বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েবস্টার ও গ্রিনকে একসঙ্গেই নামানোর ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েবস্টার ও গ্রিনকে একসঙ্গেই নামানোর ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েবস্টার ও গ্রিনকে একসঙ্গেই নামানোর ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া
ওয়েবস্টার-গ্রিন জুটি নিয়েই ভাবনায় অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশের বিপক্ষে মিলতে পারে চমক
বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ নিয়ে সবচেয়ে বড় কৌতূহল তৈরি হয়েছে একটি জায়গা ঘিরে। প্রশ্নটা এখন—ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টার কি একসঙ্গে খেলবেন, নাকি দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নেবে অস্ট্রেলিয়া?
দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে একাদশে রাখলে বাড়তি বোলিং বিকল্প পাওয়া যাবে, আর অতিরিক্ত একজন ব্যাটসম্যান খেলালে সুযোগ পেতে পারেন জশ ইংলিস। তবে সাম্প্রতিক অনুশীলন ও টিম ম্যানেজমেন্টের ইঙ্গিত বলছে, অস্ট্রেলিয়া ওয়েবস্টার-গ্রিন জুটিকে একসঙ্গে খেলানোর দিকেই ঝুঁকছে।
অনুশীলনে মিলল গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং অনুশীলনে ওয়েবস্টারকে প্রথম স্লিপে ফিল্ডিং করতে দেখা গেছে। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ একাদশ ভাবনায় থাকা ক্রিকেটারদেরই এমন পজিশনে প্রস্তুত করা হয়। ফলে ধারণা জোরালো হয়েছে, গ্রিন ও ওয়েবস্টার—দুজনই বাংলাদেশের বিপক্ষে একাদশে থাকতে পারেন।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওয়েবস্টার নিজেও দুজনের একসঙ্গে খেলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।
গ্রিন এগিয়ে, তবে ওয়েবস্টারও জোরালো দাবিদার
অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা এখনও ক্যামেরন গ্রিনের ওপরই বেশি। প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও তিনি ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ওয়েবস্টার সীমিত সুযোগে নিজেকে যেভাবে মেলে ধরেছেন, তা নির্বাচকদের ভাবিয়ে তুলেছে।
গত বছরের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি করেছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত ৮ টেস্টে তাঁর ফিফটি ৫টি, ব্যাটিং গড় ৪১.০৯। শুধু রানই নয়, কঠিন পরিস্থিতিতে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
“আমাকে বাদ দেওয়া কঠিন করে তুলতে চাই”
৩২ বছর বয়সী ওয়েবস্টার বলছেন, তাঁর লক্ষ্য একটাই—নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে একাদশ থেকে বাদ পড়া কঠিন করে তোলা।
“আমি শুধু আমার কাজটা করতে পেরে খুশি। সেটা ব্যাট, বল বা ফিল্ডিং—যেভাবেই হোক দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। আমরা দুজনই অলরাউন্ডার, তবে মূলত ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি প্রচুর রান করে এই দলে জায়গা করে নিয়েছি। প্রথম আট টেস্টে যা করেছি, তা হয়তো প্রমাণ করেছে যে আমাকে একজন সত্যিকারের টপ-সিক্স ব্যাটসম্যান হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে।”
নিজের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
শেফিল্ড শিল্ডে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছিলেন ওয়েবস্টার। তবে শুরুতে নিজের সক্ষমতা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল তাঁর মধ্যে। এখন সেই সংশয় কাটিয়ে ওঠাকেই তিনি সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করছেন।
“অভিষেকের পর সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা শিখেছি, তা হলো আমি এই স্তরের জন্য যথেষ্ট ভালো। মাঠে নেমে আন্তর্জাতিক বোলারদের মোকাবিলা করার পরই আসল আত্মবিশ্বাস এসেছে।”
গ্রিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং বাড়তি শক্তি
ওয়েবস্টার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি বিষয়টিকে সরাসরি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না।
“একসঙ্গে দুজন খেলতে না পারার কারণ আমি দেখি না। প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে অতিরিক্ত বোলিং বিকল্প থাকা অধিনায়কের জন্য বড় সুবিধা। ক্যামেরনের সঙ্গে খেলতে আমার খুব ভালো লাগে। বিকল্প যত বেশি, দলের জন্য তত ভালো।”
তিনি আরও যোগ করেন, মূল তিন পেসার ও স্পিনারকে রোটেট করার প্রয়োজন হলে তিনি ও গ্রিন দুজনই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারবেন।
আগে একসঙ্গে খেলেছেন, এবার কী হবে?
এমন নয় যে ওয়েবস্টার ও গ্রিন আগে একসঙ্গে খেলেননি। ওয়েবস্টারের খেলা ৮ টেস্টের মধ্যে ৫টিতেই ছিলেন গ্রিনও। তবে নতুন মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া কোন কম্বিনেশনকে অগ্রাধিকার দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সাধারণত অস্ট্রেলিয়া টেস্টের আগের দিন একাদশ ঘোষণা করে। তাই বুধবারই জানা যেতে পারে, বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ওয়েবস্টার-গ্রিন জুটি একসঙ্গে নামছে কি না।
একটি বিষয় অবশ্য পরিষ্কার—ওয়েবস্টার এখন আর শুধু স্কোয়াডের একজন বিকল্প নন; তিনি নিজেকে এমন এক ক্রিকেটারে পরিণত করেছেন, যাকে উপেক্ষা করা অস্ট্রেলিয়ার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।















