Image

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন এড শিরান, বললেন ‘আমি ভুলও করছি’

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 দিন আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন এড শিরান, বললেন ‘আমি ভুলও করছি’

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন এড শিরান, বললেন ‘আমি ভুলও করছি’

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন এড শিরান, বললেন ‘আমি ভুলও করছি’

ম্যাকলমোরকে তাঁর ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই অবশেষে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন এড শিরান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় কনসার্টে উঠে ব্রিটিশ গায়ক বলেন, তিনি কখনোই নিজেকে ‘অ্যাকটিভিস্ট মিউজিশিয়ান’ হিসেবে দেখতে চাননি। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে।

শিরান বলেন, তিনি নিজের ক্যারিয়ারে রাজনৈতিক ভাষ্যকারের ভূমিকা নিতে চাননি। তাঁর কাছে গান ও কনসার্ট ছিল ঐক্য ও মানবতার জায়গা। কিন্তু গাজার পরিস্থিতিকে তিনি মানবিক সংকট হিসেবে দেখছেন এবং এ বিষয়ে নীরব থাকা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

ম্যাকলমোরকে কেন বাদ দেওয়া হলো?

বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরে ম্যাকলমোরের কয়েকটি মঞ্চ পরিবেশনা থেকে। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কয়েকটি ভেন্যু ম্যাকলমোরকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠান না করার বিষয়ে আপত্তি জানায় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়।

শিরান আগেই পরিষ্কার করেছিলেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার; ম্যাকলমোরের চুক্তিও ছিল প্রোমোটারের সঙ্গে।

ভেন্যু মালিকদের আপত্তি

ম্যাসাচুসেটসের গিলেট স্টেডিয়ামও ম্যাকলমোরের পারফরম্যান্স নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। স্টেডিয়ামের মালিক ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের কর্ণধার রবার্ট ক্র্যাফট ম্যাকলমোরের বক্তব্যকে ‘হেট স্পিচ’ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাকলমোর তাঁর বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন।

ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর কয়েকজন সাপোর্টিং শিল্পীও সফর থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো, ফিনিয়াস ও ব্যান্ড বিওগা।

‘আমি ভুলও করছি’

ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে শিরান বলেন, সাধারণত তাঁর সংগীত নিয়ে সমালোচনা হলে তিনি তা মেনে নিতে অভ্যস্ত। কিন্তু এবার বিতর্কের বিষয়টি তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এই সপ্তাহে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং কঠিন পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করে দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গাজা নিয়ে শিরানের বক্তব্য

মঞ্চে শিরান ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ ও ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে নিজের জ্ঞান সীমিত বলেও স্বীকার করেন শিরান। তাঁর বক্তব্য, তিনি এখনো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং কীভাবে কার্যকরভাবে অবদান রাখা যায়, তা নিয়ে শিখছেন।

‘আমি জানতাম না সফর চলবে কি না’

ম্যাকলমোরকে ঘিরে বিতর্কের প্রভাব নিজের ওপরও পড়েছে বলে জানান শিরান। এমনকি একপর্যায়ে তাঁর মনে হয়েছিল, ‘লুপ ট্যুর’ আদৌ চলবে কি না, কিংবা তিনি আবার মঞ্চে উঠতে চাইবেন কি না।

তবে শেষ পর্যন্ত ভক্তদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি ফিলাডেলফিয়ার মঞ্চে ফেরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর কনসার্ট ভিন্নমতের মানুষের জন্যও উন্মুক্ত থাকার কথা।

শিরান শিল্পীদের পারফরম্যান্স আগে থেকে অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর এই বক্তব্যে দর্শকদের একাংশ করতালি দেন।

ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে প্রতিবাদের চিত্রও দেখা গেছে। এএফপি

ফিলাডেলফিয়ার বাইরে বিক্ষোভ

শিরানের কনসার্টের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়েছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে অবস্থান নেন এবং ম্যাকলমোরের স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশের অধিকারের পক্ষে কথা বলেন।

এদিকে শিরানের কনসার্টটি হয়েছে কয়েকটি পরিবর্তন নিয়ে। ম্যাকলমোরসহ নির্ধারিত সাপোর্টিং অ্যাক্টদের অনুপস্থিতিতে তিনি একাই মূল পরিবেশনা করেন। সফরটি এখন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় চলবে।

সূত্র: বিবিসি, এপি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three