এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে মাঠ-হোটেল নিয়ে উদ্বেগ, বেসবল মাঠে ক্রিকেট
- 1
জুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে নতুন মোড়, দরজা খুললেই বিড করবে আর্সেনাল
- 2
দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদী ডি ভিলিয়ার্স, দিলেন ব্যাটিংয়ের পরামর্শ
- 3
নতুন নেদারল্যান্ডসের স্বপ্ন শাভির, বল পায়ে আধিপত্য আর জয়ের মানসিকতা চান কোচ
- 4
ইউনাইটেডের ১৬ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে পিএফএ বর্ষসেরা ফার্নান্দেজ
- 5
ভারতের বিপক্ষে একাই লড়ছেন দিনুশা, ফলোঅন এড়াতে শ্রীলঙ্কার দরকার ৩৯ রান

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে মাঠ-হোটেল নিয়ে উদ্বেগ, বেসবল মাঠে ক্রিকেট
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে মাঠ-হোটেল নিয়ে উদ্বেগ, বেসবল মাঠে ক্রিকেট
সময় ঘনিয়ে আসছে এশিয়ান গেমসের। এশিয়ার শীর্ষ ক্রিকেট দলগুলোও নিজেদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে। তবে মাঠে নামার আগেই আয়োজকদের সামনে তৈরি হয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেটের ভেন্যু, উইকেট, ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের আবাসন নিয়েও।
জাপানের নাগোয়ার পূর্বদিকে নিসশিন শহরে এবার বসছে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচগুলো। কয়েক মাস আগেও জায়গাটি ছিল বেসবল মাঠ। গত মার্চে ক্রিকেটের উপযোগী করে সেটিকে প্রস্তুত করা হলেও ভেন্যু নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই অংশগ্রহণকারী দলগুলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, এখানে ব্যবহার করা হবে হাইব্রিড পিচ। উইকেটের বড় অংশ প্রাকৃতিক ঘাসের হলেও এতে অল্প পরিমাণ পলিথিন ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে। পিচটি নতুন হওয়ায় এর আচরণ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। গত মে মাসে সেখানে প্রথমবারের মতো ক্রিকেট খেলা হয়েছিল।
এশিয়ান গেমসের অপারেশনস ম্যানেজার অ্যাডাম বির্সও জানিয়েছিলেন, উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে সেপ্টেম্বরে জাপানে শুরু হওয়া টাইফুন মৌসুমও মাঠের পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
উদ্বেগ শুধু উইকেটেই সীমাবদ্ধ নয়। ভেন্যুর ড্রেসিংরুম নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠে পর্যাপ্ত মানের ড্রেসিংরুম নেই। দর্শক ধারণক্ষমতাও প্রায় দুই হাজার। বেসবল মাঠের পুরোনো কাঠামোর কিছু অংশ এখনো রয়ে গেছে, এমনকি পিচারের মাউন্ডও সরানো হয়নি।
ভেন্যুর এসব সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রথম আপত্তি তোলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানসহ সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এ নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর ভেন্যু ও খেলোয়াড়দের আবাসন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এসিসি।
বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিসিআই) নড়েচড়ে বসেছে। তারা ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্রিকেটের কারিগরি বিষয়গুলোতে তাদের সরাসরি ভূমিকা নেই। এ কারণে বিসিসিআইকে আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
মাঠের বাইরে আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্রিকেটারদের আবাসন। এবারের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে প্রচলিত অ্যাথলেটস ভিলেজ থাকছে না। প্রায় ১৫ হাজার অংশগ্রহণকারীকে রাখা হবে ক্রুজ লাইন, গেমস ভিলা ও বিভিন্ন হোটেলে।
ক্রিকেটারদের পাশাপাশি শাটলার, ফুটবলার ও সফটবল খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে নাগোয়ার বিভিন্ন হোটেলে। কিন্তু সেখানকার কিছু কক্ষের আকার নিয়েও আপত্তি উঠেছে। জানা গেছে, কিছু ঘরে দুজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁদের কিটব্যাগ ও লাগেজ রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সমস্যাটির গুরুত্ব স্বীকার করেছেন এশিয়ান অলিম্পিক কাউন্সিলের এক কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, ঘরগুলো এত ছোট যে একজন খেলোয়াড় কিটব্যাগ খুললে দাঁড়ানোর জায়গাও খুব বেশি অবশিষ্ট থাকে না। বিষয়টির সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ছেলেদের ক্রিকেট ইভেন্ট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি নকআউট পর্ব থেকে শুরু করবে। প্রথম রাউন্ডে আফগানিস্তান, হংকং, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ওমানের মধ্য থেকে চার দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।
মেয়েদের ক্রিকেট ইভেন্ট অবশ্য আরও আগে শুরু হবে—১৭ সেপ্টেম্বর থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত খেলবে জাপানের বিপক্ষে, বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে চীনের, শ্রীলঙ্কা লড়বে মালয়েশিয়ার সঙ্গে এবং পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। মেয়েদের প্রতিযোগিতা শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর।
এশিয়ার বড় দলগুলোর উপস্থিতিতে ক্রিকেটে জমজমাট লড়াইয়ের প্রত্যাশা থাকলেও, মাঠ ও আবাসনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।















