বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই
- 1
অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ সিরিজে ভারত ‘এ’ দলের কোচ লক্ষ্মীপতি বালাজি
- 2
৮ গোলের রোমাঞ্চে সিটির জয়, ব্রোবির হ্যাটট্রিকের পরও জিতল ম্যানচেস্টার সিটি
- 3
১৩ বছরেই এশিয়ান গেমসে রেকর্ড, সাঁতারে নতুন বিস্ময় ইউ জিদি
- 4
১০ জনের রিয়ালকে হারিয়ে মাদ্রিদ ডার্বিতে আতলেতিকোর দাপুটে জয়
- 5
মেসি-সুয়ারেজের গোলেও জয়হীন মায়ামি, স্যান ডিয়েগোর সঙ্গে ২-২ ড্র

বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই
বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আর নেই
বলিউডের জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী রানী মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি মারা গেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ৭৫ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। যশ রাজ ফিল্মসের পক্ষ থেকে মুখার্জি পরিবারের পক্ষে এক বিবৃতির মাধ্যমে তাঁর প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষকৃত্য সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যশ রাজ ফিল্মসের বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি, রানী মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি আজ দুপুরে ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। এই কঠিন সময়ে সবার ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। একই সঙ্গে এই শোকের মুহূর্তে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে।”
মেয়ের সাফল্যের পেছনে প্রচ্ছায়া
রানী মুখার্জির সফল অভিনয়জীবনের নেপথ্যে মা কৃষ্ণা মুখার্জির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। রানী বিভিন্ন সময়ে অকপটে স্বীকার করেছেন, নিজের অভিনেত্রী হওয়ার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। যদিও শুরুতে মেয়ের প্রথম স্ক্রিন টেস্ট দেখে কৃষ্ণা মুখার্জি হতাশ হয়ে প্রযোজককে রানীকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন (যাতে প্রযোজকের ক্ষতি না হয়), পরবর্তীতে মেয়ের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে তিনিই প্রথম উন্মোচিত করেন। মায়ের সিদ্ধান্তের ওপর ভর করেই রানী শেষ পর্যন্ত অভিনয় জগতে পা রাখেন এবং তিন দশকের এক সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
‘মিসেস চ্যাটার্জি’ চরিত্রের অনুপ্রেরণা
বাস্তব জীবনে রানী ও কৃষ্ণার রসায়ন ছিল অত্যন্ত নিবিড়। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় বাঙালি মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজের মাকেই মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন রানী। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর দেখা ‘সবচেয়ে খাঁটি বাঙালি’ নারী ছিলেন তাঁর মা, যার সন্তানবাৎসল্য ও দৈনন্দিন অভ্যাস তিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
নিজেই ছিলেন সুরের জগতের মানুষ
কৃষ্ণা মুখার্জি কেবল একজন তারকার অভিভাবকই ছিলেন না, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর নিজেরও একটি পরিচিতি ছিল। তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। ‘মোমের আলো’ (১৯৬৪), ‘হাইওয়ান’ (১৯৭৭), ‘তিসরি আঁখ’ (১৯৮২) ও ‘তোমার রক্তে আমার সোহাগ’ (১৯৯৩) সিনেমার প্লেব্যাকে তাঁর কণ্ঠ পাওয়া যায়। ১৯৮২ সালের ‘তিসরি আঁখ’ ছবির ‘ঈদ কে দিন গলে মিল লে রাজা’ গানটি তাঁর গাওয়া অন্যতম উল্লেখ্য কাজ। পাশাপাশি ‘ইসি কা নাম জিন্দেগি’ ছবিতে কস্টিউম ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্র কেন্দ্রিক পরিবার
কৃষ্ণা মুখার্জির স্বামী ছিলেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ‘ফিল্মালায়া স্টুডিও’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রাম মুখার্জি। ২০১৭ সালে ৮৪ বছর বয়সে রাম মুখার্জি মৃত্যুবরণ করেন। রানী মুখার্জির প্রথম সিনেমা ‘বিয়ের ফুল’ (১৯৯৬)-এর পরিচালকও ছিলেন তাঁর বাবা। এই দম্পতির অপর সন্তান রাজা মুখার্জি পরবর্তীতে প্রযোজনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত হন। এছাড়া, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় হলেন কৃষ্ণা মুখার্জির বোন। পারিবারিক সূত্রে বলিউড অভিনেত্রী কাজল, তানিশা মুখার্জি ও পরিচালক অয়ন মুখার্জিও এই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ব্যক্তিজীবনে প্রযোজক ও পরিচালক আদিত্য চোপড়ার স্ত্রী রানীর সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মর্দানি ৩’। মায়ের এই আকস্মিক বিয়োগে মুখার্জি ও চোপড়া পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।














