এমবাপ্পের গোলে রিয়ালের জয়
- 1
৩৯ বছরেও অপ্রতিরোধ্য মেসি, চার গোলে মায়ামির বিশাল জয় ফ্রি-কিক ম্যাজিকসহ মেসির চার গোল, ৭-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত মন্ট্রিল
- 2
ফিফা দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে বাবা-ছেলের স্বীকারোক্তি, বাজেয়াপ্ত হবে ৫ কোটি ডলার
- 3
পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ‘দ্বিতীয় বিভাগের কাউন্টি দল’ বললেন মাইকেল ভন
- 4
‘ডেজ অব থান্ডার’ সিক্যুয়েলে টম ক্রুজের সঙ্গী অ্যান হ্যাথাওয়ে
- 5
ওয়েরাস ২য় একাদশ বনাম লিসবন কিংস একাদশ: প্রথম দেখাতেই জমজমাট লড়াই

এমবাপ্পের গোলে রিয়ালের জয়
এমবাপ্পের গোলে রিয়ালের জয়
কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন মৌসুমের শুরুতেই বার্তা দিয়ে দিলেন—তিনি থামার জন্য আসেননি। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবারও গোল পেলেন ফরাসি তারকা। তাঁর দুর্দান্ত ছন্দে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর জোসে মরিনিওর শুরুটাও হয়েছে দারুণভাবে। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে তাঁর দল। আগের ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে ছিল ৪-১ গোলের জয়, তার আগে এস্পানিওলকে হারিয়েছিল ২-১ ব্যবধানে।
অন্যদিকে মালাগার মৌসুমের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হারের পর দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার সঙ্গে ড্র করে তারা। বার্নাব্যুতে এসেও শুরু থেকেই রিয়ালের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে চাপে পড়ে যায় দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখাতে থাকে রিয়াল। এরপর মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। ব্রাহিম দিয়াজের দুর্দান্ত দৌড়ের পর এমবাপ্পে ঘুরে দাঁড়িয়ে শট নেন। গোলকিপার প্রথমে বল ঠেকালেও সেটি শেষ পর্যন্ত জালে জড়িয়ে যায়। পরে গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে মালাগার গোলকিপার আলফোনসো হেরেরোর নামে লেখা হয়।
৩০ মিনিটে আসে রিয়ালের তৃতীয় গোল। এবার কোনো বিভ্রান্তি ছিল না। ডান প্রান্ত থেকে ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের দারুণ ক্রস পেয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে লা লিগায় এলচে ছাড়া মুখোমুখি হওয়া বাকি ২২ দলের বিপক্ষেই গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন ফরাসি তারকা।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় রিয়াল। মালাগাও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল। কর্নার থেকে রদ্রিগেজের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সুযোগটি নষ্ট হওয়ায় এবং রক্ষণভাগের ভুলে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সতীর্থদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন থিবো কোর্তোয়া।
১৯ মিনিটে আরও একটি দারুণ মুহূর্ত উপহার দেন জুড বেলিংহাম। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বল পেয়ে একে একে দুজন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন তিনি। এরপর বাঁ কোণে দুর্দান্ত শটে বল জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার।
মালাগার খেলোয়াড়রা গোলটির আগে ফাউলের দাবি তুললেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। পরে ভিএআরেও গোলটি বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়। বেলিংহামের গোলের পর বার্নাব্যুর গ্যালারিতে ধ্বনিত হয় বিখ্যাত ‘হেই জুড’ সুর।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও স্বচ্ছন্দ ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। একসময় ম্যাচটি যেন অনুশীলনের ম্যাচে পরিণত হয়। বেলিংহামের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে আরও একটি সহজ সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
মরিনিওর দলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বল হারানোর পর দ্রুত চাপ সৃষ্টি করা। প্রতিপক্ষকে সহজে আক্রমণে ওঠার সুযোগ দেয়নি রিয়াল। মাঝমাঠে বেলিংহাম এবং ডান প্রান্তে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের প্রভাব ছিল বিশেষভাবে চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচের শেষ দিকে মালাগা একবার পেনাল্টির আশা জাগিয়েছিল। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেও ভিএআর দেখে সেটি পরিবর্তন করেন।
যোগ করা সময়ে আসে রিয়ালের শেষ গোল। হাউসেন বল কেড়ে নেওয়ার পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় স্বাগতিকরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বাম প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে দুর্দান্ত কাটব্যাক করেন। বদলি হিসেবে নামা আরদা গুলার সহজেই বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৪-০ করেন।
শেষ বাঁশি বাজতেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরু হয় উল্লাস। জোসে মরিনিও খুব বেশি আবেগ প্রকাশ না করলেও তাঁর দলের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই জয় আবারও প্রমাণ করল, নতুন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ শুধু ম্যাচ জিততেই চায় না, তারা আধিপত্য দেখিয়েও জিততে চায়। আর সেই দাপুটে রিয়ালের সবচেয়ে আলোচিত নাম এখনো একজনই—কিলিয়ান এমবাপ্পে।














