বেলজিয়ামে টি-টেনের রোমাঞ্চ: ৬ হাজারের বেশি রান, ছক্কার বন্যায় জেনকের দাপট
- 1
৩৯ বছরেও অপ্রতিরোধ্য মেসি, চার গোলে মায়ামির বিশাল জয় ফ্রি-কিক ম্যাজিকসহ মেসির চার গোল, ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত মন্ট্রিল
- 2
ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে বাবা-ছেলের স্বীকারোক্তি, বাজেয়াপ্ত হবে ৫ কোটি ডলার
- 3
পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ‘দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি দল’ বললেন মাইকেল ভন
- 4
চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র: সহজ সূচি কার, কঠিন চ্যালেঞ্জে কারা
- 5
বেলজিয়ামে টি-টেনের রোমাঞ্চ: ৬ হাজারের বেশি রান, ছক্কার বন্যায় জেনকের দাপট

বেলজিয়ামে টি-টেনের রোমাঞ্চ: ৬ হাজারের বেশি রান, ছক্কার বন্যায় জেনকের দাপট
বেলজিয়ামে টি-টেনের রোমাঞ্চ: ৬ হাজারের বেশি রান, ছক্কার বন্যায় জেনকের দাপট
বেলজিয়ামের ECS Belgium (Premier), 2026 আসরটি পরিণত হয়েছে দারুণ এক টি-টেন রান-উৎসবে। ব্রাসেলসের ভ্রিজব্রুক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ব্যাটসম্যানদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নিয়মিতই উড়ছে বল সীমানার বাইরে। একই সঙ্গে বোলাররাও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ধরে রেখেছেন। পাঁচ দিনের এই জমজমাট আসরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছে জেনক—তাদের জয় ৭টি।
টুর্নামেন্টের পরিসংখ্যানে এক নজরে
ECS প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে আয়োজিত ECS Belgium (Premier), 2026 শুরু হয়েছে ২৪ আগস্ট এবং চলবে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। পাঁচটি দল অংশ নিচ্ছে এই আসরে।
২৪টি ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও টুর্নামেন্টটি চলমান। এরই মধ্যে ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে প্রচুর রান, শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা এবং বেশ কিছু দুর্দান্ত ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।
প্রথমে ব্যাট করা দলগুলোর সাফল্যের হার সামান্য বেশি—৫৪ শতাংশ ম্যাচে জয় পেয়েছে আগে ব্যাট করা দল। অর্থাৎ টি-টেনে প্রথমে বড় সংগ্রহ দাঁড় করানো কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে রান তাড়া করেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে দুর্দান্ত জয় এসেছে।
২৪ ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৬ হাজার ৩৮, রান রেট ১৪.১ রান প্রতি ওভার। অর্থাৎ প্রতি বলে গড়ে ২.০৯ রান করে এসেছে, যা ১০০ বলে ২০৯ রানের সমান—টি-টেনের প্রকৃত আগ্রাসী ব্যাটিংয়েরই প্রতিচ্ছবি।
এখন পর্যন্ত ব্যাটসম্যানরা মেরেছেন ৩৯৩টি চার ও ৫১৮টি ছক্কা। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৫ বলেই এসেছে একটি ছক্কা। চার ও ছক্কা থেকেই এসেছে মোট ৪ হাজার ৬৮০ রান, যা মোট রানের প্রায় ৭৮ শতাংশ।
অন্যদিকে বোলার ও ফিল্ডারদেরও কম কৃতিত্ব নেই। ২৪ ম্যাচে পড়েছে ২৫৯টি উইকেট। প্রতি ১০ ওভারে গড়ে ৬টি করে উইকেট এসেছে এবং প্রতি উইকেটে ব্যাটসম্যানদের গড় রান ২৩.৩। মোট বলের প্রায় ৩৪ শতাংশ ছিল ডট বল—অর্থাৎ প্রচুর রান ওঠার মাঝেও চাপ তৈরি করার সুযোগ পেয়েছেন বোলাররা।
ব্যাটিংয়ে সবার ওপরে নাওয়িদ মোমান্দ
জেনকের নাওয়িদ মোমান্দ এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৯ ম্যাচে তাঁর রান ৩৫৮। ছক্কার তালিকাতেও তিনি সবার ওপরে। ৭ ম্যাচে মেরেছেন ৩৯টি ছক্কা।
টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসটি খেলেছেন ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্সের বুরহান নিয়াজ। এলিমিনেটরে রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্প সিসির বিপক্ষে মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ১১২ রান করেন তিনি।
