আয়ের পাহাড়ের আড়ালে আর্থিক সংকট, ধুঁকছে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ফুটবল ক্লাব
- 1
দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে আলাদা সাবিলা নূর, বিচ্ছেদের গুঞ্জন
- 2
সুইমিংপুলে পরীমনির ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল, কয়েক ঘণ্টায় ১৬ লাখ ভিউ
- 3
নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা
- 4
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেভারিট বার্সেলোনা? ফ্লিকের সতর্ক বার্তা, ‘পথটা অনেক দীর্ঘ’
- 5
অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

আয়ের পাহাড়ের আড়ালে আর্থিক সংকট, ধুঁকছে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ফুটবল ক্লাব
আয়ের পাহাড়ের আড়ালে আর্থিক সংকট, ধুঁকছে ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ফুটবল ক্লাব
টাকার ঝনঝনানি, কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়াম আর গ্ল্যামারের ঝলক—ইংলিশ ফুটবল মানেই যেন বিপুল অর্থের হাতছানি। কিন্তু এই চাকচিক্যের আড়ালে আর্থিক সংকটে ধুঁকছে দেশটির অনেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। মালিকেরা অর্থের জোগান বন্ধ করে দিলে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাব এক মাসও টিকে থাকতে পারবে না। এমন উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে ইংল্যান্ডের নতুন স্বাধীন ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (আইএফআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।
‘স্টেট অব দ্য গেম’ শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ পাঁচ স্তরের ৯৪ শতাংশ ক্লাব লোকসান করেছে। অথচ গত মৌসুমে ইংলিশ ফুটবলের মোট আয় ছিল ৯০০ কোটি পাউন্ড। প্রিমিয়ার লিগের বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তা এই বিপুল আয়ের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে আয়ের অঙ্ক বড় হলেও ক্লাবগুলোর আর্থিক ভিত্তি যে ততটা শক্ত নয়, প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই বাস্তবতা।
মালিকদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল ক্লাবগুলো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের প্রায় সব পেশাদার ক্লাবই আর্থিকভাবে টিকে থাকতে মালিকদের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্লাব জানিয়েছে, মালিকেরা হঠাৎ অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দিলে ৯০ দিনের বেশি টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্লাবের হাতে সময় থাকবে সর্বোচ্চ এক মাস।
আইএফআরের মূল্যায়নে, ইংলিশ ফুটবল এখন ‘ঝুঁকিতে ঠাসা এক খেলা’। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নশিপ, লিগ ওয়ান ও লিগ টুরের ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগের বিপুল আয়ের অংশ পাওয়ার আশায় সামর্থ্যের বাইরে খরচ করছে। এর ফলে বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক চাপ এবং ক্লাবগুলোর অস্তিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা।
আর্থিক সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবও
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকটি পরিচিত ক্লাব আর্থিক সংকটে পড়েছে। শেফিল্ড ওয়েনসডে, ডার্বি কাউন্টি, রিডিং ও উইগান অ্যাথলেটিকের মতো ক্লাবকে নানা আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে ২০১৯ সালে বিলুপ্ত হয় বুরি ফুটবল ক্লাব। পরের বছর একই পরিণতি হয় ম্যাকলসফিল্ড টাউনের। এসব ঘটনা ইংলিশ ফুটবলের আর্থিক কাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আইএফআরের চেয়ারম্যান ডেভিড কোগান ও প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মঙ্কস প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘ইংলিশ ফুটবলে যে মাত্রার আর্থিক ঝুঁকি স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তা মোকাবিলায় আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই।’
রাজস্ব বণ্টনে নতুন চুক্তির আহ্বান
২০২৭ সালের শুরুতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে আইএফআরের। এর আগে প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগকে (ইএফএল) রাজস্ব বণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। সমঝোতা না হলে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
প্রিমিয়ার লিগ অবশ্য আগামী ১০ বছরে নিম্নস্তরের ক্লাবগুলোকে দেওয়া আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান টম গ্রেটরেক্স এই প্রতিবেদনকে ইংলিশ ফুটবলের জন্য ‘বিপৎসংকেত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্রিটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডিও ক্লাবগুলোর সঙ্গে সমর্থকদের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘এই ক্লাবগুলো সমর্থকদের। সমর্থকদের ছাড়া এগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।’
ইংলিশ ফুটবলের বিপুল আয় ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার বিপরীতে ক্লাবগুলোর আর্থিক দুর্বলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাজস্ব বণ্টনে পরিবর্তন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে ঐতিহ্যবাহী আরও ক্লাব সংকটে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই ফুটে উঠেছে আইএফআরের প্রতিবেদনে।















