৯/১১-এর ২৫ বছর: চার বিমান, ১৯ ছিনতাইকারী—যে হামলা বদলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব
- 1
যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিসে সর্বকালের রেকর্ড, গ্রীষ্মে আয় ৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার
- 2
সাইমকে টেস্টে খেলানোই ‘অসম্মান’, পাকিস্তানকে নিয়ে নাসের হুসেইনের কড়া সমালোচনা
- 3
চ্যাম্পিয়নস লিগেও পাঁচ গোলের ঝড়, ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে বার্সার দুর্দান্ত শুরু
- 4
অবশেষে ইনস্টাগ্রামে জেনিফার লরেন্স, মজার বায়োতে দিলেন চমক
- 5
তোরেসের হ্যাটট্রিকে পিএসজির ৫-১ জয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত শুরু

৯/১১-এর ২৫ বছর: চার বিমান, ১৯ ছিনতাইকারী—যে হামলা বদলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব
৯/১১-এর ২৫ বছর: চার বিমান, ১৯ ছিনতাইকারী—যে হামলা বদলে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট। নিউইয়র্কের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ত সকাল হঠাৎ বদলে গেল এক ভয়াবহ দৃশ্যে। একটি বিমান আঘাত হানল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই, নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগনে হামলা এবং পেনসিলভানিয়ায় আরেকটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস।
আজ সেই ৯/১১ হামলার ২৫ বছর। হামলাটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিকে বদলে দেয়নি, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। বদলে যায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমান চলাচলের নিয়ম, সন্ত্রাসবিরোধী নীতি এবং মুসলিমদের প্রতি পশ্চিমা সমাজের একটি বড় অংশের দৃষ্টিভঙ্গিও।
চার বিমান, ১৯ ছিনতাইকারী—মিনিটে মিনিটে যা ঘটেছিল
সেদিন মোট চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করা হয়। প্রতিটির গন্তব্য ছিল আলাদা, তবে শেষ পর্যন্ত চারটিই পরিণত হয় ভয়াবহ হামলার অস্ত্রে।
সকাল ৭টা ৫৯ মিনিট: বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১১ উড্ডয়ন করে। এতে ছিলেন ৭৬ যাত্রী, ১১ ক্রু ও পাঁচ ছিনতাইকারী।
সকাল ৮টা ১৫ মিনিট: একই বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৫ উড়ে যায়। এতে ছিলেন ৫১ যাত্রী, নয় ক্রু ও পাঁচ ছিনতাইকারী।
সকাল ৮টা ২০ মিনিট: ওয়াশিংটনের ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৭৭ উড্ডয়ন করে। এতে ছিলেন ৫৩ যাত্রী, ছয় ক্রু ও পাঁচ ছিনতাইকারী।
সকাল ৮টা ৪২ মিনিট: নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ উড্ডয়ন করে। এতে ছিলেন ৩৩ যাত্রী, সাত ক্রু ও চার ছিনতাইকারী।
এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঘটে যায় ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা।
সকাল ৮টা ৪৬ মিনিট: ফ্লাইট ১১ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত হানে।
সকাল ৯টা ৩ মিনিট: ফ্লাইট ১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আছড়ে পড়ে।
সকাল ৯টা ৩৭ মিনিট: ফ্লাইট ৭৭ পেন্টাগনে আঘাত হানে।
সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট: ধসে পড়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সাউথ টাওয়ার।
সকাল ১০টা ৩ মিনিট: ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।
সকাল ১০টা ২৮ মিনিট: ধসে পড়ে নর্থ টাওয়ার।
ফ্লাইট ৯৩-এর লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা—সম্ভবত ক্যাপিটল ভবন বা হোয়াইট হাউস। তবে উড়োজাহাজটির যাত্রী ও ক্রুরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাঁদের সেই প্রচেষ্টার কারণে বিমানটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
প্রাণহানি ছিল ভয়াবহ
৯/১১ হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে নিউইয়র্কে ২ হাজার ৭৫৩ জন, পেন্টাগনে ১৮৪ জন এবং ফ্লাইট ৯৩-এর ঘটনায় ৪০ জন প্রাণ হারান। নিহত ব্যক্তিরা বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশের নাগরিক ছিলেন।
নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাধারণ মানুষ, বিমানযাত্রী, অফিসকর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে প্রাণ হারান ৩৪৩ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী এবং ৬০ জনের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
