Image

‘এই অসুস্থতা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে না’, ইউএস ওপেন জয়ের পর মায়ের কথা স্মরণ জভেরেভের

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 2 মিনিট আগে
‘এই অসুস্থতা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে না’, ইউএস ওপেন জয়ের পর মায়ের কথা স্মরণ জভেরেভের

‘এই অসুস্থতা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে না’, ইউএস ওপেন জয়ের পর মায়ের কথা স্মরণ জভেরেভের

‘এই অসুস্থতা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণ করবে না’, ইউএস ওপেন জয়ের পর মায়ের কথা স্মরণ জভেরেভের

ইউএস ওপেন জয়ের পর আলেকজান্ডার জভেরেভের কথায় বারবার ফিরে এসেছে পরিবার ও মায়ের প্রসঙ্গ। বিশেষ করে শৈশবে টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পরও মা ইরিনা তাঁকে কখনোই অসুস্থতার সীমার মধ্যে আটকে রাখেননি। জার্মান টেনিস তারকার কাছে মায়ের সেই বিশ্বাসই ছিল সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

রোববার নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মিডোজে যুক্তরাষ্ট্রের বেন শেলটনকে ৬-৩, ৭-৬ (৭-২), ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন শীর্ষ বাছাই জভেরেভ। চলতি বছর এটি তাঁর দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।

একসময় গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ ধাপে বারবার থেমে যাওয়া জভেরেভ এখন দুইবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন। আর দুটি শিরোপাই এসেছে একই বছরে।

টেনিসের উন্মুক্ত যুগে একই বছরে ক্যারিয়ারের প্রথম দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা চতুর্থ খেলোয়াড় হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী জভেরেভ। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন জিমি কনর্স (১৯৭৪), গিলের্মো ভিয়াস (১৯৭৭) ও ইয়ানিক সিনার (২০২৪)।

তবে এমন সাফল্যের পরও পুরো কৃতিত্ব নিজের কাছে রাখতে চাননি জভেরেভ। পরিবার ও দলের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন তাঁর মা ইরিনাকে।

জভেরেভের বয়স যখন মাত্র চার বছর, তখন তাঁর টাইপ-১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। সে সময় চিকিৎসকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এই অসুস্থতা তাঁর জীবন ও খেলাধুলার ভবিষ্যৎকে সীমিত করে দিতে পারে। কিন্তু ছেলেকে নিয়ে মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জভেরেভ বলেন, ‘আপনার ৪ বছরের ছেলের যখন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে এবং চিকিৎসকেরা বলেন, তার জীবন ও খেলাধুলার সুযোগ অনেক সীমিত হয়ে যাবে, তখন একজন মায়ের খুব শক্ত মানসিকতার প্রয়োজন হয়, যাতে তিনি বলতে পারেন, “আমার ছেলে যা হতে চায়, তাই হবে।”’

মায়ের সেই দৃঢ়তার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি, ‘মা তখনই বলে দিয়েছিলেন, সে যদি টেনিস খেলোয়াড় হতে চায়, তাহলে টেনিস খেলোয়াড় হবে। অন্য কিছু করতে চাইলে সেটাই করবে। কিন্তু এই অসুস্থতা আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।’

মায়ের সেই বিশ্বাসই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন জভেরেভ। তাই শিরোপা জয়ের পর মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

‘আমি খুশি যে আমরা একসঙ্গে এই পথ পেরিয়ে এসেছি এবং এখন যে জায়গায় আছি, সেখানে পৌঁছাতে পেরেছি। আমার মা আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে শক্ত মানুষ। তিনি যা করেছেন, তার জন্য অবিশ্বাস্য রকমের শক্ত একজন নারী হতে হয়।’

শিরোপা জয়ের পেছনে নিজের দলের অবদানও স্মরণ করেছেন জার্মান তারকা। তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাবা ও সাবেক টেনিস খেলোয়াড় আলেকজান্ডার জভেরেভ সিনিয়র এবং ভাই মিশা জভেরেভ।

জভেরেভ বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার অপেক্ষায় ছিলাম। এখন তিন মাসের মধ্যে দুটি জিতেছি।’

দীর্ঘ অপেক্ষা ও সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের সাফল্য আসলে বহু বছরের পরিশ্রম, হতাশা ও কষ্টের ফল।

‘ঈশ্বর হয়তো দেখেছেন আমরা কতটা পরিশ্রম করেছি, কতটা কষ্ট করেছি, কতটা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমার মনে হয়, ২০২৬ সাল সেই সব বছরের পরিশ্রমেরই ফল।’

ইউএস ওপেন জয়ের সঙ্গে জভেরেভের ক্যারিয়ারে যোগ হলো আরেকটি বড় অর্জন। এর আগে টোকিও অলিম্পিকে সোনাও জিতেছেন তিনি। একসময় গ্র্যান্ড স্ল্যামের শেষ ধাপে বারবার থেমে যাওয়া জার্মান তারকার ক্যারিয়ার যেন এখন নতুন গল্প লিখছে। আর সেই গল্পে মায়ের অদম্য বিশ্বাস যে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে, ইউএস ওপেন জয়ের রাতেও সেটিই স্পষ্ট করে দিলেন জভেরেভ।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three