যুদ্ধজাহাজের ডেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা, ৩৭ বছর পর প্রকাশ পেল বিরল ছবি
- 1
রোনালদোকে রেখেই নেশনস লিগের দল ঘোষণা পর্তুগালের
- 2
মোদির ৭৬তম জন্মদিনে তারকাদের শুভেচ্ছা, শাহরুখ-সালমান থেকে মহেশ-মোহনলাল
- 3
হালান্ডের বিতর্কিত গোলের আলোচনা নিয়ে বিরক্ত মারেস্কা, ‘সিটির পারফরম্যান্সও দেখা উচিত’
- 4
জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে পাঁচ নতুন মুখ, লিভারপুলের জেকে আলোচনায়
- 5
স্পেন ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ইংল্যান্ডের, চোটে ছিটকে গেলেন জন স্টোনস

যুদ্ধজাহাজের ডেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা, ৩৭ বছর পর প্রকাশ পেল বিরল ছবি
যুদ্ধজাহাজের ডেকে বল নিয়ে ম্যারাডোনা, ৩৭ বছর পর প্রকাশ পেল বিরল ছবি
ফুটবল যেখানে, বলও যেন সেখানে—ডিয়েগো ম্যারাডোনার ক্ষেত্রে কথাটা কতটা সত্য, তারই আরেকটি দারুণ উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে প্রায় চার দশক আগের কিছু বিরল ছবি। ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইওয়া পরিদর্শনের সময় বল নিয়ে কসরত করতে দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে।
ম্যারাডোনার দীর্ঘদিনের শারীরিক প্রশিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফার্নান্দো সিনিওরিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করেছেন। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, ছবিগুলো তোলা হয়েছিল ১৫ নভেম্বর ১৯৮৯, যখন ম্যারাডোনা নাপোলির হয়ে ফুটবল বিশ্বে নিজের শিখরে অবস্থান করছিলেন।
সিনিওরিনির প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, যুদ্ধজাহাজের বিশাল কামানের পাশে দাঁড়িয়ে পায়ে বল নিয়ে জাগলিং করছেন ম্যারাডোনা। দৃশ্যটি যতটা অপ্রত্যাশিত, তাঁর কাছে বল নিয়ে এমন কসরত করাটা যেন ততটাই স্বাভাবিক ছিল।
নাপোলি থেকে যুদ্ধজাহাজে ম্যারাডোনা
১৯৮৯ সালের নভেম্বরে ইউএসএস আইওয়া নাপোলিতে অবস্থান করছিল। ন্যাটোর নাপোলি সদর দপ্তর থেকে ম্যারাডোনাকে যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সিনিওরিনিও তাঁর সঙ্গে সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান।
সিনিওরিনির বর্ণনা অনুযায়ী, ম্যারাডোনাকে সেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো সম্মান দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই ঘটেছিল সবচেয়ে মজার ঘটনাটি—হঠাৎ একটি ফুটবল চলে আসে ম্যারাডোনার কাছে।
এরপর আর কী! ছোটবেলায় আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের ম্যাচের বিরতিতে দর্শকদের বিনোদন দিতে যেভাবে বল নিয়ে জাগলিং করতেন, ঠিক সেভাবেই যুদ্ধজাহাজের ডেকেও শুরু হয়ে যায় তাঁর বলের কারিকুরি।
সিনিওরিনির ভাষ্য, বলটি পাওয়ার পর ম্যারাডোনা যেন এক মুহূর্তও ভাবেননি। স্বভাবজাত দক্ষতায় বলটিকে পায়ের ওপর নাচাতে শুরু করেন তিনি।
ছবির পেছনে ছিলেন সিনিওরিনি ও অ্যাঞ্জেলো রসি
সেই সফরে ম্যারাডোনার সঙ্গে ছিলেন সিনিওরিনি। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও নেপলসের সংবাদপত্র ইল মাত্তিনো-র সাংবাদিক অ্যাঞ্জেলো রসি। পরে ম্যারাডোনার যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন নিয়ে রসি একটি প্রতিবেদনও করেছিলেন।
সিনিওরিনি দীর্ঘ সময় ম্যারাডোনার খুব কাছ থেকে কাজ করেছেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে তিনি ম্যারাডোনার শারীরিক প্রশিক্ষক ছিলেন। তাই ফুটবল মাঠের বাইরেও কিংবদন্তির ব্যক্তিত্ব ও অভ্যাসের বহু অজানা মুহূর্ত তাঁর স্মৃতিতে জমা রয়েছে।
এই ছবিগুলোও যেন সেই ব্যক্তিগত স্মৃতিরই একটি অংশ—একজন বিশ্বখ্যাত তারকা, যুদ্ধজাহাজের সামরিক পরিবেশের মাঝেও যিনি সুযোগ পেলেই ফুটবলকে সঙ্গী করে নিতেন।
যেখানে ম্যারাডোনা, সেখানেই ফুটবল
১৯৮৯ সালের সেই সময়ে ম্যারাডোনা ছিলেন নাপোলির সবচেয়ে বড় তারকা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর নাপোলিকেও ইতালিয়ান ফুটবলের শীর্ষে তুলে এনেছিলেন তিনি। ফলে যুদ্ধজাহাজে তাঁর এমন অভ্যর্থনা পাওয়াটাও ছিল তাঁর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার প্রতিফলন।
তবে ছবিগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত অন্য জায়গায়। যুদ্ধজাহাজ, সামরিক সদস্য আর বিশাল কামানের মাঝেও ম্যারাডোনার মন পড়ে ছিল ফুটবলে।
সিনিওরিনির পোস্টের মূল বার্তাটিও তাই—ম্যারাডোনার সঙ্গে বল যেন সব জায়গাতেই থাকত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রকাশ পাওয়া এই ছবিগুলো সেই কথাটাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।














