৮৫ রানের ম্যাচ থেকে জন্ম ‘অ্যাশেজ’, নেপথ্যে ছিলেন এক সাংবাদিক
- 1
৩৯ বছরেও অপ্রতিরোধ্য মেসি, চার গোলে মায়ামির বিশাল জয় ফ্রি-কিক ম্যাজিকসহ মেসির চার গোল, ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত মন্ট্রিল
- 2
ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে বাবা-ছেলের স্বীকারোক্তি, বাজেয়াপ্ত হবে ৫ কোটি ডলার
- 3
চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র: সহজ সূচি কার, কঠিন চ্যালেঞ্জে কারা
- 4
পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ‘দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি দল’ বললেন মাইকেল ভন
- 5
বেলজিয়ামে টি-টেনের রোমাঞ্চ: ৬ হাজারের বেশি রান, ছক্কার বন্যায় জেনকের দাপট

৮৫ রানের ম্যাচ থেকে জন্ম ‘অ্যাশেজ’, নেপথ্যে ছিলেন এক সাংবাদিক
৮৫ রানের ম্যাচ থেকে জন্ম ‘অ্যাশেজ’, নেপথ্যে ছিলেন এক সাংবাদিক
ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথ—অ্যাশেজ। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার এই লড়াইয়ে দুই দল মাঠে নামে যে ট্রফির জন্য, সেটি আসলে একটি ছোট্ট ছাইদানি। কিন্তু সেই ছাইদানির পেছনের গল্পটি আরও রোমাঞ্চকর। ১৮৮২ সালের একটি অবিশ্বাস্য টেস্ট, অস্ট্রেলিয়ার ৭ রানের জয় এবং এক সাংবাদিকের ব্যঙ্গাত্মক ‘শোকবার্তা’ থেকেই জন্ম নেয় ‘অ্যাশেজ’ নামটি।
কল্পনার জগতে যদি অ্যাশেজের জন্মকথা বলা হয়, তাহলে গল্পের কেন্দ্রে থাকবেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ফ্রেড স্পফোর্থ—‘দ্য ডেমন’। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংয়েই ১৮৮২ সালের ওভাল টেস্টে মাত্র ৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৭৭ রানে অলআউট হয়েছিল ইংল্যান্ড।
স্বর্গের এক ক্রিকেট আড্ডায় স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অনুরোধে সেই গল্প বলতে শুরু করলেন স্পফোর্থ। প্রথমেই উঠে এল সাংবাদিক রেজিনাল্ড ব্রুকসের নাম।
১৮৮২ সালের ওই টেস্টে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল মাত্র ৭ রানে। ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ৮৫। কিন্তু স্পফোর্থের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকেরা গুটিয়ে যায় ৭৭ রানে। ইংল্যান্ডের হয়ে ডব্লিউ জি গ্রেস করেছিলেন ৩২ রান, আর স্পফোর্থ দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ১৪ উইকেট।
তবে ম্যাচটি শুধু ফলাফলের কারণে ইতিহাসে অমর হয়নি। ম্যাচের পরের ঘটনাই তৈরি করে ক্রিকেটের সবচেয়ে বিখ্যাত নাম—‘অ্যাশেজ’।
ইংল্যান্ডের ক্রীড়া সাপ্তাহিক স্পোর্টিং টাইমস-এ প্রকাশিত হয় ইংলিশ ক্রিকেটের একটি ব্যঙ্গাত্মক ‘অবিচ্যুয়ারি’ বা শোকবার্তা। সেখানে বলা হয়, ইংলিশ ক্রিকেট মারা গেছে এবং তার ছাই অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে।
এই ব্যঙ্গাত্মক লেখার লেখক ছিলেন রেজিনাল্ড ব্রুকস। তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও লেখক, স্পোর্টিং টাইমস-এ কাজ করতেন। পাশাপাশি বিখ্যাত ব্যঙ্গ ম্যাগাজিন পাঞ্চ-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে তাঁর লেখা সেই ছোট্ট ব্যঙ্গই ক্রিকেট ইতিহাসে স্থায়ী করে দেয় ‘অ্যাশেজ’ নামটি।
ওভাল টেস্টের আগে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ এতটা তীব্র ছিল না। আগের আট টেস্টের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া জিতেছিল চারটি, ইংল্যান্ডের জয় ছিল দুটি। কিন্তু ৮৫ রানের লক্ষ্য রক্ষা করে ৭ রানের জয়টি ছিল বিশেষ—তখন পর্যন্ত টেস্ট ইতিহাসে এত কম ব্যবধানে কোনো ম্যাচের ফল হয়নি।
ম্যাচটির আরেকটি আলোচিত ঘটনা ছিল স্যামি জোন্সের রানআউট। রান নেওয়ার পর বল ডেড ধরে নিয়ে জোন্স উইকেটের সামনে গিয়ে ব্যাট দিয়ে পিচে গার্ড নিতে শুরু করেন। ইংল্যান্ডের ডব্লিউ জি গ্রেস তখন বেল ফেলে আপিল করেন এবং আম্পায়ার তাঁকে আউট দেন। পরের ব্যাটসম্যান হিসেবে নামা স্পফোর্থও শূন্য রানে আউট হন।
সেই টেস্টে স্পফোর্থ অবশ্য ব্যাট হাতেও ইতিহাস গড়েছিলেন। তাঁর ৫০ রান ছিল টেস্ট ইতিহাসে ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের প্রথম ফিফটি। পরবর্তী ২১ বছর সেটিই ছিল ১১ নম্বর ব্যাটসম্যানের একমাত্র টেস্ট ফিফটি।
অ্যাশেজের জন্মকথায় আরও একটি বিচিত্র অধ্যায় আছে। ১৮৮২ সালের পরের ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে আম্পায়ারিং নিয়ে তৈরি হয়েছিল অদ্ভুত পরিস্থিতি। নির্ধারিত আম্পায়ারদের একজন মারা যান, আরেকজন দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে বিভিন্ন সময়ে আম্পায়ারিং করাতে হয়।
তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় রেজিনাল্ড ব্রুকসের সেই ব্যঙ্গাত্মক শোকবার্তা। তাঁর লেখার পর থেকেই ইংলিশ ক্রিকেটের ‘ছাই’কে ঘিরে তৈরি হয় নতুন এক প্রতীক। পরে সেই ছাই থেকেই জন্ম নেয় ছোট্ট বিখ্যাত ট্রফি—দ্য অ্যাশেজ।
অর্থাৎ, একটি ৭ রানের জয় শুধু একটি সিরিজের ইতিহাস বদলায়নি; জন্ম দিয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে আবেগময় দ্বৈরথের নামও।















