যুবরাজের সেই ছয় ছক্কা, ১৯ বছর পরও যে রেকর্ডের গল্প ফুরোয়নি
- 1
রোনালদোকে রেখেই নেশনস লিগের দল ঘোষণা পর্তুগালের
- 2
মোদির ৭৬তম জন্মদিনে তারকাদের শুভেচ্ছা, শাহরুখ-সালমান থেকে মহেশ-মোহনলাল
- 3
হালান্ডের বিতর্কিত গোলের আলোচনা নিয়ে বিরক্ত মারেস্কা, ‘সিটির পারফরম্যান্সও দেখা উচিত’
- 4
স্পেন ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা ইংল্যান্ডের, চোটে ছিটকে গেলেন জন স্টোনস
- 5
জিদানের প্রথম ফ্রান্স দলে পাঁচ নতুন মুখ, লিভারপুলের জেকে আলোচনায়

যুবরাজের সেই ছয় ছক্কা, ১৯ বছর পরও যে রেকর্ডের গল্প ফুরোয়নি
যুবরাজের সেই ছয় ছক্কা, ১৯ বছর পরও যে রেকর্ডের গল্প ফুরোয়নি
প্রথম বল মিড উইকেটের ওপর দিয়ে। পরেরটি ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগ দিয়ে। তৃতীয় ছক্কা এক্সট্রা কাভার দিয়ে। চতুর্থটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ ছক্কা যথাক্রমে মিড উইকেট ও মিড অন দিয়ে।
১৯ বছর আগে ঠিক এই দিনেই ডারবানের কিংসমিডে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে লেখা হয়েছিল এমন এক অধ্যায়, যার রেশ এখনো রয়ে গেছে। ইংল্যান্ডের তরুণ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডকে এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের যুবরাজ সিং।
সেই ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে ১৯ বছর। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আরও পাঁচজন ব্যাটসম্যান এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরে যুবরাজের পাশে বসেছেন। ক্রিকেটের অভিজাত তারকাদের তালিকায় তাঁদের সবাই হয়তো যুবরাজের মতো পরিচিত নন, কিন্তু রেকর্ড বইয়ে ছয় ছক্কার সেই সিংহাসনে তাঁরা সবাই সমান।
যুবরাজের আগে আরও দুজন
২০০৭ সালে যুবরাজ যখন ইতিহাস গড়েন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট তখনো শৈশব পেরোচ্ছে। গত ১৯ বছরে ক্রিকেটের ব্যাটিং দর্শন বদলে গেছে অনেকটাই। ব্যাটসম্যানরা এখন ঝুঁকি নিতে আরও বেশি প্রস্তুত, বদলে গেছে শট নির্বাচনের ধরনও। ফলে এক ওভারে ছয় ছক্কার মতো ঘটনা একেবারে অসম্ভব কিছু নয়।
বরং যুবরাজের কীর্তির আগেই ক্রিকেটে এমন ঘটনা দেখা গেছে।
২০০৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হার্শেল গিবস।
আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরের ইতিহাস ঘাঁটলে আরও পুরোনো দুটি উদাহরণ পাওয়া যায়। ১৯৬৮ সালে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে খেলার সময় গ্ল্যামরগনের ম্যালকম ন্যাশের এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরেছিলেন স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স। ১৬ বছর পর রঞ্জি ট্রফিতে একই কীর্তি করেছিলেন মুম্বাইয়ের রবি শাস্ত্রী।
তাই টি-টোয়েন্টির মতো আক্রমণাত্মক সংস্করণে এমন ঘটনা ঘটাটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।
১৪ বছর একাই ছিলেন যুবরাজ
তবু যুবরাজের কীর্তির মাহাত্ম্য কমে না। বরং বিস্ময়টা অন্য জায়গায়—দীর্ঘ ১৪ বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে আর কেউ এক ওভারে ছয় ছক্কা মারতে পারেননি।
অবশেষে ২০২১ সালে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। শ্রীলঙ্কার স্পিনার আকিল ধনঞ্জয়ার এক ওভারেই ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে যুবরাজের পাশে বসেন তিনি।
এরপর অবশ্য তালিকাটি দ্রুতই বড় হয়েছে।
এরপর এলেন দীপেন্দ্র, ভিসার ও মানান
২০২৪ সালে কাতারের বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরে এই তালিকায় জায়গা করে নেন নেপালের দীপেন্দ্র সিং ঐরি। শুধু ছয় ছক্কার কীর্তিই নয়, ওই ম্যাচে মাত্র ৯ বলে ফিফটি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির দ্রুততম পঞ্চাশের রেকর্ডও গড়েছিলেন তিনি।
একই বছর সামোয়ার ড্যারিয়াস ভিসার ভানুয়াতুর বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা মারেন।
২০২৫ সালে জিব্রাল্টারের বিপক্ষে একই কীর্তি গড়েন বুলগেরিয়ার মানান বশির।
আর এই বিশেষ তালিকার সর্বশেষ সংযোজন নেপালের কুশল ভুর্তেল। চলতি বছর চীনের বিপক্ষে এক ওভারে ছয় ছক্কা মেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখান তিনি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ওভারে ছয় ছক্কার এই তালিকায় নেপালেরই দুজন ব্যাটসম্যান রয়েছেন—দীপেন্দ্র সিং ঐরি ও কুশল ভুর্তেল।
সেই রাতের নেপথ্যে ছিলেন ফ্লিনটফ-মাসকারেনহাস
তবে যুবরাজের ছয় ছক্কার গল্প বলতে গেলে ফিরে যেতে হয় সেই ম্যাচের কয়েকটি ঘটনার দিকে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে একটি ওয়ানডে ম্যাচে যুবরাজের করা এক ওভারে টানা পাঁচটি ছক্কা মেরেছিলেন ইংল্যান্ডের ডিমিত্রি মাসকারেনহাস। সেই ঘটনার ক্ষত হয়তো যুবরাজের মনে ছিলই।
ডারবানের সেই ম্যাচে আবার যুবরাজের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ। ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এরপর বল হাতে স্টুয়ার্ট ব্রড।
আর ব্রডের করা সেই ওভারটিই পরিণত হয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ওভারে। ছয় বলে ছয় ছক্কা মেরে যুবরাজ শুধু ম্যাচের আলো নিজের দিকে টানেননি, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসেও স্থায়ীভাবে নিজের নাম লিখে ফেলেন।
তবে সেই ছয় ছক্কার সবচেয়ে কষ্টের সাক্ষী ছিলেন আরেকজন—ব্রডের বাবা ক্রিস ব্রড। ম্যাচের দিন ম্যাচ রেফারি হিসেবে মাঠে থাকা ক্রিসকে নিজের চোখের সামনে ছেলের প্রতিটি বল গ্যালারিতে গিয়ে পড়তে দেখতে হয়েছিল।
একজন বাবা হিসেবে সেই মুহূর্তের অনুভূতি কেমন ছিল, তা হয়তো ক্রিস ব্রডের চেয়ে ভালো আর কেউই বুঝতে পারবেন না।













