মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 1
দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে আলাদা সাবিলা নূর, বিচ্ছেদের গুঞ্জন
- 2
সুইমিংপুলে পরীমনির ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল, কয়েক ঘণ্টায় ১৬ লাখ ভিউ
- 3
নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা
- 4
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেভারিট বার্সেলোনা? ফ্লিকের সতর্ক বার্তা, ‘পথটা অনেক দীর্ঘ’
- 5
অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতের টান, যেভাবে কেটেছিল নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো

মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে দুই অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরী মণির মুখ ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিডিওগুলো আসল নয়; ফেস সোয়াপ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্য ভিডিওতে অভিনেত্রীদের মুখ বসিয়ে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে।
ঘটনার পর মাছরাঙা টেলিভিশন জানিয়েছে, তারা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে এবং ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি, হ্যাকিংয়ের দাবি সামনে আসার পরও অ্যাকাউন্টে নিয়মিত সংবাদ কনটেন্ট প্রকাশিত হওয়া এবং ভিডিওগুলো দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান থাকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কী ঘটেছিল?
১৩ অক্টোবর ভোররাতে মাছরাঙা টেলিভিশনের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর দৃশ্যসংবলিত পাঁচটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ভিডিওতে মেহজাবীন চৌধুরী ও পরী মণির মতো দেখতে নারীদের দেখা যায়। ভিডিওগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মাছরাঙা টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া ম্যানেজার মাহমুদ রুবেল সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্টকে জানান, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভিডিওগুলো এআই প্রযুক্তিতে সম্পাদিত
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আলোচিত ভিডিও দুটি মূলত অন্য ভিডিও থেকে সম্পাদনা করা হয়েছে। ফেস সোয়াপ প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল ভিডিওতে থাকা নারীদের মুখের জায়গায় মেহজাবীন চৌধুরী ও পরী মণির মুখ বসানো হয়। মূল ভিডিওগুলোতে এই দুই অভিনেত্রীর উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, ভিডিওগুলোকে অভিনেত্রী দুজনের আসল ভিডিও হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। এমন কনটেন্টের প্রচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
হ্যাকের দাবি ওঠার পরও কেন চলেছে পোস্ট?
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে থাকলে সেখানে নিয়মিত সংবাদ কনটেন্ট প্রকাশিত হলো কীভাবে। রিউমর স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আপত্তিকর ভিডিওগুলো প্রকাশের পরও অ্যাকাউন্টটিতে আরও ১৭টি সংবাদ কনটেন্ট দেখা যায়। সেগুলোর অধিকাংশই আগে ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে প্রকাশিত পুরোনো সংবাদ ছিল।
এ ছাড়া, অ্যাকাউন্ট থেকে একজনকে অনুসরণ করার ঘটনাও সামনে আসে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে অনেকে হ্যাকিংয়ের দাবির সময়কাল ও অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্বাভাবিক পোস্ট ও ভিডিও সরাতে দেরির ব্যাখ্যা
রিউমর স্ক্যানারের সঙ্গে পরবর্তী যোগাযোগে মাছরাঙা টেলিভিশনের মাল্টিমিডিয়া ম্যানেজার মাহমুদ রুবেল জানান, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করার সময় সেখানে ১২ থেকে ১৩টি আপত্তিকর ভিডিও দেখতে পান তারা।
তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাছরাঙার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি তাদের ফেসবুক পেজের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে ফেসবুকে প্রকাশিত কনটেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টাগ্রামেও চলে যায়। এই সংযোগ ব্যবহার করে ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিওগুলো সরানোর চেষ্টা করা হয়। এতে অধিকাংশ ভিডিও সরানো সম্ভব হলেও আলোচিত পাঁচটি ভিডিও থেকে যায়।
মাহমুদ রুবেলের দাবি, হ্যাকাররা ওই পাঁচটি ভিডিও বুস্ট করে বিজ্ঞাপন চালাচ্ছিল। সেগুলো সরাতে বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপকের সহায়তা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ওই সময় ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি অ্যাড ম্যানেজারও তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত সংবাদ কনটেন্টগুলো ফেসবুক থেকেই পোস্ট করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্বীকার তামজিদ রোকনের
ঘটনার পর ফেসবুকে কয়েকজন ব্যবহারকারী মাছরাঙা টেলিভিশনের সাবেক কর্মী তামজিদ রোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। তাঁদের কেউ কেউ দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তামজিদ রোকন রিউমর স্ক্যানারের কাছে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বরং তিনি ঘটনাটি সমাধানে মাছরাঙা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করেছেন।
মাহমুদ রুবেলও রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন, তামজিদ রোকন সমস্যা সমাধানে তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে যাচাই করা তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার ও মামলা
মাছরাঙা টেলিভিশন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ভোররাতে তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বনানী থানা, সিআইডি, বিটিআরসি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় দিনব্যাপী প্রচেষ্টার পর অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয় এবং আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ভুয়া কনটেন্ট শেয়ার না করা এবং যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে মাহমুদ রুবেল রিউমর স্ক্যানারকে জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

পরী মণির নামে ছড়িয়েছে ভুয়া বক্তব্য
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে। ‘Sayma Mahi’ নামের একটি ফেসবুক পেজে মাছরাঙা টেলিভিশনের আদলে তৈরি ফটোকার্ডে পরী মণির নামে একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, অভিনেত্রী বলেছেন, তাঁকে নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা হলে তিনি কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার ভিডিও ফাঁস করবেন।
তবে রিউমর স্ক্যানারের যাচাই অনুযায়ী, পরী মণি এ বিষয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যটিও ভুয়া।
যাচাই ছাড়া কনটেন্ট ছড়ানোর ঝুঁকি
মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও এবং পরবর্তী সময়ে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া বক্তব্যের ঘটনা দেখিয়েছে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট কত সহজে বাস্তব ব্যক্তি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এ ধরনের ভিডিও বা ফটোকার্ড দেখেই তা সত্য বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। মূল উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য ফ্যাক্টচেকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কারও মুখ ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্ট শেয়ার করলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি আরও বাড়াতে পারে।
মাছরাঙা টেলিভিশন জানিয়েছে, তারা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করে ভিডিওগুলো সরিয়েছে এবং আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগের মতো দাবিগুলোও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া প্রচার করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।