এ ছাড়া ১৯ জন ছিনতাইকারীও হামলায় নিহত হয়েছিলেন।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চত্বরের ধ্বংসযজ্ঞ ছিল নজিরবিহীন। টুইন টাওয়ার ছাড়াও আশপাশের আরও কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলে দীর্ঘদিন। ২০০২ সালের ৩০ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাউন্ড জিরো থেকে শেষ স্টিলের টুকরো সরানো হয়।
৯/১১-এর আগে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারেও হামলা হয়েছিল
৯/১১ ছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের প্রথম হামলা নয়। ১৯৯৩ সালে ভবনটির নিচের পার্কিং এলাকায় একটি ভ্যানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় ছয়জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হন।
তবে ২০০১ সালের হামলার ব্যাপকতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। পার্ল হারবারে ১৯৪১ সালের জাপানি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।
ধ্বংসস্তূপের বিষাক্ত ধুলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি
৯/১১-এর ক্ষতি শুধু সেদিনের প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ধুলো, ধ্বংসাবশেষ ও বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে আসেন হাজার হাজার মানুষ।
গ্রাউন্ড জিরোতে উদ্ধার, পরিষ্কার ও পুনর্গঠনের কাজে অংশ নেওয়া অনেক ফার্স্ট রেসপন্ডার ও স্থানীয় বাসিন্দা পরবর্তী বছরগুলোতে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ, ক্যানসারসহ দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হন।
অর্থাৎ ৯/১১-এর মানবিক ক্ষতির হিসাব শুধু ২০০১ সালের নিহতদের সংখ্যা দিয়ে শেষ করা যায় না। পরবর্তী দুই দশকেও এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব বহু মানুষের জীবনে রয়ে গেছে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ছিল বড় ফাঁক?
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও বক্স কাটার ব্যবহার করে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সে সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, যাত্রী ও লাগেজ স্ক্রিনিং এবং ককপিটের নিরাপত্তা আজকের তুলনায় অনেক দুর্বল ছিল।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানেও ছিল বড় ধরনের ঘাটতি। ৯/১১ কমিশনের তদন্তে উঠে আসে, হামলার আগে থাকা বিভিন্ন সতর্কতামূলক তথ্য যথাযথভাবে একত্র করে কাজে লাগানো যায়নি।
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র বিমানবন্দর নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনে।
নেপথ্যে আল-কায়েদা
৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিল জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা। সংগঠনটির উত্থান ঘটে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়।
পরবর্তী সময়ে আল-কায়েদা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে হামলার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, বিমান চালনার প্রশিক্ষণ এবং লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পর ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অভিযানটি বাস্তবায়ন করা হয়।
হামলার পেছনে আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেন এবং তাঁর সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
৯/১১-এর পর মুসলিমদের জন্য অন্ধকার অধ্যায়
হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর সামাজিক চাপ ও বৈষম্য দ্রুত বাড়তে থাকে। মসজিদে হামলা, ভাঙচুর, হুমকি, হয়রানি এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধের ঘটনা সামনে আসে।
এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০ সালের তুলনায় ২০০১ সালে মুসলিমদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট হওয়া ঘৃণাজনিত অপরাধ ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।
তবে ৯/১১-এর পরপরই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ মুসলিমবিরোধী প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। হামলার কয়েক দিন পর ওয়াশিংটনের ইসলামিক সেন্টারে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসকে ইসলাম বা মুসলিমদের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
কিন্তু বাস্তবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামাজিক সন্দেহ ও বৈষম্যের প্রবণতা বহু বছর ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে অব্যাহত থাকে।
ইসলামভীতি কীভাবে রাজনীতির অংশ হয়ে উঠল?
