ম্যাকাই টেস্টে চার পেসার নাকি স্পিনেই আস্থা? একাদশ নিয়ে ভাবনায় বাংলাদেশ

ম্যাকাই টেস্টে চার পেসার নাকি স্পিনেই আস্থা? একাদশ নিয়ে ভাবনায় বাংলাদেশ
ম্যাকাই টেস্টে চার পেসার নাকি স্পিনেই আস্থা? একাদশ নিয়ে ভাবনায় বাংলাদেশ
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও একই একাদশ ধরে রাখার প্রত্যাশাই ছিল স্বাভাবিক। তবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনার উইকেট ও কন্ডিশন সেই ভাবনায় কিছুটা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পেসবান্ধব কন্ডিশনের কারণে বাংলাদেশ চার পেসার নিয়ে মাঠে নামবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য আগেই জানিয়েছেন, খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে তিনি জয়ের সমন্বয় ভাঙতে চান না। তারপরও অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে একাদশ পরিবর্তনের প্রসঙ্গ।
ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন ডারউইনের চেয়েও বেশি পেস সহায়ক হতে পারে। তাই তিন পেসারের সঙ্গে আরও একজন পেসার যোগ করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে শরীফুল ইসলামের নাম।
আজকের অনুশীলনও সেই সম্ভাবনাকে কিছুটা উসকে দিয়েছে। বোলিংয়ের পাশাপাশি শরীফুলকে দীর্ঘ সময় নেটে ব্যাটিং করতে দেখা গেছে। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেলএন্ডারদের ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে শরীফুলেরও ব্যাটিং অনুশীলনে বাড়তি সময় কাটানো তাই তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আজ নেটে ব্যাটিং করেননি।
তবে একাদশ নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে চাননি নাজমুল। তাঁর হাতে সম্ভাব্য সব বিকল্পই খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিনায়ক। প্রয়োজনে চার নয়, খালেদ আহমেদকে নিয়ে পাঁচ পেসার খেলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি। অর্থাৎ, দলের সব পেসারই খেলার জন্য প্রস্তুত।
তবে স্পিনারদের ওপরও পূর্ণ আস্থা রয়েছে নাজমুলের। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ যেকোনো কন্ডিশনেই কার্যকর হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে দুই স্পিনারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাইজুল-মিরাজের জায়গা ধরে রাখার সম্ভাবনাও যথেষ্ট।
শেষ পর্যন্ত ম্যাকাইয়ের উইকেট দেখে ম্যাচের আগমুহূর্তেই বোলিং আক্রমণ চূড়ান্ত করতে চান নাজমুল। একইভাবে অনিশ্চয়তা রয়েছে ওপেনার তানজিদ হাসানকে নিয়েও।
ঘাড়ের আড়ষ্টতার কারণে গতকাল নেটে ব্যাটিং করেননি তানজিদ। এক দিন বিশ্রামের পর আজ তাঁর স্ক্যান করা হয়। রিপোর্ট প্রকাশের আগেই অবশ্য মাঠে ফিরে নেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি এবং দৃশ্যত কোনো সমস্যা ছাড়াই অনুশীলন শেষ করেছেন।
তবুও তানজিদের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে চান না নাজমুল। ডারউইনে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরি করা এই ওপেনারকে নিয়ে অধিনায়ক বলেছেন, ‘আজকের দিনটা ইতিবাচক। তবে কাল সকাল পর্যন্ত আমরা আরেকটু দেখতে চাই। আশা করি সে ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের হাতে সব ধরনের অপশন আছে, তাই মনে হয় না খুব বেশি সমস্যা হবে।’
এদিকে আঙুলের চোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল মুশফিকুর রহিমকে ঘিরেও। গতকাল নেটে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পাওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। পরে আবার ব্যাটিংয়ে ফিরেছেন এবং আজও অনুশীলন করেছেন, যদিও তুলনামূলক কম সময়।
মুশফিককে নিয়ে আপাতত স্বস্তিতেই আছেন নাজমুল। তিনি বলেন, ‘মুশফিক ভাই এখন পর্যন্ত ঠিক আছে। তানজিদও আজ ব্যাটিং করেছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় কাল সকালে আমরা একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’
তানজিদ ও মুশফিক দুজনই ফিট থাকলে ব্যাটিং বিভাগে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তানজিদ শেষ পর্যন্ত খেলতে না পারলে তাঁর জায়গায় সৌম্য সরকারকে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে একজন পেসার বাড়ানো হলে অনুশীলনে কোচের কাছ থেকে বাড়তি নজর পাওয়া শরীফুল ইসলামই একাদশে ঢোকার সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে একাদশের বাইরে থাকতে পারেন তাইজুল ইসলাম।
তবে সব জল্পনার অবসান হবে ম্যাচের আগে। ম্যাকাইয়ের উইকেট ও কন্ডিশন পর্যবেক্ষণ করেই চূড়ান্ত একাদশ বেছে নেবে বাংলাদেশ। ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার লক্ষ্য সিরিজে এগিয়ে যাওয়া—আর সেই মিশনে একাদশের সমন্বয়ই হতে পারে সবচেয়ে বড় কৌশলগত সিদ্ধান্ত।














