শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
অবশেষে ইনস্টাগ্রামে জেনিফার লরেন্স, মজার বায়োতে দিলেন চমক
- 3
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 4
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 5
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’

শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
শৈশবে পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি ইয়েলেনা রিবাকিনা। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতেই একসময় বুঝতে পারেন, এই খেলায় তিনি অন্যদের চেয়ে ভালো। পেশাদার হওয়ার ভাবনা আসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে। তখনও কে জানত, একদিন ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখবেন তিনি!
এখন সেই রিবাকিনার হাতের মুঠোয় বিশ্ব টেনিসের শীর্ষস্থান। ইউএস ওপেনের মেয়েদের এককের কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেং কিনওয়েনকে ৩–৬, ৬–১, ৬–৪ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন কাজাখস্তানের এই তারকা। ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের লড়াই শেষে শুধু শেষ চার নিশ্চিত করেননি, বদলে দিয়েছেন কাজাখস্তান টেনিসের ইতিহাসও।
আগামী সপ্তাহে মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আর আরিনা সাবালেঙ্কাকে দেখা যাবে না। ৯৯ সপ্তাহ পর বিশ্ব টেনিসের এক নম্বর সিংহাসনে বসতে যাচ্ছেন রিবাকিনা। কাজাখস্তানের ইতিহাসে প্রথম নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করবেন তিনি।
তবে এই ঐতিহাসিক অর্জন নিয়েও এখন খুব বেশি ভাবছেন না রিবাকিনা। তাঁর চোখ ইউএস ওপেনের শিরোপায়।
র্যাঙ্কিং নয়, রিবাকিনার চোখ শিরোপায়
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন—দুটি গ্র্যান্ড স্লাম এরই মধ্যে জিতেছেন রিবাকিনা। ফ্রেঞ্চ ওপেনে তাঁর সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। আর ইউএস ওপেনে এবারই প্রথম সেমিফাইনালে উঠেছেন।
তাই নিউইয়র্কে প্রথমবার ইউএস ওপেনের ট্রফি হাতে তোলার স্বপ্ন দেখতেই পারেন ২৭ বছর বয়সী এই তারকা।
রিবাকিনা নিজেও সেটাই চান। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হওয়াকে আপাতত পাশে রেখে তাঁর মনোযোগ পরের ম্যাচে। তাঁর ভাষায়, র্যাঙ্কিং এখন শুধু একটি সংখ্যা। যে টুর্নামেন্টেই খেলুন না কেন, তাঁর মূল লক্ষ্য থাকে শিরোপা জেতা।
বিশ্বসেরা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে অবশ্য রিবাকিনা রোমাঞ্চিত। তবে তাঁর উপলব্ধি আরও গভীর। ক্যারিয়ার শেষে পেছনে ফিরে তাকালে এই অর্জনের মূল্য আরও বেশি বুঝবেন বলেই মনে করেন তিনি। তখন ‘বিশ্বসেরা হয়েছিলাম’—এই স্মৃতিও নিশ্চয়ই বিশেষ অনুভূতি দেবে।
যে মেয়ের পেশাদার হওয়ার স্বপ্নই ছিল না
রিবাকিনার গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক এখানেই। ছোটবেলায় পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার কোনো স্বপ্নই ছিল না তাঁর।
বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস খেলতে খেলতে নিজের প্রতিভা সম্পর্কে ধারণা হয়। ১৭ বছর বয়সে পেশাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর শুধু খেলেই গেছেন। কত দূর যেতে পারবেন, তখন হয়তো নিজেও জানতেন না।
কিন্তু সেই পথেই এসেছে দুটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। আর এখন সামনে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষস্থান।
৯৯ সপ্তাহের রাজত্ব শেষ সাবালেঙ্কার
রিবাকিনার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হচ্ছে আরিনা সাবালেঙ্কার দীর্ঘ রাজত্বও। টানা ৯৯ সপ্তাহ বিশ্বের এক নম্বরে ছিলেন বেলারুশের এই তারকা। সব মিলিয়ে ১০৭ সপ্তাহ শীর্ষে থেকে ডব্লিউটিএ ইতিহাসে দীর্ঘতম রাজত্বের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