বুরহানের সেই বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্স গড়ে ১০ ওভারে ২০৩/১—এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
একই এলিমিনেটরে আরও একটি রেকর্ড গড়ে ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্স। রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্পের বিপক্ষে সপ্তম ওভারে তারা তুলে নেয় ৩৭ রান, যা এক ওভারে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান।
রান তাড়াতেও এসেছে দারুণ নাটকীয়তা। ১৭তম ম্যাচে ১৬৬ রান তাড়া করে হাসেল্ট সিসিকে ৩ উইকেটে হারায় জেনক, তাও শেষ বলে। অন্যদিকে ১১তম ম্যাচে মাত্র ৭৬ রান পুঁজি করে রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্প সিসিকে ৪৯ রানে হারিয়ে সবচেয়ে কম রান ডিফেন্ড করার রেকর্ড গড়ে ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্স।
বোলিংয়ে বেভেরেনের নোমানের দাপট
টি-টেনের দ্রুতগতির ক্রিকেটে বোলারদের জন্য প্রতিটি উইকেটই মূল্যবান। সেই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সবার ওপরে বেভেরেনের মোহাম্মদ নোমান, ৭ ম্যাচে তাঁর শিকার ১৬ উইকেট।
সেরা বোলিং ফিগার অবশ্য রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্প সিসির ওয়াহিদুল্লাহ জাবরখেলের। হাসেল্ট সিসির বিপক্ষে ১৮তম ম্যাচে মাত্র ১ ওভারে ৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি—টি-টেনে অবিশ্বাস্য এক স্পেল।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সেরা মোহাম্মদ নোমান কামাভি
টুর্নামেন্টের মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন বেভেরেনের মোহাম্মদ নোমান কামাভি।
তিনি ৯ ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ব্যাট হাতে ৫০ বলে করেছেন ১১৫ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩০.০ এবং গড় ১২.৮। তাঁর মোট রানের ৬৮ শতাংশ এসেছে চার ও ছক্কা থেকে।
এখন পর্যন্ত তাঁর ছক্কা ১৩টি, প্রতি ১০ ওভারে ছক্কার হার ১৫.৬। জেনকের বিপক্ষে ২৫ আগস্ট তাঁর সেরা ব্যাটিং—মাত্র ১২ বলে ৪১ রান। ওই ইনিংসেই মেরেছেন ৬টি ছক্কা।
বল হাতেও সমান কার্যকর নোমান কামাভি। ৯৯ বল করে ১৯২ রান দিয়ে নিয়েছেন ১৬ উইকেট। তাঁর ইকোনমি রেট ১১.৬ এবং প্রতি ৬.২ বলে একটি করে উইকেট পেয়েছেন। হাসেল্ট সিসির বিপক্ষে ২৪ আগস্ট ২.১ ওভারে ১৬ রানে ৪ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং।
ফিল্ডিংয়েও দারুণ লড়াই
উইকেটকিপারদের মধ্যে বেভেরেনের ওয়ালিদ সাহিবজাদা ৭ ম্যাচে ৭টি ডিসমিসাল নিয়ে শীর্ষে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং।
ফিল্ডারদের তালিকায় এগিয়ে আছেন ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্সের শেরি বাট। মাত্র ৪ ম্যাচে তাঁর ডিসমিসাল ৯টি—এর মধ্যে ৮টি ক্যাচ এবং একটি রানআউট।
জয় সংখ্যায় শীর্ষে জেনক
টুর্নামেন্টের ২৪ ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছে জেনক—৭টি। নাওয়িদ মোমান্দের ব্যাটিং নৈপুণ্য, ছক্কার ঝড় এবং হাসেল্ট সিসির বিপক্ষে শেষ বলে ১৬৬ রান তাড়া করে পাওয়া জয় তাদের আসরের অন্যতম আলোচিত দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অন্যদিকে ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্সের ২০৩/১, ওয়াহিদুল্লাহ জাবরখেলের ৪/৩, বেভেরেনের দুর্দান্ত বোলিং এবং হাসেল্ট সিসির নাটকীয় ম্যাচগুলো মিলিয়ে ECS Belgium (Premier), 2026 উপহার দিচ্ছে দারুণ এক ক্রিকেট-উৎসব।
বেভেরেন, জেনক, হাসেল্ট সিসি, রয়্যাল অ্যান্টওয়ার্প সিসি ও ব্রাসেলস ক্যাপিটাল ওয়ারিয়র্স—এই পাঁচ দলের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেই জমে উঠেছে ব্রাসেলসের ভ্রিজব্রুক ক্রিকেট গ্রাউন্ডের এই টি-টেন আসর।















