Image

সিংহাসন হারানোর জবাব দিতে সাবালেঙ্কা, রিবাকিনার সামনে ইতিহাসের হাতছানি

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
সিংহাসন হারানোর জবাব দিতে সাবালেঙ্কা, রিবাকিনার সামনে ইতিহাসের হাতছানি

সিংহাসন হারানোর জবাব দিতে সাবালেঙ্কা, রিবাকিনার সামনে ইতিহাসের হাতছানি

সিংহাসন হারানোর জবাব দিতে সাবালেঙ্কা, রিবাকিনার সামনে ইতিহাসের হাতছানি

ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে এর চেয়ে জমজমাট লড়াই আর কী-ই বা হতে পারে! এক পাশে শীর্ষ বাছাই ও দুইবারের চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কা, অন্য পাশে দ্বিতীয় বাছাই ইয়েলেনা রিবাকিনা। তবে শুধু র‍্যাঙ্কিং কিংবা বাছাইয়ের হিসাবেই এই ফাইনালের গুরুত্ব শেষ হচ্ছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়ার লড়াই, প্রতিশোধের গল্প এবং নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ।

টানা তৃতীয়বার ইউএস ওপেনের শিরোপা জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাবালেঙ্কা। ক্রিস এভার্ট ও সেরেনা উইলিয়ামসের পর ওপেন যুগে ইউএস ওপেনে টানা তিনটি শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়তে হলে তাঁকে হারাতে হবে রিবাকিনাকে। ফ্লাশিং মিডোজে এটি হবে বেলারুশের তারকার টানা চতুর্থ ফাইনাল।

সেমিফাইনালে জেসিকা পেগুলার বিপক্ষে সাবালেঙ্কার পারফরম্যান্সই বলে দিয়েছে, ফাইনালের জন্য তিনি কতটা প্রস্তুত। সরাসরি সেটে ৭-৫, ৬-২ ব্যবধানে জিতে যুক্তরাষ্ট্রের পেগুলাকে কার্যত কোনো সুযোগই দেননি তিনি। শক্তিশালী সার্ভিস, ভয়ংকর গ্রাউন্ডস্ট্রোক আর একের পর এক উইনারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে রাখেন সাবালেঙ্কা।

পেগুলার ১২টির বিপরীতে সাবালেঙ্কার উইনার ছিল ২৯টি। ম্যাচ শেষে পেগুলাও স্বীকার করেছেন, এদিন সাবালেঙ্কাকে থামানোর মতো কিছু করার সুযোগই তিনি খুব একটা পাননি। তাঁর মতে, ওই ধরনের পারফরম্যান্সে সাবালেঙ্কা বিশ্বের প্রায় যেকোনো খেলোয়াড়কেই হারাতে পারতেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ইউএস ওপেনের ওপেন যুগে হার্ডকোর্ট গ্র্যান্ড স্লামে টানা সবচেয়ে বেশি ফাইনালে ওঠার রেকর্ডও নিজের করে নেন ২৮ বছর বয়সী সাবালেঙ্কা। ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর থেকে ইউএস ওপেনে প্রতিটি আসরেই ফাইনালে উঠেছেন তিনি।

তবে ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ রিবাকিনাও কম যান না। বরং এই ম্যাচে কাজাখস্তানের তারকার সামনে আছে আলাদা এক প্রেরণা। ফাইনালের ফল যাই হোক, আগামী সোমবার নতুন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠবেন রিবাকিনা। অর্থাৎ সাবালেঙ্কার কাছ থেকে হারানো শীর্ষস্থান ইতিমধ্যেই নিজের করে নেওয়ার পথে তিনি।

এখন তাঁর সামনে সেই সিংহাসনের সঙ্গে ইউএস ওপেনের ট্রফিও যোগ করার সুযোগ।

ফাইনালের আগে রিবাকিনা অবশ্য জানেন, সাবালেঙ্কাকে হারাতে হলে নিজের সেরাটাই দিতে হবে। তাই বলেছেন, খেলার ধার আরও বাড়াতে হবে, সার্ভিস আরও ভালো করতে হবে এবং পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক থাকার চেষ্টা করতে হবে।

অন্যদিকে, সাবালেঙ্কার জন্য এই ফাইনালটা শুধু আরেকটি গ্র্যান্ড স্লাম ম্যাচ নয়। র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারানোর পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বীকেই সামনে পেয়ে গেছেন, যিনি তাঁর জায়গা দখল করতে যাচ্ছেন। ফলে ফাইনাল জিতলে ট্রফির পাশাপাশি সিংহাসন হারানোর তাৎক্ষণিক জবাবও দেওয়া হবে।

সেমিফাইনালের পর সাবালেঙ্কা নিজেই জানিয়েছেন, ফাইনালে ওঠার জন্য তিনি ভীষণ মরিয়া ছিলেন। ট্রফি জিততে এখন তিনি আরও বেশি প্রস্তুত।

২০১৩ সালের ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা–সেরেনা উইলিয়ামস ফাইনালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন শীর্ষ দুই বাছাই। তাই ম্যাচটির গুরুত্ব শুধু শিরোপা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়।

একজন লড়বেন হারানো সিংহাসনের জবাব দিতে, অন্যজন সেই সিংহাসনের দখল যে প্রাপ্য—তা ট্রফি জিতে প্রমাণ করতে। ইউএস ওপেনের মঞ্চে তাই সাবালেঙ্কা–রিবাকিনা ফাইনাল হয়ে উঠেছে সিংহাসন, প্রতিশোধ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three