নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে খুলে যায় পরিবারের অন্ধকার রহস্য, কেমন হলো নেটফ্লিক্সের ‘Run Away’?
- 1
‘বিগ বস বাংলা ৩’: বিতর্কের শীর্ষে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত
- 2
এক মুহূর্তেই শেষ মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট
- 3
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান মাঠেও, মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার বাংলাদেশের
- 4
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন ব্রাজিলের পরীক্ষা আজ, অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি আনচেলত্তির দল
- 5
৯২ মিনিটে হাকপোর গোল, জার্মানির বিপক্ষে হার এড়াল নেদারল্যান্ডস

নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে খুলে যায় পরিবারের অন্ধকার রহস্য, কেমন হলো নেটফ্লিক্সের ‘Run Away’?
নিখোঁজ মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে খুলে যায় পরিবারের অন্ধকার রহস্য, কেমন হলো নেটফ্লিক্সের ‘Run Away’?
বাইরে থেকে দেখলে পরিবারটি যেন নিখুঁত—সুখী দাম্পত্য, তিন সন্তান, সুন্দর বাড়ি, ভালো চাকরি। কিন্তু সেই সাজানো জীবনের আড়ালে লুকিয়ে আছে একের পর এক গোপন সত্য। আর বড় মেয়ে পেইজ গ্রিনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সেই গোপন দরজাগুলোই খুলে দেয়।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া ব্রিটিশ লিমিটেড সিরিজ ‘Run Away’ ঠিক এমনই এক রহস্যময় গল্প নিয়ে তৈরি। হরলান কোবেনের ২০১৯ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত আট পর্বের এই সিরিজে একজন বাবার মেয়েকে খুঁজে ফেরার গল্প ধীরে ধীরে রূপ নেয় খুন, নিখোঁজ মানুষ, মাদক, পারিবারিক গোপনীয়তা ও অতীতের অন্ধকার রহস্যের জটিল এক অনুসন্ধানে।
গল্পটা কী নিয়ে?
সাইমন গ্রিনের জীবন ছিল বেশ গোছানো। স্ত্রী ইনগ্রিড, তিন সন্তান, ভালো চাকরি—সব মিলিয়ে সুখী পরিবারের চেনা ছবি। কিন্তু বড় মেয়ে পেইজ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেই ছবিতে ফাটল ধরে।
মাদকাসক্ত হয়ে পড়া পেইজের খোঁজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত একটি শহরের পার্কে তাকে খুঁজে পান সাইমন। মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সুযোগ এসেছে ভেবে তিনি এগিয়ে যান। কিন্তু পেইজ তখন একা নয়। তার সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে সাইমনের তর্ক দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। এরপর ঘটে যায় খুনের ঘটনা। আর সাইমন আবারও মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন।
এরপর মেয়েকে খুঁজে বের করার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেন সাইমন। কিন্তু অনুসন্ধান যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন সব সত্য, যা তাঁর পরিবার সম্পর্কে আগের ধারণাকেই বদলে দেয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন খুনের ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে সাইমনের ওপর। মেয়েকে খোঁজার পাশাপাশি তখন তাঁকে নিজের নির্দোষিতাও প্রমাণ করতে হয়।
অন্যদিকে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা এলেনা রেভেনসক্রফটও একজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজছেন। সাইমনের অনুসন্ধানের সঙ্গে তাঁর তদন্তের যোগসূত্র তৈরি হলে গল্পটি আরও বড় রহস্যের দিকে এগিয়ে যায়।
কারা অভিনয় করেছেন?
