১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন
- 1
যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে সর্বকালের রেকর্ড, গ্রীষ্মে আয় ৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার
- 2
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 3
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, সহ-অধিনায়ক মার্তিনেজ
- 4
চ্যাম্পিয়নস লিগেও পাঁচ গোলের ঝড়, ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু
- 5
হালান্ডকে ‘জন্তু’ বললেন এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যানসিটিতে জুটিতে মুগ্ধ আর্জেন্টাইন তারকা

১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন
তিন বছর পর পর্দায় ফিরেছেন সামান্থা রুথ প্রভু। প্রত্যাবর্তনটা যে এতটা সফল হবে, হয়তো অভিনেত্রী নিজেও ভাবেননি। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ শুধু বক্স অফিসে ১০০ কোটি রুপি আয় করা সিনেমা নয়, এই ছবির মাধ্যমে অ্যাকশন তারকা হিসেবেও নিজেকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
অথচ এই সাফল্যের ঠিক আগের কয়েকটি বছর ছিল সামান্থার জীবনের অন্যতম কঠিন সময়। অসুস্থতা, অভিনয় থেকে বিরতি, নিজের পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবা—সব মিলিয়ে বদলে গেছে জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। এখন সেই জীবনের সামনে আরও বড় পরিবর্তন। সামান্থা মা হতে চলেছেন।
‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সিনেমার সাফল্য, অসুস্থতার অভিজ্ঞতা, অভিনয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত, স্বামী ও পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে সম্পর্ক এবং জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
পর্দার স্বর্ণা, বাস্তবের সামান্থা
‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’-এ সামান্থার চরিত্রের নাম স্বর্ণা। সিনেমার শুরুতে শাড়ি ও চুড়ি পরা এক সাধারণ নারী হিসেবে দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু গল্প এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সেই চুড়ি খুলে রেখে পরিবারের জন্য লড়াইয়ে নামেন স্বর্ণা।
এই চরিত্রের রূপান্তরের সঙ্গে নিজের জীবনেরও মিল খুঁজে পেয়েছেন সামান্থা। শুটিংয়ের সময় স্বর্ণা, সামান্থা এবং পরিচালক ঝাঁসির মধ্যকার সীমারেখা অনেক সময়ই ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। তাঁর কাছে স্বর্ণা যেন নিজের জীবনেরই আরেকটি সংস্করণ হয়ে উঠেছিল।
ছবিটির গল্প লিখেছেন রাজ নিদিমোরু। সাই পল্লবী চরিত্রটি করতে না পারার পর রাজ সামান্থাকে প্রস্তাব দেন এবং পরে তাঁকে মাথায় রেখেই চিত্রনাট্যের বড় অংশ নতুন করে লেখা হয়।
সামান্থার মতে, স্বর্ণার গল্প তাঁর জীবনের কিছু অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। বাস্তবে অবশ্য তাঁকে কখনো খলনায়কদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়নি। তবে বারবার পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর যে মানসিক শক্তি অনেক নারীর মধ্যে রয়েছে, স্বর্ণার চরিত্রে তারই একটি অতিরঞ্জিত রূপ দেখা গেছে।
এই আস্থার কারণেই সিনেমার বেশ কিছু দৃশ্য এক টেকেই করতে পেরেছেন সামান্থা। চরিত্রটির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি নির্মাণ প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন। ফলে স্বর্ণার পৃথিবী, মানসিকতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল স্পষ্ট।
একসময় অভিনয়ই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন
প্রায় দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘মসকো কাবেরি’ দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন সামান্থা। কিন্তু ক্যারিয়ারের এতটা পথ পেরিয়ে একসময় সত্যিই অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি।
এক বছর বিরতি নেওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, জীবনে অন্য কিছু করা দরকার। অসুস্থতার কারণেও চিকিৎসকেরা তাঁকে বিশ্রাম নিতে এবং অন্য কিছু করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
২০২২ সালে মায়োসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ শুরু করেন তিনি। একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেকে ‘সিরিয়াল উদ্যোক্তা’ বলেও বর্ণনা করেছেন সামান্থা।
তখন নতুন জীবন বেশ উপভোগ করছিলেন তিনি। কিন্তু ‘সিটাডেল’-এর শুটিংয়ের সময় অসুস্থ শরীরে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে ভীষণ চাপে ফেলেছিল। একটি পুরো ইউনিট তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে, অনেক মানুষের সময় নষ্ট হচ্ছে—এই ভাবনা তাঁকে কষ্ট দিত।
একসময় তাই ঠিক করেছিলেন, অভিনয়ের বদলে প্রযোজনায় মন দেবেন। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ প্রযোজনা করবেন এবং পর্দার আড়াল থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা তৈরি করবেন—এতেই সন্তুষ্ট থাকার কথা ভেবেছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ নিদিমোরুর বিশ্বাস ও সাহস তাঁকে আবার ক্যামেরার সামনে ফিরিয়ে আনে।
মাত্র ৫৪ দিনে তৈরি সিনেমা, আয় ১০০ কোটি
‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ তৈরির সময় নির্মাতারা খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চাননি। প্রায় তিন বছর পর সামান্থার সিনেমা মুক্তি পাচ্ছিল। মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে খুব বেশি প্রচারও ছিল না। ফলে দর্শক কতটা আগ্রহ দেখাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
এ কারণে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। মাত্র ৫৪ দিনে শুটিং শেষ করা হয়। এমনকি বাসের পুরো অ্যাকশন দৃশ্য, ক্লাইম্যাক্স এবং কয়েকটি অতিরিক্ত দৃশ্য এক দিনেই শুট করা হয়েছিল।
সামান্থার মতে, সিনেমাটির সাফল্য কোনো একজনের কৃতিত্ব নয়। প্রথম দিন থেকেই সেটে ইতিবাচক পরিবেশ ছিল। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে একটু বেশি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রয়োজন হলে বন্ধু, পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন এবং নিজেরাও বিনিয়োগ করেছেন।
সিনেমার সাফল্য তাঁদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। প্রথম সপ্তাহান্তের পর সোমবারের ব্যবসা কেমন হয়, তা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন সামান্থা। সোমবার পার হওয়ার পর আবার পরের সপ্তাহান্তের দিকে তাকিয়েছিলেন। কিন্তু সিনেমাটির যাত্রা থামেনি।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল প্রেক্ষাগৃহে নারীদের উপস্থিতি। বিভিন্ন বয়সী নারী, পরিবার ও শিশুরা উৎসবের পোশাক পরে সিনেমা দেখতে হলে এসেছেন। সামান্থার কাছে মনে হয়েছে, তাঁরা শুধু সিনেমা দেখতে নয়, যেন একটি উৎসব উদ্যাপন করতেই প্রেক্ষাগৃহে এসেছিলেন।
অসুস্থতা বদলে দিয়েছে সামান্থার জীবন
অসুস্থ হওয়ার আগে সামান্থা নিজের পরিচয়কে কাজ, লক্ষ্য, ফলাফল ও সাফল্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। কী করছেন, কতটা ভালো করছেন এবং কতটা অর্জন করছেন—এসব দিয়েই নিজের মূল্য নির্ধারণ করতেন।
কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমবার তাঁকে থেমে যেতে হয়। তখন নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন—‘আমি যখন কিছুই করছি না, তখন আমি কে?’