সাবালেঙ্কাকে সরিয়ে শীর্ষস্থান দখলের দৌড়ে ছিলেন রিবাকিনা, জেসিকা পেগুলা ও কোকো গফ। তবে সমীকরণ ছিল কঠিন। রিবাকিনা সেমিফাইনালে ওঠার আগেই বাদ পড়লে অন্যদের সুযোগ তৈরি হতো।
কিন্তু ঝেং কিনওয়েনকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেই সেই হিসাবের অবসান ঘটিয়েছেন রিবাকিনা।
শেষ চারে প্রতিপক্ষ কোকো গফ
সেমিফাইনালে রিবাকিনার প্রতিপক্ষ কোকো গফ। যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বাছাই এই তারকা কোয়ার্টার ফাইনালে রাশিয়ার মিরা আন্দ্রিভার বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে জয় পেয়েছেন।
প্রথম সেট মাত্র ২৬ মিনিটে ৬–২ ব্যবধানে হেরে পিছিয়ে পড়েছিলেন গফ। দ্বিতীয় সেটেও একসময় চাপে ছিলেন। তবে দুটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে ১৬ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে ৯–৭ ব্যবধানে সেটটি জিতে ম্যাচে ফেরেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক সেটে ৬–২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন গফ।
২০০৯ সালের পর বিরল ঘটনা
এবারের ইউএস ওপেনে মেয়েদের এককে একটি বিশেষ ঘটনাও ঘটেছে। ২০০৯ সালের উইম্বলডনের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে শীর্ষ চার বাছাই সবাই সেমিফাইনালে উঠেছেন।
শেষ চারে রয়েছেন শীর্ষ বাছাই আরিনা সাবালেঙ্কা, দ্বিতীয় বাছাই ইয়েলেনা রিবাকিনা, তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলা এবং চতুর্থ বাছাই কোকো গফ।
তবে শিরোপা জিতলেও এবার সাবালেঙ্কার পক্ষে র্যাঙ্কিংয়ের সিংহাসন ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। রিবাকিনার জায়গা ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে।
চোট পেরিয়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন
গত বছর ইউএস ওপেনের সময় র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন রিবাকিনা। চোট, শারীরিক অসুস্থতা এবং পারফরম্যান্সের ঘাটতিতে সময়টা ভালো যাচ্ছিল না।
এ বছর অবশ্য পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার পাশাপাশি স্টুটগার্টে শিরোপা জিতেছেন। ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও টরন্টোয় হয়েছেন রানার্সআপ।
তবে ইউএস ওপেন শুরুর মাত্র ১২ দিন আগে সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ইগা শিওনতেকের বিপক্ষে চোট নিয়ে কোর্ট ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে। এরপর সাত দিন অনুশীলনও করতে পারেননি। ফলে নিউইয়র্কে নিজের শরীর কীভাবে সাড়া দেবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।
সেই অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে এখন সেমিফাইনালে রিবাকিনা।
‘নিজের ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম’
কাজাখস্তানে এখন ছোটদের মধ্যে টেনিসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অনেক খুদে খেলোয়াড় রিবাকিনাকে অনুসরণ করেন। তাই দেশটির টেনিসে তাঁর এই উত্থানের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ।
সফলতার পেছনে কী কাজ করেছে—এই প্রশ্নের উত্তরও খুব সহজভাবে দিয়েছেন রিবাকিনা।
তাঁর মতে, সফল হতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজের ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম।
একসময় যে মেয়েটি পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্নও দেখেননি, সেই রিবাকিনাই এখন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর স্থান নিশ্চিত করেছেন, আর এখন তাঁর সামনে আরেকটি বড় লক্ষ্য—ইউএস ওপেনের ট্রফি।














