ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
- 1
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী ডি ভিলিয়ার্স, দিলেন ব্যাটিংয়ের পরামর্শ
- 2
ম্যানচেস্টার সিটির মাঝমাঠে মরক্কোর ১৮ বছরের ‘বিস্ময় বালক’ বুয়াদ্দি
- 3
জুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে নতুন মোড়, দরজা খুললেই বিড করবে আর্সেনাল
- 4
ঘরের মাটিতে সুইডেনের দুর্দান্ত শুরু, ৩০ পয়েন্টে হাকের ঝড়
- 5
ইরাকের কোচ হিসেবে থাকছেন গ্রাহাম আর্নল্ড, এশিয়ান কাপ পর্যন্ত চুক্তি বাড়ল

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়ল। দেশটির অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চাপে ফেলতে নতুন করে বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নতুন পদক্ষেপে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক, তেল বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক রয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতা শুধু ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠানকেও চাপের মুখে ফেলছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও জাহাজ পরিবহনসহ বেশ কয়েকটি খাত নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
মার্কিন পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই চাপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা প্রস্তুত।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সময়ে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাও। গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়ছে।
আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি এখন স্ট্রেইট অব হরমুজ বা হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এই জলপথে অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করছে। দুই দেশ একটি অস্থায়ী নৌপথ বা করিডর চালুর পাশাপাশি সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণের বিষয়েও কাজ করার কথা জানিয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই অস্থায়ী ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার অর্থ নয়। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
তেলের বাজারেও প্রভাব
হরমুজ ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক আলোচনার কারণে সরবরাহ নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হওয়ায় তেলের দাম কমেছে। বুধবারের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮৮.৫৮ ডলার এবং WTI প্রায় ৮২.৩৬ ডলারে অবস্থান করেছে।
তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
চীনও নজরে রাখছে পরিস্থিতি
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। ইরানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন চাপের আওতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বেইজিং ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংকট শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে চীন, ওমান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য।
সব মিলিয়ে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান আলোচনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এখন মূল প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অর্থনৈতিক চাপ কি ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে?











