Image

গ্রিজমান-লেভানডফস্কি-কাসেমিরোদের ঢলে বদলে যাচ্ছে এমএলএস

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 4 ঘন্টা আগেআপডেট: 3 ঘন্টা আগে
গ্রিজমান-লেভানডফস্কি-কাসেমিরোদের ঢলে বদলে যাচ্ছে এমএলএস

গ্রিজমান-লেভানডফস্কি-কাসেমিরোদের ঢলে বদলে যাচ্ছে এমএলএস

গ্রিজমান-লেভানডফস্কি-কাসেমিরোদের ঢলে বদলে যাচ্ছে এমএলএস

লিওনেল মেসির আগমনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) জনপ্রিয়তা যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা এখন আর নতুন কোনো খবর নয়। তবে এবারের দলবদলে যুক্তরাষ্ট্রের এই লিগে ইউরোপের তারকাদের যে হারে আগমন ঘটছে, তা সত্যিই নজরকাড়া। দলবদলের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হতে এখনও কয়েক সপ্তাহ বাকি, এরই মধ্যে এমএলএসে যোগ দিয়েছেন আঁতোয়ান গ্রিজমান, রবার্ট লেভানডফস্কি, আলেক্সিস সানচেজ ও কাসেমিরোর মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলাররা।

শুধু তারকার সংখ্যাই নয়, তাঁদের অর্জনের তালিকাও এবারের দলবদলকে আলাদা করে তুলেছে। বিশ্বকাপজয়ী, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ী, কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং একাধিকবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ফুটবলার—সব মিলিয়ে এমএলএসে যেন ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতার বড় সমাবেশ ঘটেছে।

গ্রিজমান-লেভানডফস্কির আগমন

১৩ জুলাই অরল্যান্ডো সিটিতে যোগ দেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকা আঁতোয়ান গ্রিজমান। ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় হওয়া এই ফরোয়ার্ড নতুন ক্লাবে শুরুটাও করেছেন দারুণভাবে। সান হোসে আর্থকোয়েকসের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে গোল করে ক্লাব ফুটবলে নিজের ৩০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

এর কিছুদিন আগেই এমএলএসে পা রাখেন পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি। জুনের শেষ দিকে বার্সেলোনা ছেড়ে ৩৭ বছর বয়সে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেন তিনি। নতুন ক্লাবের তৃতীয় ম্যাচেই শার্লটের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন এই গোলমেশিন।

ইউরোপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিয়মিতই মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ বা তারও বেশি গোল করেছেন লেভানডফস্কি। ২০১৯-২০ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের ঐতিহাসিক ছয় শিরোপা জয়ের পথে করেছিলেন ৫৫ গোল। করোনা মহামারির কারণে সে বছর ব্যালন ডি’অর বাতিল না হলে পুরস্কারটির অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন তিনি। বার্সেলোনায় শেষের আগের মৌসুমেও তাঁর গোলসংখ্যা ছিল ৪২, আর সর্বশেষ মৌসুম শেষ করেছেন ১৯ গোল নিয়ে।

সানচেজ ও কাসেমিরোও তালিকায়

এবারের এমএলএস দলবদলে বড় নাম হিসেবে যোগ দিয়েছেন চিলির তারকা আলেক্সিস সানচেজও। বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইন্টার মিলানের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলা এই ফরোয়ার্ড দুই বছরের চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন মন্ট্রিয়লে।

তবে তারকাখচিত তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি নিঃসন্দেহে কাসেমিরো। রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ নয় বছরের ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় ক্লাব শিরোপাই জেতা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার এবার যোগ দিয়েছেন ইন্টার মায়ামিতে—যেখানে তিনি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন লিওনেল মেসিকে।

ব্রাজিলের জাতীয় দলেও কাসেমিরোর অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১১ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৯১ ম্যাচ। এবারের বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি এবং জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে একটি গোলও করেছেন। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তাঁর বর্তমান চুক্তি আগামী মৌসুমের শেষ পর্যন্ত।

আরও কয়েকজন ইউরোপীয় তারকা

এবারের দলবদলে এমএলএসের দল লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সিতে যোগ দিয়েছেন মেসির সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ সার্জি রবার্তো। অন্যদিকে কলম্বাস ক্রুতে নাম লিখিয়েছেন সাবেক ভিয়ারিয়াল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ডিফেন্ডার এরিক বেইলি।

সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের পরিচিত মুখে এবার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লিগটি।

এমএলএসের ইতিহাসে সেরা দলবদল?

এবারের তারকাদের তালিকা দেখে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটাই কি এমএলএসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দলবদল?

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের এই লিগে একসঙ্গে একাধিক বিশ্বতারকার আগমন ঘটেছে। ২০১৫ সালে আন্দ্রে পিরলো, ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড, স্টিভেন জেরার্ড, কাকা ও দিদিয়ের দ্রগবার মতো তারকারা এমএলএসে পা রেখেছিলেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তারকার আগমন অব্যাহত রয়েছে। গত বছর বায়ার্ন মিউনিখের জার্মান কিংবদন্তি টমাস মুলার যোগ দেন ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসে। একই সময়ে রেকর্ড ২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের চুক্তিতে টটেনহাম ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে যোগ দেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন। এর আগে মিনেসোটা ইউনাইটেডে নাম লিখিয়েছিলেন কলম্বিয়ার তারকা হামেস রদ্রিগেজও।

তবে এমএলএসের বৈশ্বিক পরিচিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ২০২৩ সালে। লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর লিগটির প্রতি বিশ্বজুড়ে আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যায়। মেসির সঙ্গে ক্লাবে যোগ দেন তাঁর সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ সার্জিও বুসকেতস ও জর্দি আলবা। তাঁদের হাত ধরেই ইন্টার মায়ামি জেতে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম শিরোপা।

আরও চমক কি অপেক্ষা করছে?

চলমান দলবদলের জানালা বন্ধ হওয়ার আগে এমএলএসে আরও কোনো ইউরোপীয় তারকা যোগ দেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল। গ্রিজমান, লেভানডফস্কি, সানচেজ ও কাসেমিরোর মতো তারকাদের আগমনে এবারের দলবদল ইতিমধ্যেই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত হয়ে উঠেছে।

মেসির হাত ধরে যে পরিবর্তনের শুরু হয়েছিল, এবার ইউরোপের একের পর এক তারকার আগমনে এমএলএস যেন সেই পরিবর্তনকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার পথে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three