নতুন নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন শাভির, বল পায়ে আধিপত্য আর জয়ের মানসিকতা চান কোচ
- 1
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী ডি ভিলিয়ার্স, দিলেন ব্যাটিংয়ের পরামর্শ
- 2
ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে মরক্কোর ১৮ বছরের ‘বিস্ময় বালক’ বুয়াদ্দি
- 3
জুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে নতুন মোড়, দরজা খুললেই বিড করবে আর্সেনাল
- 4
ঘরের মাটিতে সুইডেনের দুর্দান্ত শুরু, ৩০ পয়েন্টে হাকের ঝড়
- 5
ইরাকের কোচ হিসেবে থাকছেন গ্রাহাম আর্নল্ড, এশিয়ান কাপ পর্যন্ত চুক্তি বাড়ল

নতুন নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন শাভির, বল পায়ে আধিপত্য আর জয়ের মানসিকতা চান কোচ
নতুন নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন শাভির, বল পায়ে আধিপত্য আর জয়ের মানসিকতা চান কোচ
বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস জাতীয় ফুটবল দল। আর সেই নতুন যাত্রায় ডাচদের দায়িত্ব নিয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের কিংবদন্তি শাভি এর্নান্দেস। ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নেওয়ার পর রোনাল্ড কুমান দায়িত্ব ছাড়লে তার জায়গায় শাভিকে নিয়োগ দেয় ডাচ ফুটবল ফেডারেশন। তাঁর সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
নতুন দায়িত্বে প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নিজের পরিকল্পনা পরিষ্কার করে দিয়েছেন শাভি। তিনি শুধু ফলাফল নয়, এমন একটি দল তৈরি করতে চান যারা আক্রমণাত্মক, সাহসী, বল দখলে দক্ষ এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সক্ষম।
শাভির কাছে অবশ্য লক্ষ্যটা আরও বড়। তিনি চান নেদারল্যান্ডস শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক তা নয়, জয়ের জন্যই মাঠে নামুক।
“আমরা এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে, উপভোগ করতে এবং জিততে এসেছি। আমি জোর দিয়ে বলছি, আমরা এখানে জিততে এসেছি।”
বার্সেলোনায় খেলোয়াড় হিসেবে যে ফুটবল দর্শনের মধ্যে বেড়ে উঠেছেন, তার সঙ্গে ডাচ ফুটবলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে শাভির। লা মাসিয়া একাডেমিতে তাঁর বেড়ে ওঠায় ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনুস মিশেলসের ফুটবল দর্শনের প্রভাব ছিল। তাই নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াকে তিনি নিজের ফুটবল-শিকড়ের কাছাকাছি ফিরে আসার মতোই দেখছেন।
নতুন নেদারল্যান্ডসে কেমন ফুটবল চান শাভি?
শাভির পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে বল দখল ও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। তিনি এমন একটি দল গড়তে চান, যারা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করবে, সাহস নিয়ে সামনে খেলবে এবং নিজেদের ফুটবল দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে।
তাঁর মতে, নেদারল্যান্ডসের দলে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। এখন প্রয়োজন তাদের একসঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী দল তৈরি করা।
“আমাদের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি দল, একটি গ্রুপ তৈরি করা। আমরা এমন একটি সাহসী দল চাই, যারা খেলায় আধিপত্য করবে এবং বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ রাখবে,”—নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন শাভি।
শুধু কৌশলগত দিক নয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে আবেগ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জয়ের ক্ষুধা তৈরি করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
৪৮ বছর পর নেদারল্যান্ডসের বিদেশি কোচ
শাভির নিয়োগ নেদারল্যান্ডস ফুটবলের জন্যও বেশ বিশেষ। তিনি প্রায় ৪৮ বছর পর ডাচ জাতীয় দলের প্রথম বিদেশি কোচ।
এর আগে সর্বশেষ বিদেশি কোচ হিসেবে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্বে ছিলেন অস্ট্রিয়ার এর্নস্ট হ্যাপেল। তাঁর অধীনে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছিল ডাচরা।
অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পর একজন বিদেশি কোচের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে ডাচ ফুটবল ফেডারেশন। আর সেই দায়িত্ব পেয়েছেন এমন একজন, যার ফুটবল দর্শনের সঙ্গে ডাচ ‘টোটাল ফুটবল’-এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুন শুরু
২০২৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের অভিযান শেষ হয় শেষ ৩২-এ। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় তারা। এরপরই রোনাল্ড কুমান দায়িত্ব ছাড়েন।
এখন সেই হতাশা কাটিয়ে দলকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব শাভির।
তিনি আগের ফলাফল নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। তাঁর নজর বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে। শাভির বার্তা পরিষ্কার—নতুন কোচ হিসেবে তিনি অতীতের হিসাব নয়, ভবিষ্যতের একটি শক্তিশালী নেদারল্যান্ডস গড়ে তুলতে চান।
সামনে জার্মানির বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা
শাভির জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন অভিষেক। ২৪ সেপ্টেম্বর আমস্টারডামের Johan Cruijff ArenA-তে UEFA Nations League ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস। এই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের কোচ হিসেবে শাভির আনুষ্ঠানিক অভিষেক হবে।
অর্থাৎ নতুন কোচের প্রথম পরীক্ষাই ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল জার্মানির বিপক্ষে।
শাভির জন্য ম্যাচটি শুধু অভিষেক নয়, তাঁর ফুটবল দর্শন কতটা দ্রুত দলটির মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন, তারও প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বড় পরিকল্পনা
শাভির সঙ্গে ডাচ ফেডারেশনের চুক্তি ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। অর্থাৎ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন কোচ ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং তাঁর কোচিং স্টাফও চূড়ান্ত হয়েছে। সাবেক নেদারল্যান্ডস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা রুড ভান নিস্টেলরয়ও তাঁর সহকারী কোচিং স্টাফের অংশ হয়েছেন।
সব মিলিয়ে শাভির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নেদারল্যান্ডসের প্রতিভাবান প্রজন্মকে এক সুসংগঠিত দলে পরিণত করা এবং ডাচদের আবার ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ লড়াইয়ে নিয়ে আসা।
বল পায়ে আধিপত্য, সাহসী ফুটবল, দলীয় ঐক্য এবং জয়ের মানসিকতা—এই চার অস্ত্রেই নতুন নেদারল্যান্ডস গড়তে চান শাভি।