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজের সম্পর্কে তাঁর ধারণা বদলে যায়। তিনি বুঝতে শেখেন, একজন মানুষের মূল্য শুধু সে কী কাজ করছে, তার ওপর নির্ভর করে না। কাজের বাইরের মানুষটিরও মূল্য রয়েছে।
সময়, মানসিক শান্তি, স্বাস্থ্য এবং কোনো একটি কাজের প্রতি মনোযোগ—সবকিছুরই মূল্য আছে। তাই এখন অনেক বেশি বেছে কাজ করেন তিনি।
ফিরে আসার পর অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ব্র্যান্ডের কাজ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন সামান্থা। বাইরে থেকে তাঁর জীবনকে হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু তাঁর কাছে এটি এখন অনেক বেশি অর্থপূর্ণ।
অসুস্থতা তাঁকে আত্মবিশ্বাসের নতুন সংজ্ঞাও দিয়েছে। তিনি বুঝেছেন, বাইরে থেকে যতই আত্মবিশ্বাসী দেখা যাক, শরীর খারাপ হলে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
একসময় নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে হয়েছিল তাঁর। পরে বুঝেছেন, অসুস্থতাকে থামাতে না পারলেও তার প্রতি নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
‘কেন আমার সঙ্গে এমন হলো?’—এই প্রশ্ন ধীরে ধীরে বদলে গিয়ে হয়েছে, ‘এখান থেকে কী শেখা যায়?’ সামান্থার কাছে এই পরিবর্তনই জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।
রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে সম্পর্ক
পেশাগত ও ব্যক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই রাজ নিদিমোরু এখন সামান্থার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ। সিনেমা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। সবকিছু নিয়েই তাঁরা কথা বলেন।
সামান্থা প্রথমে রাজকে পরিচালক হিসেবে চিনেছিলেন। পরে তাঁদের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছায়। রাজের বিচারবুদ্ধির ওপর তাঁর গভীর আস্থা রয়েছে।
সামান্থার মতে, রাজ খুব সহজ-সরল মানুষ এবং সব সময় অন্যের ভালো চান। তাঁদের মধ্যে মতবিরোধও খুব কম হয়, কারণ দুজনেই একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনেন।
রাজ তাঁকে আরও ভালো অভিনেতা হতে সাহায্য করেছেন—এ কথা স্বীকার করেন সামান্থা। তবে মজা করে বলেন, তিনি রাজকে আরও ভালো পরিচালক বানিয়েছেন—এ কথা তিনি বলতে পারবেন না।
এবার মা হওয়ার পালা
জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়েও সামান্থা বেশ স্বচ্ছন্দ। একটা সময় তিনি ও রাজ দুজনেই মেনে নিয়েছিলেন, তাঁদের সন্তান হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। যেকোনো ফলাফলের জন্যই তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন।
তাই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরটি তাঁদের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত আনন্দ। ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’-এর একটি গানের শুটিংয়ের সময় বিষয়টি জানতে পারেন সামান্থা। নাচের স্টেপ করতে গিয়ে শরীর কিছুটা খারাপ লাগছিল। পরে বুঝতে পারেন, জীবনের অনেক কিছু যেন একই সময়ে নিজের জায়গায় এসে মিলেছে।
সামান্থা এখন এই নতুন অধ্যায় নিয়ে ভীষণ উত্তেজিত। চারপাশের মানুষ তাঁকে বলছেন, সন্তান এলে জীবন পুরোপুরি বদলে যায়। আর সেই পরিবর্তনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন তিনি।
‘নিজেকে ছোট করে রাখার দিন শেষ’
কয়েক মাস আগে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারীদের আত্মবিশ্বাস নিয়েও কথা বলেছিলেন সামান্থা। তাঁর মতে, নারীরা অনেক সময় নিজেরাই নিজেদের ছোট করে রাখেন।
অন্যের সাফল্যে অস্বস্তি তৈরি হবে—এই আশঙ্কায় নিজেদের অর্জনের কৃতিত্বও অনেকে পুরোপুরি নেন না। কিন্তু সামান্থা মনে করেন, সেই সময় এখন শেষ।
১০০ কোটির বক্স অফিস সাফল্য, অসুস্থতা কাটিয়ে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন এবং জীবনের নতুন অধ্যায়—সব মিলিয়ে সামান্থা রুথ প্রভুর বর্তমান সময়টা যেন নিজের জীবনকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার গল্প। তাঁর কাছে সাফল্য এখন শুধু অর্থ বা বক্স অফিসের সংখ্যা নয়; বরং নিজের মতো করে বাঁচা, নিজের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রতিকূলতার পর আবার উঠে দাঁড়ানোর নামও সাফল্য।