সাইমন গ্রিনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেমস নেসবিট। উদ্বিগ্ন বাবার ভূমিকায় তাঁকে দেখা যায়—যিনি মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে নিজের পরিবার এবং অতীতের অস্বস্তিকর সত্যের মুখোমুখি হন।
মিনি ড্রাইভার অভিনয় করেছেন সাইমনের স্ত্রী ইনগ্রিডের চরিত্রে। শুরুতে তিনি পরিবারের স্থিতিশীলতার প্রতীক মনে হলেও গল্প যত এগোয়, তাঁর চরিত্র নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়।
ব্যক্তিগত গোয়েন্দা এলেনা রেভেনসক্রফট চরিত্রে রয়েছেন রুথ জোন্স। আর গোয়েন্দা আইজ্যাক ফ্যাগবেনলের চরিত্রে আলফ্রেড এনক। আইজ্যাক ও গোয়েন্দা রুবি টড—যাঁর চরিত্রে অ্যামি গ্লেডহিল—সাইমনের ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন।
এ ছাড়া কর্নেলিয়াস ফ্যাবারের চরিত্রে লুসিয়ান এমসামাতি এবং পেইজের চরিত্রে এলি ডি ল্যাং অভিনয় করেছেন।
সিরিজটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—শুধু মূল চরিত্র নয়, প্রায় প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের জীবনেই কোনো না কোনো গোপন তথ্য রয়েছে। ফলে দর্শক সহজে কাউকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না।
জেমস নেসবিটের অভিনয়
‘Run Away’-এর অন্যতম বড় শক্তি জেমস নেসবিট। মেয়েকে খুঁজতে থাকা একজন বাবার অসহায়ত্ব, উদ্বেগ, রাগ এবং অপরাধবোধ—সবকিছুই তাঁর অভিনয়ে ফুটে ওঠে।
নেসবিটের চরিত্রকে কোনো অতিমানবীয় নায়ক হিসেবে দেখানো হয়নি। তিনি একজন সাধারণ বাবা, যিনি মেয়েকে ফিরে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। আর সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে ক্রমশ আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যায়।
রটেন টমেটোজের সমালোচক সারাংশেও নেসবিটের অভিনয় এবং দ্রুতগতির গল্পকে সিরিজটির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে প্রথম সিজনের Tomatometer স্কোর ৮৩ শতাংশ, ২৯টি সমালোচনার ভিত্তিতে।
হরলান কোবেনের পরিচিত গল্প বলার ধরন
‘Run Away’-এর গল্পে হরলান কোবেনের পরিচিত থ্রিলার-ফর্মুলার ছাপ স্পষ্ট। একটি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকট দিয়ে শুরু হয় গল্প, এরপর সেই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে অতীতের গোপন ঘটনা, নিখোঁজ মানুষ এবং অপরাধ।
এখানেও প্রথম প্রশ্ন—পেইজ কোথায়?
এরপর প্রশ্ন বদলে যায়—
পেইজ কেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল? তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি কে? খুনের ঘটনার সঙ্গে পেইজের সম্পর্ক কী? সাইমনের পরিবারে আসলে কী লুকিয়ে আছে? আর এলেনা যে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজছেন, সেই ঘটনা সাইমনের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত?
একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়, আর তার সঙ্গে জন্ম নেয় আরও কয়েকটি প্রশ্ন।
কোবেন নিজেও বলেছেন, সিরিজটির কেন্দ্রে আসলে পরিবার—পরিবারকে ধরে রাখতে মানুষ কী করতে পারে এবং পরিবারের সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে কী কী গোপন রাখে, সেটিই গল্পের অন্যতম মূল বিষয়।

আট পর্বে রহস্যের বিস্তার
সিরিজটি মোট আট পর্বের। প্রথম পর্বেই সাইমনের মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সহিংসতায় রূপ নেয় এবং পাশাপাশি এলেনার নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজার গল্প শুরু হয়।
পরের পর্বগুলোতে দুই তদন্ত ধীরে ধীরে কাছাকাছি আসে। পরিবারের সদস্যদের অতীত, পেইজের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন, নিখোঁজ ও খুনের ঘটনা এবং ‘Shining Truth’ নামের রহস্য—সব মিলিয়ে গল্পের পরিধি বাড়তে থাকে। শেষ পর্বে পুলিশ যখন ‘Shining Haven’-এর দিকে এগোয়, তখন অনেক গোপন সত্য সামনে আসতে শুরু করে।
দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মোটের ওপর ইতিবাচক হলেও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে মিশ্র। রটেন টমেটোজে সমালোচকদের স্কোর ৮৩ শতাংশ হলেও দর্শক-স্কোর ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ গল্পের গতি, অভিনয় ও টুইস্ট অনেক সমালোচকের প্রশংসা পেলেও দর্শকদের সবাই একইভাবে সন্তুষ্ট হননি।
নেটফ্লিক্সও সিরিজটিকে একটি ডার্ক, ইমোশনাল, মিস্ট্রি ও ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
কেন দেখতে পারেন ‘Run Away’?
‘Run Away’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ শুধু খুনের রহস্য নয়। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে একটি পরিবার এবং সেই পরিবারের সদস্যদের গোপন জীবন।
একজন বাবা মেয়েকে ফিরে পেতে চান। একজন মা নিজের অজানা অতীতের ভার বহন করছেন। সন্তানদেরও রয়েছে নিজেদের গোপনীয়তা। আর পরিবারের বাইরের মানুষগুলোর জীবনও কোনো না কোনোভাবে সেই রহস্যের সঙ্গে যুক্ত।
তাই সিরিজটির প্রশ্ন শুধু ‘খুনি কে?’—এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন ওঠে, একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে কতটা সত্য লুকানো যায়? আর সেই সত্য একদিন প্রকাশ্যে এলে সম্পর্কগুলো কতটা টিকে থাকবে?
হরলান কোবেনের দ্রুতগতির রহস্য, একের পর এক টুইস্ট এবং জেমস নেসবিটের আবেগনির্ভর অভিনয়—এই তিনটি বিষয় ‘Run Away’-কে আট পর্বের একটি টানটান পারিবারিক ক্রাইম থ্রিলারে পরিণত করেছে। তবে দর্শকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এটিও দেখায় যে গল্পের সব মোড় সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।















