মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
- 1
কলকাতায় নামার আগেই কার্লো আনচেলত্তির গর্জন: ‘ব্রাজিলের অভিধানে প্রীতি ম্যাচ বলে কিছু নেই’
- 2
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 3
বিশ্বকাপের হতাশা এখনও পোড়ায় ইংল্যান্ডকে, সাকার কথায় সেই ‘ক্ষত’
- 4
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 5
দ্রুততম সেঞ্চুরির পর শূন্যের রেকর্ডেও অভিষেক শর্মা

মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক বিরতিতে ঢুকে পড়েছে ফুটবল। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলেও নতুন মৌসুমের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেছে। লা লিগায়ও সাত ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের নতুন অধ্যায়ের প্রথম ছবিটা মোটামুটি স্পষ্ট।
জোসে মরিনিওর অধীনে সাত ম্যাচে পাঁচ জয়—শুরুটা সংখ্যার বিচারে খারাপ নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলের ধারও স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদকে শুধু ঘরের মাঠে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিচার করার সুযোগ নেই। রিয়াল বেতিসের কাছে ১-০ এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ হারের মতো ম্যাচগুলো বরং পুরোনো কিছু সমস্যাই সামনে এনেছে।
অন্যদিকে বার্সেলোনা সাত ম্যাচে সাত জয় নিয়ে শীর্ষে। আতলেতিকোর কাছে হারের পর রিয়াল শীর্ষস্থান থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে—অর্থাৎ শুরুতেই চাপ তৈরি হয়েছে।
তাহলে নতুন রিয়াল মাদ্রিদে এখন পর্যন্ত কী দেখা যাচ্ছে?
গুলেরকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের উত্তর মিলছে
আরদা গুলেরের প্রতিভা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে মরিনিওর অধীনে মৌসুমের শুরুতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। জুড বেলিংহাম ১০ নম্বর পজিশনে বড় দাবিদার, আর ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে লিপজিগ থেকে আসা ইয়ান দিওমান্দের উপস্থিতি ডান প্রান্তেও প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্স অবশ্য গুলেরের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিচ্ছে। চলতি লা লিগায় তাঁর ২৮টি কী পাস—এই সংখ্যায় তিনি লিগের শীর্ষে এবং লামিনে ইয়ামালের চেয়ে এক বেশি, যদিও বার্সেলোনা তারকা প্রায় ২৩০ মিনিট বেশি খেলেছেন।
রিয়ালের আক্রমণে যখন সৃজনশীলতার ঘাটতি দেখা যায়, তখন গুলেরের উপস্থিতি সেই সমস্যা কমাতে পারে। ডান উইং কিংবা মাঝখান—তাঁকে একাদশে রাখার কারণ তাই ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
মরিনিও নিজেও দিওমান্দের পাশাপাশি গুলেরের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ৪-১ জয়ের পর তিনি বলেছেন, গুলের মাঠে নামার পর দলের খেলায় পার্থক্য তৈরি করেছিলেন।
‘হোসেলু জুনিয়র’ হয়ে উঠছেন কার্লোস এস্পি
লেভান্তে থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে আসা কার্লোস এস্পির কাজটা শুরু থেকেই পরিষ্কার—এমবাপ্পের ব্যাকআপ হওয়া।
নিয়মিত একাদশে তাঁর জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। কিন্তু বেঞ্চ থেকে নেমে ম্যাচের ভাগ্য বদলানোর ক্ষেত্রে ২১ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন।
মাত্র ২৫ মিনিট মাঠে থেকেও দুই গোল করেছেন এস্পি, যেগুলো রিয়ালকে এনে দিয়েছে চার পয়েন্ট। বেতিসের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলটিও অফসাইডে বাতিল না হলে তাঁর প্রভাব আরও বড় হতে পারত।
শারীরিক শক্তি, আকাশে বল জেতা এবং বক্সে সঠিক সময়ে পৌঁছানোর দক্ষতার কারণে সতীর্থদের মধ্যে তাঁর জন্য ‘হোসেলু জুনিয়র’ ডাকটিও চালু হয়েছে। এস্পি নিজেও জানিয়েছেন, মরিনিও তাঁকে বিশেষভাবে এমবাপ্পেকে সহায়তা করতে বলেছেন।
১২৫ মিলিয়নের দিওমান্দে এখনো মানিয়ে নিচ্ছেন
