বাটলার ফিরেও পারলেন না, শ্রীলঙ্কার কাছে ১৬ রানে হার ইংল্যান্ডের
- 1
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 2
বিশ্বকাপের হতাশা এখনও পোড়ায় ইংল্যান্ডকে, সাকার কথায় সেই ‘ক্ষত’
- 3
কলকাতায় নামার আগেই কার্লো আনচেলত্তির গর্জন: ‘ব্রাজিলের অভিধানে প্রীতি ম্যাচ বলে কিছু নেই’
- 4
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 5
দুই গোল করলেই রোনালদোকে তুলে নিতে চান পর্তুগাল কোচ

বাটলার ফিরেও পারলেন না, শ্রীলঙ্কার কাছে ১৬ রানে হার ইংল্যান্ডের
বাটলার ফিরেও পারলেন না, শ্রীলঙ্কার কাছে ১৬ রানে হার ইংল্যান্ডের
৩২১ রানের লক্ষ্য। ৭৫ বলে দরকার ছিল ৬৮ রান। ক্রিজে ছিলেন জস বাটলার, ৬৭ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। হেডিংলিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডের জয় তখন সময়ের ব্যাপারই মনে হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল ম্যাচের চিত্র।
হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগায় ৬৭ রানেই অবসরে যেতে বাধ্য হন বাটলার। তাঁর মাঠ ছাড়ার পরই ইংল্যান্ডের রান তাড়ায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। শেষ পর্যন্ত চোট নিয়েই আবার ব্যাট হাতে ফিরেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক, কিন্তু দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৬ রানেই থেমে যায় ইংল্যান্ড। ফলে ১৬ রানের জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় ফিরিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
বাটলারের চোট বদলে দিল ম্যাচের হিসাব
ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য শেষ ৭৫ বলে যখন মাত্র ৬৮ রান প্রয়োজন, তখন বাটলারের ব্যাটিং দেখে ম্যাচ একপেশে মনে হচ্ছিল। কিন্তু হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ৬৭ রানেই অবসরে যেতে হয় তাঁকে।
এরপরও ইংল্যান্ডের সামনে সুযোগ ছিল। গাস অ্যাটকিনসন, উইল জ্যাকসসহ ব্যাটিংয়ে কার্যকর কয়েকজন তখনও ক্রিজে ছিলেন। একসময় সমীকরণ নেমে আসে ১৪ বলে ২৭ রানে।
সেখানেও ইংল্যান্ডের আশা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। উইল জ্যাকসের ৫২ রান সেই সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিল। এমনকি বাটলারও আবার মাঠে ফিরে ব্যাটিং শুরু করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি ইংল্যান্ড।
জ্যাকস রানআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ডের শেষ বড় আশাটিও শেষ হয়ে যায়। এরপর ৬৯ রানে বাটলার আউট হলে শ্রীলঙ্কার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান, কিন্তু সেই সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি তারা।

কুশল মেন্ডিসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি
শ্রীলঙ্কার ৩২১ রানের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন কুশল মেন্ডিস। পুরো সিরিজে ব্যাট হাতে খুব একটা স্বস্তিতে না থাকা শ্রীলঙ্কার এই ব্যাটার এদিন খেলেছেন দুর্দান্ত এক ইনিংস।
মাত্র ১০০ বলে ১২১ রান করেন মেন্ডিস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তাঁর সপ্তম সেঞ্চুরি। তাঁর ইনিংসের ওপর ভর করেই শ্রীলঙ্কা ৩২০ পেরোনো সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
পরে সেই বড় সংগ্রহই শ্রীলঙ্কার বোলারদের লড়াই করার সুযোগ করে দেয়। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে শেষ পর্যন্ত ৩০৬ রানে আটকে দিয়ে সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান তাঁরা।

রিভার্স সুইংয়ে ইংল্যান্ডকে আটকাল শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কার বোলারদের কৃতিত্বও কম নয়। ইনিংসের শেষদিকে পেসাররা রিভার্স সুইং কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের রান তোলার গতি কমিয়ে দেন।
বাটলার মাঠ ছাড়ার পরও ইংল্যান্ড ম্যাচে ছিল। কিন্তু শেষ ১০-১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের রান তাড়াকে কঠিন করে তোলেন তাঁরা।
এই জয়ে সাত বছর পর ইংল্যান্ডের মাটির বাইরে ইংলিশদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে জয় পেল শ্রীলঙ্কা। চলতি সফরেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই তাদের প্রথম জয়।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ দ্য ওভালে
ম্যাচ হারের পর হতাশ ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বলেন, “আপনি যখন হেরে যান, তখন সব সময়ই হতাশ লাগে। বিশেষ করে শেষ ১০-১৫ ওভারে শ্রীলঙ্কা অসাধারণ খেলেছে। ম্যাচে এমন অনেক মুহূর্ত ছিল, যেখানে আমরা আরেকটু ভালো করতে পারতাম।”
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তাঁর ভাষায়, “আমার দল যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুবই খুশি। আমরা খুব ভালোভাবে শুরু করেছিলাম এবং মিডল অর্ডারও দারুণ ব্যাটিং করেছে। আজকের ম্যাচ শেষ, এখন আমাদের পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে এবং মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক করতে হবে।”
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচটিই হবে নির্ধারক। আগামী পরশু দ্য ওভালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।














