Image

রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 দিন আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে

রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে

রিজওয়ানের ফোন এখনো জব্দ, লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজের পর আইসিসিতে

মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাঁর ফোন জব্দ করেছিল। পরে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়।

ফোন জব্দ এবং এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। এরপর বিষয়টি নিয়ে আইসিসির দ্বারস্থ হয়েছেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

কেন জব্দ করা হয়েছিল রিজওয়ানের ফোন?

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে ঘিরে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের কিছু তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তে নামে এনসিসিআইএ।

তদন্তের অংশ হিসেবে রিজওয়ান ও পাকিস্তানের টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে লাহোরে এনসিসিআইএর কার্যালয়ে হাজির হতে হয় দুজনকে। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচ চলাকালে তাঁরা কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কার সঙ্গে দেখা করেছেন—এসব বিষয়েও তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস নয়

তদন্তের বিষয়টি শুধু ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এনসিসিআইএ অনলাইন বেটিং ও জুয়া সংক্রান্ত বিষয়ও তদন্ত করছে বলে জিও নিউজ জানিয়েছে।

রিজওয়ান ও ইমামকে এ বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল। ইংল্যান্ডে তাঁদের যোগাযোগ, দেখা-সাক্ষাৎ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

রিজওয়ানের আপত্তি কোথায়?

এনসিসিআইএর নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন রিজওয়ান। তাঁর দাবি, নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ে তদন্তের কথা বলা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি

এনসিসিআইএর সামনে হাজির হওয়ার পর অভিযোগের বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন রিজওয়ান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, তাঁকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ কারণেই ফোন জব্দের প্রক্রিয়া ও নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।

আদালতে কী হলো?

রিজওয়ানের আবেদনের ওপর গতকাল শুনানি হয়। তাঁর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

তবে শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আইনজীবীর বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন।

এবার আইসিসির কাছে রিজওয়ান

লাহোর হাইকোর্টে আবেদন খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে গেছেন রিজওয়ান।

তাঁর মূল প্রশ্ন, মুঠোফোন জব্দ করা, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা করার বিষয়ে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) কিছু জানত কি না কিংবা এতে তারা কোনোভাবে যুক্ত ছিল কি না।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিজওয়ানের এই যোগাযোগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়। বরং পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন বিধিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি না, সেটিই জানতে চাইছেন তিনি। পাশাপাশি এখন তাঁর করণীয় কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও আইসিসির দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।

পিসিবির ভূমিকাও আলোচনায়

রিজওয়ানের ফোন জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের হেফাজতে ছিল। পরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফোনটি হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে এ বিষয়ে পিসিবি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।

এর মধ্যেই পাকিস্তানের টেস্ট দলেও বড় পরিবর্তন আসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

ফোন জব্দের বিষয়টি এখন আদালত পেরিয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে রিজওয়ানের ফোন ও চলমান তদন্ত নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর থাকছে পাকিস্তান ক্রিকেটে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three