রোনালদোর ছায়া পেরিয়ে রামোসের উত্থান, এবার আক্রমণ তাঁর পরিবারকেও
- 1
বাংলাদেশ ভ্রমণ ম্যাপ, আমার বাংলাদেশ। যেভাবে বানাবেন ভ্রমণ ম্যাপের ছবি
- 2
মদরিচের ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে ইংল্যান্ডের গোলবন্যা
- 3
পিসিবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন শোয়েব আখতার, মায়ের পরামর্শে দূরে থাকছেন
- 4
সাত গোলের মালায় বুরকিনা ফাসোকে ‘বরণ’ আর্জেন্টিনার
- 5
এস্তেভাও-লিনোর গোলে কলকাতায় ভারতকে ৪-০ হারাল ব্রাজিল

রোনালদোর ছায়া পেরিয়ে রামোসের উত্থান, এবার আক্রমণ তাঁর পরিবারকেও
রোনালদোর ছায়া পেরিয়ে রামোসের উত্থান, এবার আক্রমণ তাঁর পরিবারকেও
সূর্যাস্তের নরম আলো। ক্যামেরার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে গনসালো রামোস ও তাঁর স্ত্রী মার্গারিদা ডমিঙ্গেজ। কোলে তাঁদের ছোট্ট সন্তান। ছবিটা হওয়ার কথা ছিল একান্তই পারিবারিক একটি মুহূর্তের। কিন্তু ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর সেটিই হয়ে গেল অন্য এক আলোচনার কেন্দ্র।
কারণ, রামোসের স্ত্রী মার্গারিদার সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘর ভরে গেল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমর্থকদের বার্তায়। কেউ লিখেছেন রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের কথা, কেউ দিয়েছেন তাঁর গোল উদ্যাপনের ছবি। কেউ আবার সরাসরি আক্রমণ করেছেন রামোসকেও। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমA Bolaজানিয়েছে, মাত্র দুই দিনেই পোস্টটিতে তিন হাজারের বেশি মন্তব্য জমে যায়।
অথচ পোস্টটি ছিল রামোস, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের সন্তানের ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিয়ে। রোনালদোর সঙ্গে এর সরাসরি কোনো সম্পর্কই নেই।
রোনালদোকে ঘিরে ঝড়, মাঝখানে রামোস
এই ‘রোনালদো-ঝড়ের’ পেছনের কারণ অবশ্য বুঝতে খুব বেশি কষ্ট হয় না।
পর্তুগালের জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে রোনালদোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। নরওয়ের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকার পর পর্তুগিজ তারকা ডেনমার্কের বিপক্ষে শুরু করবেন না—কোচ জর্জ জেসুসের এমন ঘোষণার পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। পরে তিনি জানান, ‘সঠিক সময়ে’ নিজের সিদ্ধান্তের কারণ জানাবেন।
আর রোনালদোর জায়গায় সামনে সুযোগ আসে রামোসের।
নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদোর অনুপস্থিতিতে শুরু করে রামোসই করেন জয়সূচক গোল। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানের জয়ে করেন একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট। সর্বশেষ আবার নরওয়ের বিপক্ষে ২–১ জয়ে তাঁর গোলেই আসে জয়। অর্থাৎ রোনালদো দল ছাড়ার পর টানা তিন ম্যাচে গোল করেছেন রামোস।
সুযোগটা কাজে লাগানোর এর চেয়ে ভালো উপায় আর কী হতে পারে!
২০২২ থেকেই শুরু তুলনার গল্প
রামোসের জন্য অবশ্য রোনালদোর ছায়ায় দাঁড়ানো নতুন কিছু নয়।
২০২২ বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে রামোসকে একাদশে নামিয়েছিলেন ফার্নান্দো সান্তোস। মাত্র ২১ বছর বয়সে সেই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে আলোড়ন তুলেছিলেন রামোস।
তারপর থেকেই শুরু—‘রোনালদোর উত্তরসূরি কে?’
কিন্তু সমস্যা হলো, রামোস কখনোই রোনালদো হতে পারেন না। হওয়ার কথাও নয়। একজন পর্তুগিজ ফুটবলের সর্বকালের সেরা তারকাদের একজন; অন্যজন মাত্র ২৫ বছর বয়সী একজন ফরোয়ার্ড, যিনি জাতীয় দলে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
তবু যখনই রোনালদো বেঞ্চে আর রামোস মাঠে, তুলনাটা যেন অবধারিত হয়ে যায়।
মাঠে প্রতিপক্ষ একজন, মাঠের বাইরে আরেকজন
গোলের সামনে রামোসের প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার, গোলকিপার। কিন্তু মাঠের বাইরে তাঁকে যেন লড়তে হচ্ছে আরও বড় এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে—রোনালদোর বিশাল ছায়া।
রামোসের স্ত্রী মার্গারিদার পারিবারিক পোস্টে রোনালদো সমর্থকদের মন্তব্যের ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। রামোস রোনালদোকে জাতীয় দল থেকে সরিয়ে দেননি। রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্তেও তাঁর কোনো ভূমিকা নেই। তবু রোনালদোর জায়গায় খেলছেন বলেই ক্ষোভের লক্ষ্য হয়ে উঠছেন তিনি।
এমনকি রামোসের স্ত্রী ও সন্তানের ব্যক্তিগত ছবিও সেই দ্বন্দ্বের বাইরে থাকেনি।
এবার অবশ্য উত্তর দিচ্ছেন রামোস
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের জবাব রামোস দিচ্ছেন অন্যভাবে—মাঠে।
রোনালদোর অনুপস্থিতিতে পাওয়া তিন ম্যাচে তিন গোল করেছেন তিনি। এর মধ্যে নরওয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই করেছেন একটি করে গোল এবং ডেনমার্কের বিপক্ষে করেছেন একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট। জাতীয় দলের হয়ে টানা তিন ম্যাচে গোল করার ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারে এই প্রথম।
ডেনমার্ককে ৪–২ গোলে হারানোর পর রামোস বলেছিলেন,‘আমি নিজেকে নিজের জায়গায় প্রমাণ করেছি।’
সেটিই হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় উত্তর।
কারণ রামোসের লড়াইটা আসলে রোনালদোর সঙ্গে নয়। তাঁর লড়াই নিজের জায়গা তৈরি করার জন্য। রোনালদো ফিরলে হয়তো আবারও তাঁকে বেঞ্চে বসতে হতে পারে, আবারও শুরু হবে তুলনা। কিন্তু আপাতত যে সুযোগটুকু তাঁর হাতে এসেছে, সেটি তিনি কাজে লাগাচ্ছেন নিজের ভাষায়—গোলে গোলে।
আর রোনালদোর ছায়া যত বড়ই হোক, রামোস হয়তো এখন ধীরে ধীরে নিজের ছায়াটাও তৈরি করতে শুরু করেছেন।













