বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি
- 1
বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি
- 2
৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, ব্যাটসম্যানদের আউট হওয়ার ধরন নিয়ে হতাশ কোচ সিমন্স | প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে চাপে বাংলাদেশ
- 3
জল্পনার অবসান, ২০৩২ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদেই ভিনিসিয়াস জুনিয়র
- 4
এক ভোটের ব্যবধানে ক্যারিকে হারিয়ে মুকুট ধরে রাখলেন হেড
- 5
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যক্তিগত চুক্তিতে সম্মত রদ্রি, ম্যান সিটির সামনে বড় সিদ্ধান্ত

বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি
বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস এফবিআইয়ের গোপন নথি
বিশ্বকাপের পর্দা নামার প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও টুর্নামেন্টের রোমাঞ্চকর স্মৃতি এখনো তাজা। গ্যালারির উন্মাদনা, মাঠের উত্তেজনা আর শিরোপা জয়ের উল্লাস—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশ্বকাপ ছিল এক মহোৎসব। তবে এই উৎসবের আড়ালেই ছিল উদ্বেগজনক এক নিরাপত্তাচিত্র। বিশ্বকাপ চলাকালে তারকা ফুটবলার, কোচ ও রেফারিদের লক্ষ্য করে একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্র (আইপিসিসি) পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সেই গোপন নথির একটি অংশ সম্প্রতি প্রকাশ করেছে স্পেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেনসা ইবেরিকার অনুসন্ধানী অপরাধবিষয়ক চ্যানেল। নথিগুলোতে বিশ্বকাপ ঘিরে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নিরাপত্তা হুমকির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে ও টুর্নামেন্ট চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়া ফুটবলারদের একজন ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের দিন।
টেক্সাসের ডালাস বিমানবন্দরে পুলিশকে ফোন করে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ও তাঁর দুই সহযোগী হাতে তৈরি বোমা এবং এআর-১৫ সেমিঅটোমেটিক রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁদের পরিকল্পনা ছিল পুলিশ ও দুই দলের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো। ওই হুমকির মূল লক্ষ্য ছিলেন মেসি।
আর্জেন্টিনার আরেকটি ম্যাচের আগেও ছড়ায় বোমাতঙ্ক। মিসরের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি লেখেন, তিনি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকে নিজের শরীরে বাঁধা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মেসিকে হত্যা করবেন।
শুধু অনলাইন হুমকিতেই থেমে থাকেনি ঘটনা। ম্যাচ চলাকালে পুলিশ সদর দপ্তরে ফোন করে দাবি করা হয়, স্টেডিয়ামের তিনটি ডাস্টবিনে বোমা রাখা হয়েছে। এরপর বিস্ফোরক শনাক্তকারী বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
রোনালদোকেও ঘিরে ছিল নিরাপত্তা শঙ্কা
মেসির মতো পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও বিশ্বকাপজুড়ে নানা ধরনের হয়রানি ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে।
গত ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি রোনালদোর থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। দুই দিন পর, ১৬ জুন, হিউস্টনে পর্তুগাল দলের হোটেল থেকে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কানাডার টরন্টোতেও রোনালদোকে ঘিরে নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। এক ভক্ত তাঁর কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে আটকে দেন। পরে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি শুধু রোনালদোর সঙ্গে একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।
মায়ামিতেও রোনালদোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন এক ব্যক্তি। এমনকি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে রোনালদোর জার্সি পরা এক দর্শক নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে সরাসরি মাঠে ঢুকে পড়েন।
মাঠের ভুলেও এসেছে প্রাণনাশের হুমকি
শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, মাঠের পারফরম্যান্স বা ভুলের কারণেও কয়েকজন ফুটবলারকে ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।
প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে মাঠে বাদানুবাদে জড়ানোর পর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করা হয়। ৫ ও ৬ জুলাই দেশটিতে এমবাপ্পের প্রতিকৃতি পোড়ানোর ঘটনাও ঘটে, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করার পর প্রাণনাশের হুমকি পান আতলেতিকো মাদ্রিদের নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সরলথ। শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর স্ত্রীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
পেনাল্টি মিস করার পর হুমকির মুখে পড়েন কলম্বিয়ার ফুটবলার জামিনটন ক্যাম্পাজ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে বিশ্বকাপ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফিরতেও পারেননি তিনি।
স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি দেওয়ার পর ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়েও পান গুরুতর হুমকি।
দক্ষিণ কোরিয়া দলকেও দেওয়া হয় হত্যার হুমকি
বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়ের পর সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া দল। কোচ হং মাইওং-বো এবং দলের খেলোয়াড়দের একযোগে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় কড়া পুলিশি প্রহরায় তাঁদের বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হয়।
রেফারির ব্যক্তিগত নম্বরে হাজারো হুমকি
হুমকির সংখ্যার দিক থেকে অবশ্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ার। আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার বিতর্কিত ম্যাচের পর তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বার্তার বড় অংশই এসেছিল মিসরীয় নাগরিকদের কাছ থেকে।
ওই ম্যাচের ভিএআর দায়িত্বে থাকা আরেক ফরাসি রেফারি উইলি দেলাজোদও পান প্রাণনাশের হুমকি। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফ্রান্সে লেতেক্সিয়ার ও দেলাজোদের বাড়ি এবং তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তায় আলাদা পুলিশি পাহারা বসাতে হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মাঠে ফুটবলের উত্তেজনা ও বিনোদনের আড়ালে যে এমন ভয়াবহ নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, ফাঁস হওয়া এসব নথি সেই অজানা বাস্তবতাই সামনে এনে দিয়েছে।











