নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই
- 1
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেডকে হারাল সিটি, ১০ জনের দল হয়েও হলান্ডের গোলে জয়
- 2
পাসপোর্টের গল্প মিথ্যা, এজবাস্টনে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর ঝড়
- 3
মেসির দুর্দান্ত গোলেও জয়হীন মায়ামি, ন্যাশভিলের সঙ্গে ২–২ ড্র
- 4
মা হলেন লেডি গাগা, মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তান
- 5
অ্যানফিল্ডে আবারও হতাশ লিভারপুল, ঘরের মাঠেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে জয়ের ধার

নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই
নাকভির হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ার কারণ জানাল বিসিসিআই
টানা দুই বছর এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি গ্রহণ করেনি ভারত। গত সেপ্টেম্বরে পুরুষ দল এবং এবার নারী দল—দুই ক্ষেত্রেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে দেখা যায়নি ভারতীয় দলকে।
দুই ঘটনার পেছনে একই কারণ—নাকভিকে এড়িয়ে চলা। তবে কেন তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে রাজি নয় ভারত, এবার তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালালে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে ক্রিকেটেও।
বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অবস্থান নেয় ভারত। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সূর্যকুমার যাদবের দলও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি। এবার নারী দলও একই পথ অনুসরণ করেছে।
নাকভির কাছ থেকে ট্রফি কেন নয়?
ফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, পেহেলগামের ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। সেই সঙ্গে নাকভির ভূমিকার কারণেও তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত।
সাইকিয়ার ভাষায়, পেহেলগাম হামলার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা এবং তাদের বিপক্ষে ক্রিকেট খেলা নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়। তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে ভারত সরকারের নীতি ভিন্ন।
তিনি বলেন, বহুজাতিক প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে—সরকারের এই নীতিই অনুসরণ করছে বিসিসিআই। সে কারণেই পাকিস্তানের বিপক্ষেও ম্যাচ খেলছে ভারত।
তবে পাকিস্তানের সঙ্গে মাঠে নামার অর্থ এই নয় যে তাদের সবকিছু মেনে নিতে হবে—এমনটাই মনে করেন সাইকিয়া।
‘আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না’
বিসিসিআই সচিব বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল, ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁর দাবি, নাকভি এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যিনি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।
তাই বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেললেও তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া।
রয়্যাল বক্সে পাশাপাশি বসা নিয়েও ব্যাখ্যা
নারী এশিয়া কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ম্যাচ চলাকালে রয়্যাল বক্সে ছিলেন দেবজিৎ সাইকিয়া। সেখানে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গে তাঁকে নাকভির কাছাকাছিও দেখা যায়।
তাহলে ট্রফি না নিলেও একই বক্সে পাশাপাশি বসতে আপত্তি কোথায়?
এ প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাইকিয়া। তাঁর মতে, কারও সঙ্গে দেখা করা বা কথা বলার বিষয়টি আলাদা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি রয়্যাল বক্সেই ছিলেন। সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি এসেছেন এবং সবার সঙ্গেই তিনি স্বাভাবিকভাবে দেখা করেছেন ও কথা বলেছেন।
নাকভিও রয়্যাল বক্সে এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। সাইকিয়ার দাবি, এটি ছিল স্বাভাবিক আনুষ্ঠানিকতা।
ট্রফি নিয়ে ‘কোনো আক্ষেপ নেই’ বিসিসিআইয়ের
চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার জন্য নাকভির পরিবর্তে এসিসির সহসভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিসিআই। কিন্তু নাকভি তাতে সম্মতি দেননি।
তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি বিতর্কে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। তাঁর বক্তব্য, বিসিসিআইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রফি কে তুলে দেবে সেটি নয়; বরং ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জিতে শিরোপা নিশ্চিত করতে পারে।
সেই লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টম শিরোপা
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত।
তবে মাঠের এই বড় সাফল্যের পাশাপাশি ম্যাচ শেষে ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানেও ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার ঘটনায় সেই বিতর্কই আবারও সামনে এসেছে।











