জেন-জি মানসিকতায় মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, নাহিদকে না পেয়ে হতাশা

জেন-জি মানসিকতায় মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, নাহিদকে না পেয়ে হতাশা
জেন-জি মানসিকতায় মানিয়ে নিচ্ছেন সালাহউদ্দিন, নাহিদকে না পেয়ে হতাশা
ক্রিকেটের নানা স্তরে দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তবে বাংলাদেশ দলের হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করছেন, সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের চিন্তাভাবনা ও আচরণ বোঝা। তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও মোবাইলনির্ভর পরিবেশে বেড়ে ওঠা তরুণদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলেই তাদের ভেতরের সেরাটা বের করে আনা সম্ভব।
জাতীয় দলের দায়িত্বের পাশাপাশি বর্তমানে বিসিবির এইচপি কার্যক্রমও তদারকি করছেন সালাহউদ্দিন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি জানান, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মানসিকতা আগের চেয়ে অনেক আলাদা। তারা ডিজিটাল যুগে বেড়ে উঠেছে, তাই কোচদেরও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন ও কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় কার্যকর কোচিং পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
জাতীয় দল, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করলেও এইচপির পরিবেশকে তিনি ভিন্ন বলে মনে করছেন। এখানকার বেশিরভাগ খেলোয়াড় এখনও ক্যারিয়ারের শুরুতে, তাই তাদের সঙ্গে আস্থা ও সম্পর্ক তৈরি করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন এই অভিজ্ঞ কোচ। তার ধারণা, তরুণরা শুরুতে হয়তো তাকে দেখে কিছুটা সংকোচ বোধ করতে পারে, কিন্তু সেই দূরত্ব কমিয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করাই তার লক্ষ্য, যেখানে খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারবে।
এইচপি ইউনিটে বেশি সময় দিলেও জাতীয় দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এখনও বজায় রয়েছে। ২০২৭ সালের আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ সালাহউদ্দিন মনে করেন, কোচিংই তার সবচেয়ে বড় ভালো লাগার জায়গা। তিনি বলেন, মাঠে থেকে খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করা, শেখানো এবং তাদের উন্নতি দেখতে পাওয়াই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। বড় তারকা তৈরি করাই একমাত্র লক্ষ্য নয়; বরং যেকোনো বয়সের ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করাকে তিনি সমানভাবে উপভোগ করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করেন, নিজের প্রজন্মের পরের তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও তার রয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন সালাহউদ্দিন। প্রথমে তার চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত, পরে তা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত করা হয়।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়েও নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন তিনি। চোটের কারণে পেসার নাহিদ রানা দলে না থাকায় তিনি হতাশ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বিপক্ষে রানার গতি ও আক্রমণাত্মক বাউন্সার দেখতে মুখিয়ে ছিলেন তিনি। তার মতে, এতে ম্যাচে ভিন্ন মাত্রার উত্তেজনা যোগ হতো। তবে এখন আফসোস করে লাভ নেই বলেই মনে করেন তিনি। সালাহউদ্দিনের বিশ্বাস, দলে থাকা অন্য পেসাররা যদি পরিকল্পনা মেনে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করতে পারে, তাহলে তারাও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকেতে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে থাকলেও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েই সিরিজে নামবে বাংলাদেশ।














