Image

রিয়ালের ৮৩ কোটি, সেভিয়ার মাত্র ২ কোটি—লা লিগায় আর্থিক বৈষম্যের চিত্র

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 53 মিনিট আগে
রিয়ালের ৮৩ কোটি, সেভিয়ার মাত্র ২ কোটি—লা লিগায় আর্থিক বৈষম্যের চিত্র

রিয়ালের ৮৩ কোটি, সেভিয়ার মাত্র ২ কোটি—লা লিগায় আর্থিক বৈষম্যের চিত্র

রিয়ালের ৮৩ কোটি, সেভিয়ার মাত্র ২ কোটি—লা লিগায় আর্থিক বৈষম্যের চিত্র

মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু আর সেভিয়ার রামোন সানচেজ পিসহুয়ান। স্পেনের মানচিত্রে স্টেডিয়াম দুটির দূরত্ব খুব বেশি নয়। কিন্তু লা লিগার নতুন আর্থিক হিসাবের খাতা খুললেই মনে হবে, তারা যেন দুই ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। একদিকে বিপুল অর্থের সমারোহ, অন্যদিকে টিকে থাকার কঠিন লড়াই।

লা লিগায় ক্লাবগুলোর আর্থিক বৈষম্য অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে আসন্ন মৌসুমের জন্য প্রকাশিত বেতনসীমার হিসাব সেই পার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সবচেয়ে ওপরে যথারীতি রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটির নতুন বেতনসীমা ৮৩ কোটি ইউরো। আগের মৌসুমে যা ছিল ৭৬ কোটি ১০ লাখ ইউরো। অর্থাৎ এক মৌসুমেই তাদের আর্থিক সক্ষমতা আরও বেড়েছে।

রিয়ালের পরেই রয়েছে বার্সেলোনা। একসময় ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়া কাতালান ক্লাবটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বার্সার বেতনসীমা নেমে গিয়েছিল মাইনাস ১৪ কোটি ৪০ লাখ ইউরোতে। সেই পরিস্থিতি থেকে এবার তাদের বেতনসীমা দাঁড়িয়েছে ৫৮ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে।

লা লিগার শীর্ষ পাঁচ ক্লাবের হিসাব দেখলেই আর্থিক ব্যবধানটা আরও পরিষ্কার হয়। রিয়াল ও বার্সেলোনার পর রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। তাদের বেতনসীমা ৩৬ কোটি ১২ লাখ ইউরো। এরপর ভিয়ারিয়াল ও রিয়াল বেতিস—যাদের সীমা যথাক্রমে ১৭ কোটি ৫ লাখ এবং ১৪ কোটি ২৮ লাখ ইউরো।

অন্যদিকে, একসময় ইউরোপা লিগে দাপট দেখানো সেভিয়ার বেতনসীমা এবার মাত্র ২ কোটি ১ লাখ ইউরো। অর্থাৎ রিয়াল মাদ্রিদের তুলনায় তাদের সক্ষমতা কয়েক গুণ কম।

ঋণের চাপ থাকলেও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বার্সা

বার্সেলোনার আর্থিক পরিস্থিতি অবশ্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। ক্লাবটির মাথায় এখনো প্রায় ২৫০ কোটি ইউরোর ঋণ রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসও তাদের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ফুটবল ক্লাবগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছে।

তবে ঋণের পাশাপাশি বার্সেলোনার আয়ের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফোর্বসের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাবের তালিকায় রিয়াল মাদ্রিদের পরেই রয়েছে বার্সেলোনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ আয় ক্লাবটিকে বিপুল ঋণের চাপ সামলে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে।

লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও বার্সেলোনার আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, কোনো ক্লাবের শুধু কত ঋণ আছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং সেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

তেবাস বলেন, বার্সেলোনার আয় প্রায় ১০০ কোটি ইউরো এবং নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার সক্ষমতাও ক্লাবটির রয়েছে।

বেতনসীমা কী?

লা লিগায় ক্লাবগুলোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণে বেতনসীমা ব্যবস্থা চালু হয় ২০১৩ সালে। ক্লাবের আয়, ব্যয় ও ঋণের হিসাব বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়, একটি দল খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পেছনে সর্বোচ্চ কত অর্থ খরচ করতে পারবে।

শুধু মূল দলের খেলোয়াড় নয়, রিজার্ভ দল, একাডেমির খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের ব্যয়ও এই হিসাবের আওতায় পড়ে।

এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্লাবগুলোর লাগামহীন খরচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং লিগে আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে এবারের হিসাবই দেখিয়ে দিচ্ছে, নিয়ম থাকলেও লা লিগার বড় ও ছোট ক্লাবগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ব্যবধান এখনো কতটা বিশাল।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three