শামিকে কেন দলে রাখা হচ্ছে না? সৌরভ বললেন, ‘বয়স হলে এমনটা হয়’
- 1
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 2
শৈশবে টেনিস তারকা হওয়ার স্বপ্নই ছিল না, সেই রিবাকিনাই এখন বিশ্বসেরা
- 3
আশ্রয়প্রার্থী ভেবে ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ঘিরে ধরেছিলেন বিক্ষোভকারীরা
- 4
সিপিএলে নেমেই মিরাজের স্পিন–ফাঁস, তাহির বললেন, ‘বিশ্বমানের বোলার’
- 5
১০০ কোটির সাফল্যের পর মা হচ্ছেন সামান্থা, অসুস্থতা ও অভিনয়ে ফেরার গল্পও জানালেন

শামিকে কেন দলে রাখা হচ্ছে না? সৌরভ বললেন, ‘বয়স হলে এমনটা হয়’
শামিকে কেন দলে রাখা হচ্ছে না? সৌরভ বললেন, ‘বয়স হলে এমনটা হয়’
দেড় বছর ধরে ভারতীয় জাতীয় দলের বাইরে মোহাম্মদ শামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার। তবে শামিকে নির্বাচকেরা উপেক্ষা করছেন—এমনটা মনে করেন না ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি। বরং বয়স বাড়লে একজন ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে এমন পরিস্থিতি আসতেই পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট, ১০৮টি ওয়ানডে ও ২৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা শামির জাতীয় দলে না থাকা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও কেন তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে না, তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
সৌরভ অবশ্য শামিকে বাদ দেওয়াকে উপেক্ষা হিসেবে দেখছেন না। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে না। সে খুব ভালো খেলছে। সে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন। কিন্তু বয়স হয়ে গেলে এমনটা হয়।”
নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণও টেনেছেন সৌরভ। ভারতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক বলেন, “আমি যখন ১০ হাজার রান করার পরও এক বছরের জন্য ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েছিলাম, তখন আবার ফিরে এসেছিলাম। তাই এমনটা সবার সঙ্গেই হয়ে থাকে।”
সৌরভের সেই বাদ পড়ার ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালে। অধিনায়কত্ব নিয়ে বিতর্ক এবং তৎকালীন কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের সঙ্গে মতবিরোধের পর ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় ১৫ মাস ওয়ানডে দলে জায়গা পাননি তিনি। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফিরে ৯৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ।
ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির পারফরম্যান্স
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন শামি। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরেন তিনি।
এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলেন শামি। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে শিকার করেন ৩ উইকেট। তবে ফাইনালে ৯ ওভারে ৭৪ রান দেওয়ার পর আর ভারতীয় দলে সুযোগ পাননি এই পেসার।
শামিকে জাতীয় দলের বাইরে রাখার বিষয়ে ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার একসময় তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স দিয়েই জবাব দিয়েছেন শামি।
সৌরভও শামির এই লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “শামির যে বিষয়টি আমার ভালো লাগে, তা হলো সে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছে এবং পারফর্ম করছে। এটা দেখতে দারুণ লাগছে। সে অনেক কিছু অর্জন করেছে।”
গত রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার সেমিফাইনালে ওঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল শামির। সাত ম্যাচে ১৬.৭২ গড়ে ৩৭ উইকেট নিয়ে দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন তিনি।
এরপর সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি ও বিজয় হাজারে ট্রফিতেও ভালো পারফরম্যান্স করেন শামি। সর্বশেষ আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে ১৩ ম্যাচে নেন ১২ উইকেট।
দুলিপ ট্রফিতেও ইস্ট জোনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তিন ম্যাচে ২৬.৫৭ গড়ে শামির শিকার ৭ উইকেট।
২০২৭ বিশ্বকাপে কি খেলবেন শামি?
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শামি ভারতীয় দলে থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি সৌরভ।
তিনি বলেন, “সেটা এখনও অনেক দূরের ব্যাপার। আমি মন্তব্য করতে পারছি না। বিশ্বকাপ পরের বছরের অক্টোবর মাসে। এখনও অনেক দেরি।”
ভারতের সাবেক বোর্ড প্রধান ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) বর্তমান সভাপতি সৌরভ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শামির ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন।
শামির বয়স, ফিটনেস ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—সবকিছু বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স যে জাতীয় দলে ফেরার দাবিকে আরও জোরালো করছে, তা বলাই যায়।















