অভিষেকেই ৯ ছক্কার রেকর্ড রাজাউল্লাহর, ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ১৩০
- 1
সাইম আইয়ুবের ব্যর্থতা ও নাসের হুসেইনের সমালোচনা: ‘টেস্ট ক্রিকেটকে অসম্মান করেছে পাকিস্তান’
- 2
নেইমারের হাত ধরে সান্তোসে ফিরছেন কুতিনিও, ক্যারিয়ার পুনর্জাগরণের অপেক্ষা
- 3
রিজওয়ান-ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদ, পাকিস্তান ক্রিকেটে বাড়ছে রহস্য
- 4
iPhone 18 Pro Max কবে বাজারে আসছে? সঙ্গে প্রথম ফোল্ডেবল iPhone Duo
- 5
রাজমুকুট প্রত্যাখ্যান করে ফুটবল মাঠেই থেকে গেলেন গোলকিপার জর্জ কামুরাসি

অভিষেকেই ৯ ছক্কার রেকর্ড রাজাউল্লাহর, ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ১৩০
অভিষেকেই ৯ ছক্কার রেকর্ড রাজাউল্লাহর, ইংল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ১৩০
তিন দিনে ম্যাচ শেষ হওয়ার মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পড়ার পর প্রশ্ন ছিল, ইনিংস হার এড়াতে পারবে তো দলটি? সেই সময়ই পাল্টে গেল ম্যাচের চিত্র। টেস্ট অভিষেকে রাজাউল্লাহর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ইনিংস হার এড়িয়ে চতুর্থ দিনে ম্যাচ টেনে নিয়েছে পাকিস্তান।
এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান করেছে পাকিস্তান। সিরিজের আগের পাঁচ ইনিংসেই দুইশর নিচে অলআউট হওয়া দলটি এবার দেখিয়েছে দুর্দান্ত লড়াই। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে।
পাকিস্তানের হয়ে আজান আওয়াইস করেন ৫৯ রান। শান মাসুদ সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে থামেন ৯৫ রানে। বাবর আজমের ব্যাট থেকে আসে ৭৬ রান। তবে শেষ দিকে রাজাউল্লাহর ঝড়ই পাকিস্তানের ইনিংসকে নিয়ে যায় ৪৪৯ পর্যন্ত।
৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামার সময় রাজাউল্লাহর দল ছিল ৭ উইকেটে ৩১২ রানে। ইনিংস হার এড়াতে তখন প্রয়োজন ছিল আরও ৮ রান। অষ্টম উইকেট পড়ার পর সেই ব্যবধান নেমে আসে মাত্র ২ রানে।
এরপরই শুরু হয় ২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহর পাল্টা আক্রমণ। প্রথমে জশ টাংকে ছক্কা মেরে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস নিশ্চিত করেন তিনি। এরপর গাস অ্যাটকিনসনের এক ওভারে মারেন আরও তিনটি ছক্কা। অলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চারও রেহাই পাননি।
মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রাজাউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। চারটি চারের সঙ্গে হাঁকান ৯টি ছক্কা।
এই ৯ ছক্কার মাধ্যমে টেস্ট অভিষেকে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে যৌথভাবে উঠে এসেছেন রাজাউল্লাহ। ২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেকে ৯টি ছক্কা মেরে এই রেকর্ড গড়েছিলেন ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস বোলিং পরামর্শক ও নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি। এবার তাঁর পাশে বসেছেন রাজাউল্লাহ।
শেষ পর্যন্ত ড্যান লরেন্সের বলে নবম ছক্কা মেরে রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। পরের বলেই এলবিডব্লিউয়ের আবেদন থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও, তার পরের বলেই স্টাম্পড হয়ে ফেরেন রাজাউল্লাহ। সেখানেই শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস।
এর আগে শান মাসুদ ও আজানের ব্যাটে পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি তৈরি হয়। ৪০ রানে জীবন পাওয়া মাসুদ ৮১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। পরে সেঞ্চুরির পথে এগোলেও গাস অ্যাটকিনসনের বলে গালিতে ড্যান লরেন্সের দুর্দান্ত এক হাতে নেওয়া ক্যাচে ৯৫ রানে ফিরতে হয় তাঁকে।
বাবর আজমও ইতিবাচক শুরু করেছিলেন। ৭৬ রান করার পথে পাকিস্তানের পঞ্চম অধিনায়ক হিসেবে দুই হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তবে দীর্ঘ সেঞ্চুরি-খরা কাটানোর সম্ভাবনা জাগিয়েও বাজে শটে আউট হন বাবর। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সেঞ্চুরি-খরা এখন টানা ৪০ ইনিংসে। সর্বশেষ তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছিলেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, করাচিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
রাজাউল্লাহর এই ইনিংসের আগে পাকিস্তান ছিল বড় চাপে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হওয়ার পর ইংল্যান্ড ৪৫৩ রান করে। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩২০ রানে পিছিয়ে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২/২ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ৪৪৯ রান করায় ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩০।
এখন চতুর্থ দিনে রান তাড়ায় নামবে জো রুটের দল। তিন ম্যাচের সিরিজে ইতিমধ্যে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ডের সামনে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। তবে রাজাউল্লাহর ঝড় ম্যাচের সমীকরণে যে নতুন উত্তেজনা এনে দিয়েছে, সেটি নিশ্চিত।















