উৎসব করতে। কর্মদিবস হলেও অনেকে ছুটি নিয়েছেন শুধু টেস্ট দেখতে। ব্রিসবেন থেকে আসা চার বন্ধুর একটি দল জানাল, তারা পুরো পাঁচ দিনই খেলা দেখবেন।
কিন্তু মাঠের বাইরে যখন ডারউইনবাসী টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন উদ্যাপন করছিল, মাঠের ভেতরে তখন সবুজ উইকেটে আগুন ঝরাচ্ছিলেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন।
ট্রাভিস হেডের নান্দনিক কভার ড্রাইভে যেমন হাততালি উঠছিল, তেমনি হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী স্পেলে গ্যালারি থেকে শোনা যাচ্ছিল বিস্ময়ের ধ্বনি। বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট যেন ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেটের পুরোনো সৌন্দর্যকেই ফিরিয়ে আনল।
প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়া তুলতে পারে মাত্র ৭৪ রান, হারায় ৪ উইকেট। হাসান নেন দুই উইকেট, ইবাদতের বলে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত স্লিপে নেন মারনাস লাবুশেনের দারুণ ক্যাচ। তাসকিনও খালি হাতে ফেরেননি; তাঁর বলে ক্যামেরন গ্রিন ক্যাচ দেন মুশফিকুর রহিমের হাতে। প্রথম ২২ ওভারই তিন পেসার মিলে করে দেন।
এক পর্যায়ে ট্রাভিস হেডকে বোল্ড করার পর অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিকদের কৌতূহল ঘুরে যায় হাসান মাহমুদের দিকে—“এই পেসারকে নিয়ে কোনো গল্প আছে?” এমন প্রশ্নও শোনা যায় সংবাদমাধ্যমের ভিড়ে।
ডারউইনের সকালটা যে আলাদা, তা বোঝা যাচ্ছিল মাঠে যাওয়ার আগেই। সাধারণ দিনে যেখানে ট্যাক্সি বা উবার পাঁচ মিনিটে পাওয়া যায়, সেদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ২০ মিনিট। ভাড়াও বেড়ে গিয়েছিল। শহরের মানুষের স্রোত এক দিকেই—মারারা স্টেডিয়াম।
অস্ট্রেলিয়া চাইলে বলতে পারে, এই মাঠ তাদের জন্যও অনেকটা ‘অ্যাওয়ে’ ভেন্যুর মতো। কারণ গত ২২ বছরে এখানে কোনো টেস্ট হয়নি। তবে মাঠের বাইরের পরিবেশে সেটা বোঝার উপায় ছিল না—সেখানে ছিল কেবল টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার উৎসব।
আর বাংলাদেশের জন্যও এই ম্যাচ ছিল বিশেষ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেছে তারা। প্রায় দুই যুগের অপেক্ষা, ক্ষুধা আর চ্যালেঞ্জ যেন প্রথম সেশনেই ফুটে উঠল তাদের পেস আক্রমণের আগুনে।