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইসলামভীতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিতর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নির্বাচনী মৌসুমে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীকে ঘিরে নিরাপত্তা, অভিবাসন ও সন্ত্রাসবাদের আলোচনা আরও তীব্র হয়।
বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ও তাঁর জন্মস্থান ও ধর্ম নিয়ে ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। তাঁকে গোপনে মুসলিম হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়, যদিও ওবামা খ্রিষ্টান ছিলেন।
২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারেও মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ব্যাপক আলোচনায় আসে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেন এবং পরে তাঁর প্রশাসন কয়েকটি মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সংশোধিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার একটি সংস্করণ বহাল রাখে। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন।
প্রতিকূলতার মধ্যেও মুসলিমদের রাজনৈতিক উত্থান
বৈষম্য ও ইসলামভীতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব বাড়তে থাকে।
২০০৬ সালে কিথ এলিসন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য হন। পরে ২০১৮ সালে ইলহান ওমর ও রশিদা তালিব প্রথম দুই মুসলিম নারী হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হন।
এর মাধ্যমে মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যাও গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে মসজিদ ও মুসলিম কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানও বৃদ্ধি পেয়েছে।
‘ইসরায়েলি গোয়েন্দারা আগে থেকেই জানত’—দাবিটির সত্যতা কী?
৯/১১ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও দাবি প্রচলিত রয়েছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় এমন একটি দাবি আবারও সামনে এসেছে যে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা নাকি হামলার বিষয়ে আগে থেকেই জানত।
মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন এ ধরনের দাবি প্রকাশ্যে তুলেছেন। পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠানে এবং একটি প্রামাণ্যচিত্রধর্মী সিরিজে তিনি কথিত ‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’ এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আনেন।
কার্লসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়া কিছু ইসরায়েলি নাগরিক হামলার আগে সন্দেহজনকভাবে বিভিন্ন স্থাপনায় ঘোরাফেরা করছিলেন এবং তাঁদের কারও কারও কাছে হামলার বিষয়ে আগাম ধারণা থাকতে পারে।
তবে এগুলো কার্লসনের উত্থাপিত দাবি ও অভিযোগ—৯/১১ হামলার সরকারি তদন্তে এগুলোকে হামলার পরিকল্পনা বা ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের আগাম জ্ঞানের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। তাই বিষয়টিকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে নয়, বরং বিতর্কিত দাবি হিসেবে দেখা জরুরি।
‘ওয়ার অন টেরর’ ও বিশ্বজুড়ে পরিবর্তন
৯/১১-এর পর প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধের ঘোষণা দেন।
২০০১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। তালেবান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও যুদ্ধ প্রায় দুই দশক ধরে চলে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পর তালেবান আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে।
এরপর ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। ৯/১১-এর পর মার্কিন সরকার প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইন ও নীতির মাধ্যমে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের ক্ষমতা বাড়ায়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশও সীমান্ত নিরাপত্তা, বিমানবন্দর স্ক্রিনিং এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর করে।
অর্থনীতিতেও ভয়াবহ আঘাত
৯/১১-এর আর্থিক ক্ষতিও ছিল বিশাল। হামলার পর নিউইয়র্কের অর্থনীতি, বিমান চলাচল, পর্যটন, বীমা ও আর্থিক খাতে ব্যাপক ধাক্কা লাগে।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান হারানোর ফলে নিউইয়র্ক শহরকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
গ্রাউন্ড জিরো পরিষ্কার করতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গঠন করা হয় বিশেষ তহবিল।
ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু
প্রায় এক দশক ধরে আত্মগোপনে থাকার পর ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন নেভি সিলের বিশেষ অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ছিল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের একটি বড় প্রতীকী সাফল্য। তবে বিন লাদেনের মৃত্যুর পরও বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
৯/১১ কী শিক্ষা রেখে গেল?
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও সেই হামলার প্রভাব শেষ হয়নি। কয়েক ঘণ্টার একটি সন্ত্রাসী অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিমান চলাচল, গোয়েন্দা ব্যবস্থা এবং মুসলিমদের সামাজিক অবস্থান—সবকিছুকে বদলে দেয়।
এই হামলা দেখিয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থায় সামান্য ফাঁকও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে ৯/১১-এর পর নেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে কতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, আর কোথায় গিয়ে নাগরিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
৯/১১-এর ইতিহাস তাই শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়। এটি একই সঙ্গে শোক, নিরাপত্তা, যুদ্ধ, রাজনীতি, ইসলামভীতি, অভিবাসন, নাগরিক অধিকার এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাওয়ার ইতিহাস।
২৫ বছর পরও সেই সকাল ফিরে আসে একটি প্রশ্ন নিয়ে—৯/১১ শুধু কীভাবে ঘটেছিল, তা নয়; বরং এর পর বিশ্ব যে পথে হাঁটল, সেই পথ আমাদের কোথায় নিয়ে গেছে?















