Image

পাসপোর্টের গল্প মিথ্যা, এজবাস্টনে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর ঝড়

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
পাসপোর্টের গল্প মিথ্যা, এজবাস্টনে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর ঝড়

পাসপোর্টের গল্প মিথ্যা, এজবাস্টনে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর ঝড়

পাসপোর্টের গল্প মিথ্যা, এজবাস্টনে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর ঝড়

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আলোচনায় উঠে এসেছেন পাকিস্তানের রাজাউল্লাহ। তবে মাঠে তাঁর ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল পাসপোর্ট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি খবর। শেষ পর্যন্ত সেই খবরকে পুরোপুরি মিথ্যা বলে জানালেন পাকিস্তানের এই ক্রিকেটার।

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলে সুযোগ পাওয়ার সময় রাজাউল্লাহর পাসপোর্ট ছিল না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বলা হয়, শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট তৈরি করে তাঁকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে।

তবে এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন রাজাউল্লাহ। পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পাসপোর্ট নিয়ে যে খবর বেরিয়েছে, সেটা ভুয়া। আমি এক বছর আগেই পাসপোর্ট করেছি।’

পাসপোর্টের গল্পের চেয়ে অবশ্য এজবাস্টনে তাঁর ব্যাটিংই ছিল দিনের বড় খবর। ৯ নম্বরে নেমে মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান করেন রাজাউল্লাহ। তাঁর বিদায়ের সময় পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি গ্যালারিতেও দর্শকেরা দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানান।

তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসেই বড় বিপদ থেকে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করার মতো লক্ষ্য দাঁড় করানোর সুযোগ পায়।

ব্যাটিংয়ের পুরো সময়টিই উপভোগ করেছেন রাজাউল্লাহ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মানুষ দাঁড়িয়ে আমার জন্য হাততালি দিচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা আমি উপভোগ করেছি। আমি জীবন উপভোগ করতে পছন্দ করি এবং মুহূর্তটি উপভোগ করছিলাম।’

৯ নম্বরে ব্যাট করলেও ব্যাটিং তাঁর অপরিচিত নয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবেও সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর। তবে অভিষেক টেস্ট, তার ওপর এজবাস্টনের মতো ভেন্যু—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জটা ছিল কঠিন।

ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের টানা পাঁচ ইনিংসে সমস্যায় ফেলেছিল। সেই আক্রমণের সামনে রাজাউল্লাহকেও নিয়মিত শর্ট বল করা হয়। জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন ও জশ টাং বারবার তাঁকে শর্ট বল দিয়ে পরীক্ষা নেন। সফরজুড়ে এমন বলেই বাবর আজমসহ পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান ভুগেছেন।

রাজাউল্লাহ অবশ্য শর্ট বলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক না হয়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কোন বলগুলোতে স্লগ করব, সে বিষয়ে বেছে নিচ্ছিলাম। তবে সব কটিই আমার নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছিল। আমি যতটা সম্ভব টেনে লম্বা করতে চেয়েছিলাম।’

আর্চারের গতির সামনেও ভয় পাননি বলে জানান তিনি। রাজাউল্লাহ বলেন, ‘পেস নিয়ে আমি ভয় পাইনি। হার্ড লেংথে পড়া আর্চারের বলগুলো শাস্তি দিতে চেয়েছিলাম। দেশের হয়ে খেললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু উপভোগ করছিলাম।’

শর্ট বল যে তাঁর পছন্দের, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই পাকিস্তানি ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘আমার শর্ট বল সবচেয়ে পছন্দের। আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, যদি ৫০টি বল খেলতে পারি, তাহলে ইতিবাচক ফল পাব। আর সৌভাগ্যক্রমে সেটাই হয়েছে।’

অভিষেক টেস্টেই এমন সাহসী ব্যাটিং করে রাজাউল্লাহ এখন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে আলোচনার নাম।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three