রিয়ালের সবচেয়ে বড় গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার ইয়ান দিওমান্দে। লিপজিগ থেকে তাঁকে আনতে ১২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো খরচ করেছে মাদ্রিদ, সঙ্গে আরও ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো পর্যন্ত বোনাসের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু এত বড় ট্রান্সফার ফি মানেই প্রতি ম্যাচে শুরু থেকে খেলা—মরিনিও এমনটা মনে করছেন না। রায়োর বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, দিওমান্দের শীর্ষ পর্যায়ের ইউরোপীয় ফুটবলে অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত এবং তাঁকে ধীরে ধীরে উন্নতি করার সুযোগ দিতে হবে।
এলচের বিপক্ষে তাঁর একটি অ্যাসিস্ট অবশ্য প্রতিভার আভাস দিয়েছে। তবে ১৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এখনই পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স আশা করার বদলে তাঁকে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়াই মরিনিওর কৌশল বলে মনে হচ্ছে।
এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুস সমীকরণ এখনো অমীমাংসিত
রিয়ালের সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্নগুলোর একটি সম্ভবত এখানেই।
৪-২-৩-১ ব্যবস্থায় এমবাপ্পে কেন্দ্রে থেকে নিয়মিত গোল করছেন। কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে তাঁর পজিশনাল ও আক্রমণাত্মক সমন্বয় এখনো পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ নয়। আতলেতিকোর বিপক্ষে হারের পর এই বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষণে দুই তারকাকে প্রায় একই এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।

এমবাপ্পের ব্যক্তিগত ফর্ম তাই দলের জন্য বড় ইতিবাচক দিক হলেও, তাঁকে এবং ভিনিসিয়ুসকে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ কার্যকর করার সমাধান এখনো খুঁজে বের করতে হবে।
পুরোনো মরিনিও আবার ফিরছেন?
মরিনিওর দ্বিতীয় মাদ্রিদ অধ্যায় শুরু হয়েছিল অনেক বেশি সংযত সুরে। কিন্তু মৌসুমের প্রথম বড় ধাক্কাগুলোর পর তাঁর পুরোনো স্বভাবের কিছুটা যেন আবার দেখা যাচ্ছে।
আতলেতিকোর কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। ডিন হুইসেনের লাল কার্ড এবং আতলেতিকোর কয়েকটি চ্যালেঞ্জে কার্ড না দেখানো নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। এমনকি ম্যাচের রেফারি মিগেল আনহেল ওর্তিস আরিয়াসকে কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, সেটিও প্রশ্ন করেন।
মরিনিওর দাবি ছিল, কিছু সিদ্ধান্ত রিয়ালের বিপক্ষে গেছে। অন্যদিকে আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে ম্যাচের পারফরম্যান্স ও দলের নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়েছেন।
অর্থাৎ মাঠের বাইরেও ‘পুরোনো মরিনিও’কে পুরোপুরি বিদায় জানানো হয়নি।
মাদ্রিদের মাঝমাঠে আসল সমস্যা কোথায়?
রিয়ালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে সবচেয়ে আলোচিত ঘাটতিগুলোর একটি ছিল রক্ষণভাগের সামনে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে—এমন একজন ডিপ-লাইং মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতি।
মরিনিও এখন পর্যন্ত চুয়ামেনি, ভালভের্দে, কামাভিঙ্গা, গুলের, বের্নার্দো সিলভাসহ বিভিন্ন বিকল্প ঘুরিয়ে দেখছেন। কিন্তু মাঝমাঠের কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো পুরোপুরি স্থির হয়নি।
এর প্রভাব বল দখলেও দেখা যাচ্ছে। আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে রিয়াল ১০ জনে নেমে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছিল। রেফারিং নিয়ে মরিনিওর অভিযোগ থাকলেও, ম্যাচের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণে আতলেতিকোর প্রভাব ছিল স্পষ্ট—এমনটাই ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
আর ফেদেরিকো ভালভের্দের চোটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তাঁর গোড়ালির চোটের কারণে আন্তর্জাতিক বিরতিতে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে।













