Image

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’: মায়ের সেই সাহসে ডায়াবেটিসকে হারিয়ে নিউইয়র্ক জয় জভেরেভের

একটি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি কখনো কখনো শুধু একটি ট্রফি থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ অপেক্ষা, পুরোনো ব্যর্থতার ক্ষত, পরিবারের ত্যাগ আর এমন এক লড়াই—যার প্রতিপক্ষকে র‍্যাকেট হাতে দেখা যায় না। আলেক্সান্দার জভেরেভের জন্য এবারের ইউএস ওপেন জয় ঠিক তেমনই এক গল্প।

বেন শেলটনকে ৬–৩, ৭–৬ (২), ৫–৭, ৬–২ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ইউএস ওপেন শিরোপা জিতেছেন জার্মান তারকা। এই জয় দিয়ে ছয় বছর আগের একই কোর্টের এক দুঃসহ স্মৃতিও মুছে ফেলেছেন তিনি। সেবার ডমিনিক থিমের বিপক্ষে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হেরে পঞ্চম সেটের টাইব্রেকে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাঁর।

এবার আর সেই গল্পের পুনরাবৃত্তি হয়নি।

ট্রফি হাতে নেওয়ার পর জভেরেভ ধন্যবাদ জানান এমন একজনকে, যিনি তাঁর কোনো ম্যাচই দেখেন না। কিন্তু তাঁর ভাষায়, টেনিস ও ব্যক্তিজীবনে তিনিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ—তাঁর মা ইরিনা জভেরেভ।

কথা বলতে গিয়ে আবেগে বারবার থেমে যান জভেরেভ। এরপর ফিরে যান শৈশবের সেই কঠিন সময়ে। মাত্র চার বছর বয়সে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাঁর। চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, এই রোগ ভবিষ্যতে তাঁর জীবনযাপন ও খেলাধুলার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু তাঁর মা সেই আশঙ্কাকে শেষ কথা হিসেবে মেনে নেননি।

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে’—এই বিশ্বাস নিয়েই ছেলেকে বড় করেছেন ইরিনা। জভেরেভের ভাষায়, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে এমন কথা বলার জন্য একজন অত্যন্ত শক্ত মায়ের প্রয়োজন ছিল।

শুরুর বছরগুলো ছিল ভীষণ কঠিন। জভেরেভের রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা ও ইনসুলিন দেওয়ার জন্য তাঁর মা-বাবাকে প্রতি রাতে তিনবার করে ছেলেকে ঘুম থেকে তুলতে হতো। রাতের পর রাত চলেছে সেই সংগ্রাম। ধীরে ধীরে পরিবারটি শিখে নেয় কীভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখেও একজন শিশুকে স্বাভাবিকভাবে বড় করে তোলা যায়।

জভেরেভও থামেননি স্বপ্ন দেখা থেকে।

এখন তাঁর সঙ্গে থাকে একটি বিশেষ ফোন। এতে কোনো সিম কার্ড বা মোবাইল নেটওয়ার্ক সংযোগ নেই। ব্লুটুথের মাধ্যমে এটি তাঁর শরীরে থাকা কন্টিনিউয়াস গ্লুকোজ মনিটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ম্যাচের বিরতিতে ফোনটির দিকে তাকিয়ে তিনি নিজের রক্তে শর্করার মাত্রা দেখেন—তা বাড়ছে নাকি কমছে। প্রয়োজন হলে নেন ইনসুলিন।

একবার ডায়াবেটিস নিয়ে টেনিস খেলার অভিজ্ঞতাকে জভেরেভ বলেছিলেন, ‘একসঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলা’। একটি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, অন্যটি নিজের শরীরের বিরুদ্ধে।

ইউএস ওপেনের ফাইনালেও সেই লড়াইয়ের ছাপ ছিল।

প্রথম দুই সেট জিতে জভেরেভ যখন এগিয়ে, তখন শেলটন তৃতীয় সেট ৭–৫ গেমে জিতে ম্যাচে ফিরে আসেন। গ্যালারির সমর্থনও তখন আমেরিকান খেলোয়াড়ের দিকে। মুহূর্তটি মনে করিয়ে দিচ্ছিল ছয় বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের কথা।

কিন্তু এবার জভেরেভ ভেঙে পড়েননি। চতুর্থ সেটে দ্রুত ব্রেক নিয়ে ৬–২ গেমে সেট জিতে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম এবং প্রথম ইউএস ওপেন শিরোপা।

এই জয়ে জার্মান টেনিসের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় যোগ করেছেন তিনি। বরিস বেকারের পর দ্বিতীয় জার্মান হিসেবে একই বছরে রোলাঁ গারোঁ ও ইউএস ওপেন জয়ের কীর্তি গড়েছেন জভেরেভ।

ট্রফি হাতে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে হয়তো তাঁর মনে পড়ছিল চার বছরের সেই ছোট্ট ছেলেটির কথা। মনে পড়ছিল মা-বাবার নির্ঘুম রাতগুলোর কথা। আর মনে পড়ছিল মায়ের সেই দৃঢ় উচ্চারণ—

‘আমার ছেলে যা হতে চায়, তা-ই হবে।’

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে তখন তুমুল করতালি। জভেরেভের হাতে ট্রফি, আর গ্যালারিতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না তাঁর বাবা আলেক্সান্দার জভেরেভ সিনিয়র।

কারণ এই জয় শুধু একটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা নয়। এটি এক মায়ের বিশ্বাসের জয়, এক পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের জয় এবং এমন এক লড়াইয়ের জয়—যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল জভেরেভের নিজের শরীর।

মা পাশে থাকলে, হয়তো কোনো স্বপ্নই হার মানে না।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three