Image

‘কিছু একটা ঘটেছিল’—বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের জবাব দিল এএফএ

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
‘কিছু একটা ঘটেছিল’—বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের জবাব দিল এএফএ

‘কিছু একটা ঘটেছিল’—বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের জবাব দিল এএফএ

‘কিছু একটা ঘটেছিল’—বিশ্বকাপ ফাইনালের ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের জবাব দিল এএফএ

গত মাসে নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পরপরই এমন কথা চাউর হয়ে গিয়েছিল। স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে হারের পর এই ফাইনাল নিয়ে কত রকম ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব যে বের হয়েছিল, তার হিসাব নেই! এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত গুজবটি আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে মানুষের সন্দেহসূচক মন্তব্য ছিল, ‘কিছু একটা ঘটেছিল!’

গতকাল ছিল সেই বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তি। এ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে। ভিডিওতে খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ‘কখনো হাল ছেড়ো না’ বার্তা দেওয়া হয়।

ভিডিওর নেপথ্য ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’

ফাইনালের পর ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব নিয়ে এএফএর অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’

ফাইনাল শেষে রানার্সআপ পদক নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্য দেখানো হয়। এরপর নেপথ্য ধারাভাষ্যকার ভিডিও শেষ করেন এভাবে, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’

বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দল নিয়ে ওঠা ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এএফএ সভাপতি। তিনি দাবি করেন, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের পর একটি জঘন্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যেন আর্জেন্টিনা দল ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছে।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তাপিয়া সেসব সংবাদমাধ্যম ও ব্যক্তিত্বের প্রতি আঙুল তোলেন, যাঁরা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতেও এসব ভিত্তিহীন তথ্য জিইয়ে রেখেছিলেন। তাপিয়া লেখেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, এক মাস পার হয়ে গেলেও কেউ ক্ষমা চায়নি। তাদের কেউ সামনে এসে বলেনি, “আমরা ভুল ছিলাম।” কারও মধ্যে সততা, মর্যাদা বা দায় নেওয়ার মতো সাহসটুকুও ছিল না।’

নিজের পোস্টে তাপিয়ার দাবি, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন বাইরের কিছু মানুষ ঠিক উল্টো কাজটাই করছিল। তারা ঘৃণা ছড়াচ্ছিল, বিভাজন তৈরি করছিল, কালিমা লেপন করছিল। কোটি মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা একটি জাতীয় দলের ভাবমূর্তি ধ্বংস করার চেষ্টা করছিল তারা।’

এএফএ সভাপতি আরও বলেন, ‘চুপ করে থাকাটা সমাধান নয়। সময় বয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করাও যথেষ্ট নয়। বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে এমন ভান করাও চলবে না যেন কিছুই বলা হয়নি।’

একই সঙ্গে তাপিয়া সতর্ক করে দেন যে এসব অভিযোগের অবশ্যই পরিণতি রয়েছে। বার্তায় তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশদ্রোহী বলার পর আর পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।’ কোনো প্রমাণ ছাড়া যারা স্কোয়াডের দিকে আঙুল তুলেছিল, তাদের কাছে কৈফিয়তও দাবি করেন তাপিয়া।

বার্তার শেষ অংশে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ, সহায়ক কর্মী, খেলোয়াড়সহ পুরো দলের প্রতি জোরালো সমর্থন জানান তাপিয়া, ‘যাঁরা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন, তাঁদের কাউকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না। ব্যাখ্যা দিতে হবে তাঁদের, যাঁরা মিথ্যা বলেছেন।’

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three